জীবননগর অফিস: জীবননগরে পল্লী চিকিৎসক গ্রাম ডাক্তারদের মাস ব্যাপী রিফ্রেসার্স আরএমপি প্রশিক্ষনের কার্যক্রম শেষ হয়ে দীর্ঘ ২মাস পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত প্রশিক্ষনার্থীরা সার্র্টিফিকেট না পাওয়ায় হতাশ। সাটিফিকেটের জন্য প্রশিক্ষনার্থীরা অফিস গেলে তালা বদ্ধ পাই। মোবাইল ফোনে কল দিলে কর্তৃপক্ষ জানায় সার্টিফিকেটের জন্য ঢাকায় এসেছি, অপেক্ষা করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধান না পেয়ে হতাশ সবাই। জানা গেছে, মুক্তি নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সৌজন্য গত নভেম্বার মাসের ৬তারিখে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের হলরুমে মাস ব্যাপী পল্লী চিকিৎসক গ্রাম ডাক্তার রিফ্রেসার্স আরএমপি প্রশিক্ষন কোর্সে ভর্তির জন্য একটি লিপলেট শহরসহ গ্রামে বিলি করেন তাতে জীবননগর হাসপাতালের নামী দামী ডাক্তারদের মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয়ের উপরে চিকিৎসার উপরে প্রশিক্ষন দেওয়া হবে বলে তাতে লেখেন এবং প্রশিক্ষন শেষে চুয়াডাঙ্গা সিভিল সার্জন ও ইউএইচ এন্ড এফপিও এর যৌথ স্বাক্ষরে একটি সনদপত্র প্রদান করা হবে। এর ফলে এলাকার অনেক গ্রাম্য ডাক্তার একটি সার্টিফিকেটের জন্য ৬হাজার টাকা জমা দিয়ে ভর্তি হন। এটি আনুষ্ঠানকি ভাবে জীবননগর হাসপাতালে উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গার সাবেক সিভিল সার্জন, জীবননগর পাসপাতালের টিএইচওসহ আরও অনেক গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গগণ। প্রথম দিকে বেশ কয়েকদিন ক্লাস ভাল ভাবে হলেও মাসের ভিতরে ১৫দিন ক্লাস হয়নি বলে অভিযোগ উঠে। এ ব্যাপারে প্রশীক্ষানার্থীদের সাথে কথা বললে তারা বলেন আমরা এখানে ভর্তি হয়েছি একটি সার্টিফিকেটের জন্য এবং হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছ থেকে কিছু শেখার জন্য কিন্তু আমাদের নিকট থেকে অনেকের কাছ থেকে কোর্স বাবদ ২হাজার থেকে ৬হাজার টাকা করে নিয়েছে এবং তাদের সাথে আমাদের কথা ছিল এক মাস প্রশিক্ষন শেষে আমাদের আনুষ্ঠানকি ভাবে সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়া হবে। অথচ ২মাস হতে এল এখনও পর্যন্ত আমরা কোন সার্টিফিকেট পায়নি। অবশেষে এই প্রশিক্ষনের জেলা কোর্স সমন্বয়কারীর কাছে গেলে তিনি যেখানে থাকতেন সেখানে তিনাকে পাওয়া যায়নি তখন আমরা তিনার মোবাইল ফোনে ফোন দিলে তিনি বলেন আপনারা একটু অপেক্ষা করেন আমি সার্টিফিকেটের জন্য ঢাকায় এসেছি আপনারা আগামি সপ্তাহে সার্টফিকেট পাবেন এই বলে আমাদের ঘুরিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। এ ব্যাপারে জীবননগর গ্রাম ডাক্তার কল্যান সমিতির সভাপতি ডাঃ আঃ জব্বারের সাথে কথা বললে তিনি বলেন মুক্তি নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কতৃপক্ষ যখন আমাকে বললো গ্রাম্য ডাক্তারদের মাস ব্যাপী একটি প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে চাই এবং এটি উদ্বোধন করবেন সিভিল সার্জন তখন আমি তাদের বললাম ঠিক আছে এটা একটি ভালো উদ্দ্যোগ তাদের কথা মত এবং অনুষ্ঠানে সিভিল সার্জনের মাধ্যমে উদ্বোধন হওয়ায় আমি অনেকের এখানে ভর্তি করেছি। হঠাৎ শুনছি তারা এখান থেকে চলে গেছে তিনি আর ও বলেন আমি তাদের সাথে কথা বলেছি তারা বলেছে ঢাকায় তারা সার্টিফিকেট আনতে গিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রশিক্ষন কোর্সের জেলা সমন্বয়কারী রাফিউলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন আমাদের যে প্রোগ্রামটা ছিল তা জেলা সিভিল সার্জন পরিবর্তন হওয়ায় আমাদের একটু সমস্যা হয়েছে। তবে আশা করি খুব শিঘ্রই আমরা প্রশিক্ষনার্থীদের হাতে সার্টফিকেট তুলে দেব। এদিকে এই প্রশিক্ষন নিয়ে জন সাধারনের মাঝে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রশিক্ষন হয়েছে মাত্র দশ দিন আর এই দশ দিনে যে সমস্থ নতুন বেকার যুবকরা প্রশিক্ষন নিয়েছে তারা কিভাবে সাধারন মানুষকে চিকিৎসা করবে। আসলেই কি এটা বেকার যুবকদের জন্য একটি কর্ম সংস্থার ব্যবস্থা না কি অসাধু কিছু কর্মকর্তার টাকা হাতানো এমনটাই প্রশ্ন সচেতন মহলের।
সমীকরণ প্রতিবেদন