
শহর প্রতিবেদক আফজালুল হক: চুয়াডাঙ্গায় শীতের তীব্রতা বাড়তে শুরু করায় গরম কাপড়ের চাহিদা বাড়ছে। বেচাকেনা জমে উঠেছে ফুটপাতের দোকানগুলোতে। নতুন কাপড়ের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পুরনো কাপড়ের দোকানের দিকে ক্রেতারা ঝুঁকে পড়ছে। শীত নিবারণের প্রয়োজন গরম কাপড়। শীতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদসহ বিভিন্নস্থানের ফুটপাতের পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। লেপ-তোষকের দোকানগুলোতেও বেড়েছে কেনাকাটা। লেপ-তোষক তৈরির ধুম পড়েছে। ফলে ধুনুরীদের কাটছে ব্যস্ত সময়। চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের পোস্ট অফিসের সামনে, রেলবাজারে, পুরাতন জেলখানার পাশে, কলেজ রোডসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর ফুটপাতের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, নানা ধরনের শীতের কাপড় উঠেছে সেখানে। বিক্রিও হচ্ছে মোটামুটি। ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে থাকায় এখানে জনসাধারণের আগ্রহও ভালো। প্রয়োজনীয় পোশাক বেশ সহজেই কিনছেন ক্রেতারা। এসব দোকানে বিভিন্ন দামের ফুলহাতা শার্ট-টি-শার্ট, ট্রাউজার, নারীদের মোটা কাপড়ের টপস আর বিভিন্ন ডিজাইনের কার্ডিগান বা পশমী জামা পাওয়া যাচ্ছে। হাতাকাটা সোয়েটার, লং জ্যাকেট, শাল, মাফলার, উলের মোটা কাপড়, শর্ট ও লং বে¬জার, জ্যাকেট আর বে¬জারের মিশ্রণে তৈরি নতুন ধরনের শীতের পোশাকও পাওয়া যাচ্ছে। একই সাথে আছে কাপড়ের সাথে মিলিয়ে শীতে ব্যবহার উপযোগী জুতো, মোজা ও বাহারি ডিজাইনের কম্বল ইত্যাদি। বিলাসবহুল মার্কেটের গলাকাটা দামের ভয়ে যেতে চান না মধ্যবিত্ত বা নিম্ন মধ্যবিত্তের অনেকেই। তাদের পছন্দ ফুটপাতের এই বাজার। এছাড়া অফিসের কাজের ফাঁকে কেনাকাটা বা কাজের জন্য শহরে এসে ফেরার সময় কেনাকাটার এমন সব মানুষদেরও হাতের নাগালের এই দোকানগুলোই পছন্দ। আর এজন্যই জমে উঠেছে ফুটপাতের এসব বাজার। ফুটপাতের দোকানগুলোতে চায়নার বিভিন্ন ধরনের শাল ও চাদরের দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, দেশীর মধ্যে ভালো চাদরের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। শীতের শাল ৪০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। উলের তৈরি সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ৩০০ টাকায়, কাপড়ের জুতো ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা, জ্যাকেট ২০০ থেকে ৪০০ টাকা, ট্রাউজার ১৩০ থেকে ৩০০ টাকা, গরম কাপড়ের তৈরি প্যান্ট ১৫০ থেকে ৩৫০ টাকা, পা-মোজা ৩০ থেকে ৮০ টাকা, হাইগলা গেঞ্জির দাম ১২০ থেকে ১৫০ টাকা, টুপিওয়ালা গেঞ্জির দাম ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা ও মাফলার পাওয়া যাচ্ছে ৪০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। এছাড়া হাতমোজা জোড়া প্রতি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, কান টুপি ছোটদের জন্য ৪০ টাকা এবং বড়দের জন্য ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা পোস্ট অফিসের সামনের ফুটপাতে পোশাক ক্রয়কালে লাভলুর রহমান জানান, ফুটপাতের এই বাজার অনেকটা সহজ ও সুবিধাজনক বলে এখানেই সেরে নিচ্ছে।
সমীকরণ প্রতিবেদন