সমীকরণ ডেস্ক: রাজধানীর গুলশানের ডিএনসিসি মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে পুড়ে গেছে ছয় শতাধিক দোকানপাট। এতে ক্ষতি হয়েছে কয়েক শ' কোটি টাকার। সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট ও নৌবাহিনীর একটি ইউনিট প্রায় ১৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকা-ের ওই ঘটনায় তিনতলা বিশিষ্ট ডিএনসিসি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ধসে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তাদের উচ্ছেদের জন্য চক্রান্ত করে আগুন দেয়া হয়েছে। তারা এই ঘটনাকে নাশকতা মনে করছেন। তবে মেয়র আনিসুল হক বলেছেন, মার্কেটের আগুন নাশকতা নয়, দুর্ঘটনা। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন) মেজর শাকিল নেওয়াজ জানান, মার্কেটের বিভিন্ন স্থানে আগুন জ্বলেছে। এক জায়গায় কিছুটা নিভলে অন্যদিকে জ্বলে উঠেছে। পানি দ্রুত ফুরিয়ে গেছে। নতুন করে পানি আনতে সময় লেগেছে। এসব কারণে আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিভেন্স অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনায়েত হোসেন বলেন, কিভাবে এই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি। আগুনে দুজন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এদিকে ডিসিসি মার্কেটে লাগা আগুনের কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ইউনিট। ডেপুটি ডিরেক্টর দেবাশিষ বর্ধনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক মাসুদুর রহমানকে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনথ তেজগাঁও স্টেশনের সালাহ উদ্দিন, তেজগাঁও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন পরিদর্শক শরিফুল ইসলাম ও তানহারুল ইসলাম।
জানা গেছে, সোমবার রাতেও ডিসিসি মার্কেটের সব কিছু ঠিকঠাকই ছিল। রাতে ব্যবসায়ীরা যখন দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরেন, তখনও তারা জানতেন না রাতেই তাদের স্বপ্ন পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। হঠাৎ করেই এমন অনিশ্চয়তায় পড়তে হবে তাদের। রাত ২টার দিকে মার্কেটে আগুন লাগে। খবর পেয়ে দোকান মালিক, কর্মচারীরা চলে আসেন। তবে আগুনের জন্য মার্কেটে প্রবেশ করতে পারেননি। মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে তারা দেখছেন আগুনে সব শেষ হওয়ার দৃশ্য। কিন্তু কিছুই করতে পারছেন না। চোখের সামনে দোকান আর মার্কেট পুড়তে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব?্যবসায়ীদের কয়েকজন। আগুন লাগার পর কয়েকজন ব্যবসায়ী দাবি করেন, অগ্নিকা-ের ঘটনা ইচ্ছাকৃত। আবু তালেব নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, একটি দুর্নীতিগ্রস্ত মহল দীর্ঘদিন ধরে তাদের তুলে দেয়ার চেষ্টা করেছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন