বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ বিএনপি জোটের

  • আপলোড তারিখঃ ১৬-১১-২০১৮ ইং
টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ বিএনপি জোটের
ডেস্ক রিপোর্ট: বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট এবং নতুন গড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে থাকতে পারবে কি না, সে প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও এখনো স্বস্তিতে নেই দলগুলো। বরং ওই সব জোটের প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত নির্বিঘেœ নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারবেন কি না সেটাই তাঁদের বড় চিন্তা। এ ছাড়া গ্রেপ্তার আতঙ্ক কাটিয়ে জোটের কর্মীদের নির্বাচনী এলাকায় নেওয়া যাবে কি না, সে দুশ্চিন্তাও আছে বিএনপিসহ জোটের নেতাদের মধ্যে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এমনটি জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সার্বিকভাবে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জোটের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুশ্চিন্তা সবচেয়ে বেশি। সে কারণেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির দাবি নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট বারবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যাচ্ছে। গত বুধবারও ইসিতে গিয়ে ওই দাবি জানিয়ে আসে তারা। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা টিকে থাকার চেষ্টা করছি। কিন্তু সরকার চায় কি না আমরা নির্বাচন করি, সেটিই বড় প্রশ্ন।’ তাঁর মতে, গায়েবি মামলা প্রত্যাহার এবং গ্রেপ্তার আতঙ্ক দূর না হওয়া পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। গত বুধবার নয়াপল্টনে পুলিশের সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মিদের সংঘর্ষের ঘটনাকে ফখরুল ষড়যন্ত্র ও উসকানি বলে মন্তব্য করেন। গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী অবশ্য মনে করেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ আচরণ করলেই নির্বাচন নিয়ে আর কোনো সমস্যা থাকে না। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, বুধবার নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক থেকে মনে হয়েছে তাদের ভূমিকা কিছুটা ইতিবাচক। একটু একটু করে পরিবেশ তারা তৈরি করতে পারছে।’ গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী মনে করেন, নির্বাচনে টিকে থাকার প্রশ্নে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ বা বাধা এখনো সামনে আছে তাঁদের। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার দৃশ্যমান কিছুই করেনি। তিনি বলেন, ‘সরকারের নীলনকশা হলো আমরা যাতে নির্বাচনে না যাই। তারা এরশাদকে নিয়ে আরেকটি ৫ জানুয়ারি করতে চাইছে। তা ছাড়া ইসির ভূমিকাও এখনো সংশয়মুক্ত নয়। না হলে হঠাৎ করে কেন আজ বললেন, কোনো কর্মসূচি লাইভ প্রচার করা যাবে না।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ চার দিন ধরে উৎসব করল; অথচ বিএনপি করলেই বলা হচ্ছে এটা করা যাবে না, আচরণবিধি লঙ্ঘন। কিন্তু আমরা শেষ দিন পর্যন্ত নির্বাচনে টিকে থেকে সরকারের স্বরূপ উন্মোচন করতে চাই।’ নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার ক্ষেত্রে এখনো অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে বলে মনে করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। তিনি বলেন, ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়নি। প্রশাসন ও পুলিশ এখনো নিরপেক্ষ আচরণ করছে না। নির্বাচন কমিশনও ইতিবাচক ভূমিকা নিচ্ছে না।’ তাঁর মতে, হামলা-মামলা করে কর্মিদের মাঠে নামতে দেবে কি না সেটাই হলো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, ‘জনগণের যে সমর্থন, তাতে নির্বাচন শতকরা ৫০ থেকে ৬০ ভাগ সুষ্ঠু হলেও জয় আমাদের আসবে। আর সরকার এটি জানে বলেই ক্রমাগত উসকানি দিয়ে যাচ্ছে।’ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আমরা টিকে থাকতে পারব কি না তার চেয়ে বড় প্রশ্ন, সরকার আমাদের টিকে থাকতে দেবে কি না।’ নাগরিক ঐক্যের এই নেতা বলেন, ‘নানা উসকানি সত্ত্বেও ঐক্যফ্রন্ট ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। সরকার কোনো স্পেস না দিলে নির্বাচন থেকে সরে আসাও অস্বাভাবিক নয়।’ এমন ইঙ্গিত দিয়ে সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিবও বলেছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হলে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে। গত বুধবার নাইকো দুর্নীতি মামলায় শুনানিতে খালেদা জিয়া আদালতে বলেন, ‘আমাদের আদালতে ব্যস্ত রাখলে নির্বাচন করব কিভাবে? অনেক প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে আমাদের এগোতে হচ্ছে। এর ওপর বারবার আদালতে আসতে হলে বলে দেন আমরা নির্বাচনে না যাই।’ ২০ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় নেতা বিজেপির সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ অন্যান্য দাবি এখনো আছে। কিন্তু নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে আন্দোলনের অংশ হিসেবে। আমরা মনে করেছি, ভোট দেওয়ার সুযোগ পেলে জনগণ ব্যালটের মাধ্যমে জবাব দেবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০ দলীয় জোট বা ঐক্যফ্রন্ট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে থাকবে কি না সেটি সরকার ও ইসির ওপর নির্ভর করছে।


কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’