সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ছোটশলুয়া না কি কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমিতি বৈধ? কারা প্রকৃত মৎসজীবি সমিতি এ নিয়ে নানা প্রশ্ন : স্পষ্ট করতে পারেনি কর্মকর্তাও

  • আপলোড তারিখঃ ২২-১১-২০১৬ ইং
ছোটশলুয়া না কি কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমিতি বৈধ? কারা প্রকৃত মৎসজীবি সমিতি এ নিয়ে নানা প্রশ্ন : স্পষ্ট করতে পারেনি কর্মকর্তাও

`zdfb`নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর বিলের লীজ গ্রহিতা কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি কোনটি বৈধ এর জবাব কেউ দিতে পারেনি। এমনকি চুয়াডাঙ্গা উপজেলা মৎস কর্মকর্তা ফিরোজ আহম্মেদও স্পষ্ট করতে পারেন নি। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চুয়াডাঙ্গা উপজেলা মৎস অফিসে গিয়ে মৎসজীবি কমিটি কোনটি এবং কারা প্রকৃত মৎসজীবি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, গত ২০০৯ সালে ছোট শলুয়া গ্রামের মৎসজীবিরা মৎসজীবি হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য একটি দরখাস্ত করেন। সে আলোকে গত ১/৫/১৪ সালে চুয়া/০৫ স্মারকে মৎসজীবির তালিকায় তাদের নাম আসে। গত জুলাই মাসে এ সমিতি আমার কাছে প্রত্যয়ন পত্রের জন্য আবেদন করেন। এরপর আমি কাউকে না জানিয়ে গোপনে সরেজমিনে তদন্ত করতে বাড়ি বাড়ি যায়। সেখানে গিয়ে তালিকাভূক্তরা মৎসজীবি কিনা জানতে চাইলে তারা অনেকেই বলেন, মৎসজীবি নয়, তারা কেউ চাষী কেউবা দিনমুজুর। একই নাম দুই জায়গায়, এসব দেখে ৩০ জনের একটি সমিতি গঠন করা হয় ও তাদের প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হয়। বর্তমানে তাদের তালিকা সঠিক আছে। এদিকে ২০০৪ সালে কোর্টে এফিটএভিটের মাধ্যমে নতুন করে মৎসজীবি সমিতি হয়েছে কোটালী মৎসজীবি সমিতি। কোটালী সভাপতি বহু অভিযোগে অভিযুক্ত আজগার আলীর বিরুদ্ধে সীমাহীন জালিয়াতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদিকে কোটালী দর্শনা মৎসজীবি সমিতি ২০০৪ সাল থেকে ২০০৮ সাল এবং ৩ দফায় ১০বছর ধরে উজ্জলপুর জলমহল ইজারা নেয়। ফলে উজ্জলপুর জলমহল ব্যবস্থাপনা কামিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১০ সালে মৎসজীবি হিসাবে প্রত্যয়ন পেয়েছে। এদিকে গত ৩১/০৮/১৬ তারিখ সারা দেশের জন্য জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র-৯১৫ প্রকৃত জেলেদের তালিকা করার জন্য মৎস কর্মকর্তা আরিফুর রহমান নির্দেশ প্রদান করেন। সে আনুযায়ী গত ২৮/০৯/১৬ তারিখে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নোটিশ বোর্ডে প্রকৃত মৎসজীবিদের তালিকা দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। এ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১৫২ জনের নামের তালিকা আসে। এদের মধ্যে যাচাই বাচাই করে ১৯জনকে বাদ দেওয়া হয় এবং ১৩৩ জনকে মৎসজীবির তালিকায় রেখে অনুমোদন দেওয়া হয়। এ তালিকার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা পৌরসভায় ১জন, পদ্মাবিলা ইউনিয়নে ১জন, তিতুদহ ইউনিয়নে ৪৬জন, শংকরচন্দ্র ইউনিয়নে ৬জন ও বেগমপুর ইউনয়নে ৭৯জন মৎসজীবি হিসাবে তালিকাভূক্ত করা হয়েছে। এ তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আজগর আলী ও সেলিম উদ্দিন গত ১৭/১৮ সেপ্টেম্বর মৎস অফিসে আসে। ততদিনে নির্দিষ্ট সময় পার হয়ে গেছে। এসব জটিলতার কারণে দুইটি মৎস সমিতি একে অপরকে দায়ী করছে। এদিকে এক পক্ষ জানায় কোটালী দর্শনা মৎস্যজীবি সমবায় সমিতিতে দুইজন মৃত ব্যক্তিকে সদস্য করে রাখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ বেআইনী। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গেজেটে প্রকাশিত দেশের খাস জলাশয় ও জলমহলসমূহ প্রকৃত মৎস্যজীবিদের অনুকূলে বন্দোবস্ত প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং রাজস্ব আয়ের পাশাপাশি মৎস সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধিসহ জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ করার লক্ষ্যে সরকার জনস্বার্থে `সরকারী জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি, ২০০৯ প্রণয়ন করেছেন। যেখানে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যিনি প্রাকৃতিক উৎস হতে মাছ শিকার এবং বিক্রয় করেই প্রধানতঃ জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি প্রকৃত মৎস্যজীবি বলে গণ্য হবেন। সেখানে দুইজন মৃত ব্যক্তিকে আজ দুবছর যাবত সদস্য বানিয়ে রেখে তাদের প্রাপ্য সুবিধা ভোগ করছে সমিতির কথিত সভাপতি রাজমিস্ত্রির ঠিকাদার আজগার আলী। কামার, কুমার, দুধ বিক্রেতা, নাপিত, চা দোকানী, ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের মৎস্যজীবি বানিয়ে নতুন করে আবারো বিল লিজের জন্য দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে সমিতির সভাপতি। এলাকার প্রকৃত মৎস্যজীবিদের মধ্যে থেকে ফুরশেদপুর গ্রামের ৫জন স্মার্টকার্ড প্রাপ্ত মৎস্যজীবি এইসব অনিয়মের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কিছুদিন পূর্বে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগও দাখিল করেছে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, জেলা সমবায় অফিসের তদন্তদলসহ বিভিন্ন তদন্তদল সরেজমিনে তদন্ত করে গেলেও এখানও পর্যন্ত আজগার আলী ও তার সমিতির বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এলাকার প্রকৃত মৎসজীবিরা প্রশ্ন তুলে বলেছে আর কত প্রমান দেওয়া হলে সরকারী আইন অনুযায়ী কোটালী দর্শনা সমবায় সমিতি লি: ও নিজ স্বার্থ হাসিলকারী সমিতির সভাপতি বহু অভিযোগে অভিযুক্ত আজগার আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে! এবিষয়ে জেলা সমবায় কর্মকর্তা ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দৃষ্টি কামনা করেছে এলাকার প্রকৃত মৎস্যজীবিরা। এদিকে আজগার আলী ও সেলিম উদ্দিন জানায় আমরা প্রকৃত মৎসজীবি, তা নাহলে গত ১০ বছর ধরে সরকারকে জলমহলের খাজনা দিয়ে আসছি? ইতোমধ্যে ১৮লাখ টাকা খাজনা প্রদান করেছি।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী