সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পুরনো গন্ধের রাজভাষণ!

  • আপলোড তারিখঃ ১৫-০৬-২০১৯ ইং
পুরনো গন্ধের রাজভাষণ!
সমীকরণ প্রতিবেদন: সরকারের বাজেটে খুশি হয়ে বিরোধী দল আনন্দ মিছিল করেছে এমন নজির লাল-সবুজের দেশে নেই! কিন্তু বাপ-দাদাদের চরিত্রে পুরনো গন্ধের রাজভাষণ ঠিকই অব্যাহত রেখেছেন। প্রতি বছরই বাজেটে নতুন ঘ্রাণ আসে। নবরূপ পায় বাজেটের পাতা। যোগ-বিয়োগের খেলাও চলে। ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষের মুখেও আংশিক হাসি দেখা যায়। স্বপ্নের বাজেট ঘোষণা দিয়ে বছর শেষে শক্ত মুখে ফিরেও আসে সরকার। কিন্তু ঐতিহ্য রথে কখনোই মন ভরে না রাজনেতাদের। এবারের বাজেটেও তাদের কালো মুখ! সরকারের ঘরে এবং বিরোধী দলের সবাই অতুষ্ট! সরকারের ঘর থেকেও অশান্তির মিছিল। ক্ষমতাসীনদের শরিক দল ছোবল তুলে ইঙ্গিত দিলো ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট অস্পষ্ট ও স্বপ্নচারী। বাজেট সমৃদ্ধির পেছনে জনগণ, শ্রমিক, কৃষক, উদ্যোক্তা, নারী এদের বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু নেই বলেও দাবি তাদের। আর বিরোধী দল ও সরকারবিরোধী জোট, তারা তো পুরনো চরিত্রে বাজেটের সঙ্গে সরকারকেও দুর্গন্ধের তালিকায় ফেললো। তাদের দাবি, অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই, ‘সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’ শরিকরাও তাল মিলিয়ে বলেছে, কয়েকটা গ্রুপের, কয়েকটা গোষ্ঠীর সুবিধার জন্য এই বাজেট, এটা জনগণের নয়। তবে বিরোধীদের এমন মন্তব্যে গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ভালো না লাগার পার্টিরা কী গবেষণা করেন তারা নিজেরাও তা জানেন না, যাদের মানসিকতা অসুস্থ, তাদের কিছুই ভালো লাগে না। একটা কিছু বলতে হবে, তাই বলেছে। এটা একটা অসুস্থতা।’ আনুষ্ঠানিকভাবে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির দাবি, অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই ‘সরকার জনগণকে বাইরে রেখে যেভাবে নির্বাচন করেছে, একইভাবে বাজেটও দিচ্ছে। যেভাবে জনগণ এই নির্বাচন গ্রহণ করেনি, তেমনি বাজেটও তারা গ্রহণ করবে না।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে প্রকল্প ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। করের মাধ্যমে, ভ্যাটের মাধ্যমে বা অন্যান্য মাধ্যমে এই টাকা সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কেটে নেবে। অনির্বাচিত সরকার একটি অনির্বাচিত সংসদে এই বাজেট দিয়েছে। গণতন্ত্র না থাকায় সুশাসন নেই দেশে। সু-শাসনের অভাবে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত। ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ বন্ধ, শেয়ার বাজারে অস্থিরতা, ব্যাংকে তারল্য সংকট চলছে। সরকার দেশকে ঋণনির্ভর অর্থনীতির বৃত্তে আবদ্ধ করে রেখেছে। এই ঋণ শোধ দিতে দেশের মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে। নাগরিকদের ভুগতে হবে চরমভাবে। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতি বছরই বাজেটে বিপুল ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। ঘাটতি মেটাতে ঋণের পরিমাণও বাড়ছে। বাজেট বাস্তবায়নের হারেও দেখা যায় নি¤œমুখিতা। বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে। কোথাও যেন আস্থার অভাব আছে। প্রকৃতপক্ষে সরকারের ওপর কেউ আস্থা রাখতে পারছে না। কারণ সরকারই যে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় এবং এর ফলে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতাও নেই।’ বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘ঘোষিত বাজেটের শিরোনাম দেয়া হয়েছে ‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ— সময় এখন আমাদের সময় এখন বাংলাদেশের’। বর্তমান অর্থমন্ত্রী পরিকল্পনামন্ত্রী থাকাকালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দেয়ালে লেখা দেখা গেছে ‘সময় এখন আমাদের : সময় এখন বাংলাদেশের’। আবার বছর খানেক আগে টিভির পর্দায় একটি পণ্যের অ্যাডভার্টাইজমেন্ট হিসেবেও শোনা গেছে ‘সময় এখন আমাদের’। আসলে সময় এখন তাদের এবং একমাত্র তাদেরই। যদিও এর আগে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটকে জনবান্ধব আখ্যায়িত করেছেন ক্ষমতাসীন দল আ.লীগের নেতারা। তারা বলছেন, নির্বাচনি ইশতেহারে দেশকে উন্নত করার যে রোডম্যাপ ও পরিকল্পনা দিয়েছে আ.লীগ, তারই আলোকে এ বাজেট দেয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়িত হলে নি¤œ-মধ্যম আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে বাংলাদেশ। পাবে উন্নয়নশীল দেশের পরিপূর্ণ মর্যাদাও। আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘মূলত নির্বাচনি ইশতেহারে জনগণকে আ.লীগ যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। এই জনবান্ধব বাজেট বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের শিখরে নিয়ে যাবে। এর ফলে দেশে কৃষক-শ্রমিক থেকে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ উপকৃত হবে।’ বাজেট প্রস্তাবনার পর তাৎক্ষণিক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দাবি করেছিলেন, অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার নেই ‘দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে একমাত্র অনির্বাচিত দেশ বাংলাদেশ। এই অনির্বাচিত সরকারের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই। কারণ তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তারা জনগণের কাছে দায়বদ্ধও নয়।’ তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি কিছু সংখ্যক মানুষের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে। তারা বাজেট প্রণয়ন করছে। তারা অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে। আবার তারাই সরকার পরিচালনা করছে।’ বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জাতীয় পার্টির (জাপা) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, বিশাল ঘাটতি বাজেট নানামুখী সংকট তৈরি করে থাকে। সংসদের বিরোধী দলের আসনে থাকা জাপার অন্যতম এই নেতা বলেন, বিশাল ঘাটতি বাজেটে যেটা হয়— ঘাটতির কারণে অনেক খাত থেকে পয়সা কাটা হয়। জনকল্যাণমূলক অনেক কাজ নাও হতে পারে। দেখা যায়, সংসদে অনুমোদন হওয়ার পর স্বাস্থ্য-শিক্ষা খাতের অনেক বরাদ্দ কমে গেছে। ‘আরেকটি সংকট তৈরি হয়; দেখা যায়- ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়া হয়। এতে তারল্য সংকট বেড়ে যায়। আমরা শুনতে পাচ্ছি, এখনই ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। সরকার ব্যাংক থেকে বেশি ঋণ নিলে সমস্যা আরও ঘনীভূত হবে। দেশীয় উদ্যোক্তারা সংকটে পড়তে পারেন।’ গতানুগতিক উল্লেখ্য করে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘লুটেরা’ ধনিকদের আরও ধনী করবে এবং গরিব-মধ্যবিত্তকে আপেক্ষিকভাবে আরও দরিদ্র ও আর্থিকভাবে অসহায় করে তুলবে। বাজেটকে তারা সাম্রাজ্যবাদ ও লুটেরা ধনিক শ্রেণির স্বার্থক্ষার গণবিরোধী দলিল। তা প্রত্যাখান করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সিপিবি এসব কথা জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাজেট প্রস্তাবের ভিত্তি হলো পুঁজিবাদের নয়া উদারবাদী প্রতিক্রিয়াশীল দর্শন। এই দর্শনের মূল ভিত্তি হলো ধনিক তোষণ ও শ্রেণি-ধনবৈষম্য সৃষ্টি করা। এই বাজেটে রাষ্ট্রীয় চার মূলনীতির অন্যতম সমাজতন্ত্রের কোনো প্রতিফলন নেই। ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটকে বাস্তবতাবিবর্জিত বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। গত বৃহস্পতিবার দলের পক্ষে এক বিবৃতিতে তিনি এমন মন্তব্য করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল অনির্বাচিত জাতীয় সংসদে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মোটা অঙ্কের ঘাটতি বাজেট পেশ করেছেন, তা বাস্তবতাবিবর্জিত। গত বছরের বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটও সরকার পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে না।’ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে মোট এডিপি ধরা হয়েছে দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা, রাজস্ব খাতে আয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা, বৈশ্বিক ঋণ ধরা হয়েছে ৬৮ হাজার ১৬ কোটি টাকা, দেশীয় ঋণ ধরা হয়েছে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা। ঘাটতি ধরা হয়েছে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। বাজেটের প্রায় তিন ভাগের এক ভাগই ঋণনির্ভর। এই ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই সরকারের নাভিশ্বাস উঠে যাবে। মুদ্রাস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রকৃত পক্ষে মূদ্রাস্ফীতি আরও বাড়বে।’ গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. রেজা কিবরিয়া বলেছেন, ‘এটা জনগণের বাজেট না, এটা কয়েকটা গ্রুপের, কয়েকটা গোষ্ঠীর, তাদের সুবিধার জন্য এই বাজেট করা হয়েছে।’ রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির ওপরে বিরাট একটা হুমকি আছে। ব্যাংকিং খাতের অবস্থা খুবই খারাপ। সরকার যে সেটা বুঝেছে, এই বাজেটে সেটার কোনো লক্ষণ নেই।’ একই বিষয়ে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, ‘এটা উচ্চাভিলাসী, ঋণখেলাপিবান্ধব বাজেট। দেশে কিছু ধনী পরিবার আছে, তাদের সব রকমের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য এই বাজেট করা হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য বাজেট প্রণয়নের নামে জনগণের সঙ্গে এটা একটা প্রতারণা।’ বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন বলেন, বাজেটে বলা হয়েছে যে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ, এটি স্বতঃসিদ্ধ বিষয়। একই সঙ্গে বলা হয়েছে— সময় এখন বাংলাদেশের, কিন্তু সময় আমাদের এ বিষয়টি স্পষ্ট নয়। আমরা মানে এই জনগণ, বাজেটের এই সমৃদ্ধির পেছনে কাজ করা সেই জনগণ, শ্রমিক, কৃষক, উদ্যোক্তা, নারী এদের বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছু বলা নেই। সম্পদ পুনর্বণ্টনের বিষয়েও কোনো ইঙ্গিত নেই। তিনি আরও বলেন, এখানে মুষ্টিমেয় ধনিক গোষ্ঠীর হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে। একটা বিশাল বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া কৃষকদের সহায়তার কথা এক লাইনে বলা আছে। নির্দিষ্ট কিছু আমি পাইনি। দারিদ্র্য নিরসনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও, এই সময়ের মধ্যে যুবসমাজের কী হবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। বাজেট প্রতিক্রিয়ায় জাসদের একাংশের সভাপতি মাইনুদ্দিন খান বাদল বলেন, বাজেট পুরোটা শুনে মনে হলো— স্বপ্নচারী হতে মানা নেই, বাস্তবতা ভিন্ন কথা। তবে জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মতে, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে আমরা (২০১৪ সাল থেকে ২০১৮) যেসব বাজেট দিয়েছি, প্রতি বছরই বাজেটের আকার বাড়ানো হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এত বড় বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য কি না। প্রস্তাবিত বাজেটের উন্নয়ন বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি। সংগঠনটির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেকের দাবি , ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পাঁচ লাখ ২০ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে যে ২১১ লাখ কোটি টাকার অধিক উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয়েছে তার বিরাট অংশই লুট হবে। আ স ম আব্দুর রব ও আবদুল মালেক রতন বলেন, ‘বাজেট সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হলে বাজেট ও প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়নি, ভোটাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেয়া হয়েছে।’ জেএসডির দুই শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, ‘বাজেটে দেশের আয়-উপার্জনহীন নিম্নবিত্ত মানুষ, এতিম, বিধবা, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ও দুস্থ নারীদের জন্য নামমাত্র মূল্যে রেশন ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখা আজ একান্ত প্রয়োজন, অথচ তা রাখা হয়নি।’ তবে সরকারবিরোধী রাজনেতাদের অতীত স্টাইলে এমন মন্তব্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ভালো না লাগার পার্টিরা কী গবেষণা করেন তারা নিজেরাও জানেন না, একটা কিছু বলতে হবে, তাই বলেছে। এটা একটা অসুস্থতা।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট নিয়ে সাধারণ মানুষ খুশি কি না তা দেখতে হবে। এটা আমাদের ১১তম বাজেট। যতটুকু আমি বলেছি, তার থেকে অনেক বেশি কিছু রয়েছে বাজেটে। ভালো না লাগা পার্টি যারা তাদের কোনো কিছুই ভালো লাগবে না। উনাদের সেটা অসুস্থতা। ভালো সমালোচনা করলে আমরা গ্রহণ করব আর মন্দ কথা বললে ধর্তব্যে নেবো না।’ প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা, উন্নত করা, সমৃদ্ধশালী করা এবং স্বাধীনতার সুফল পাওয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আগে বাইরে গেলে বাংলাদেশকে কেউ চিনতো না। এখন আমাদের সবাই চেনে। এটাই আমাদের বড় পাওনা।’ বাংলাদেশকে আগে বিদেশীরা ভিক্ষুকের জাত হিসেবে চিনতো, এখন সেভাবে চেনে না। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘একটা গল্প আছে না, পড়াশোনা করছে ছেলে, পাস করবে না। পাস করার পরে বলল, চাকরি পাবে না। চাকরি পাওয়ার পর বলল, বেতন পাবে না। বেতন পাওয়ার পরে বলল, বেতনের টাকা চলবে না। তো উনাদের সেই অসুস্থতা।’


কমেন্ট বক্স
notebook

দৈনিক বাংলার স্টাফ রিপোর্টার হলেন কামাল উদ্দীন জোয়ার্দ্দার