দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের ১০৪ নম্বর কানাইডাঙ্গা পূর্বপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক শওকত আলীর বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খাবার পরিবেশন নিয়ে দেখা দিয়েছে তীব্র সমালোচনা। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য খিচুড়ি আর শিক্ষক ও অতিথিদের জন্য সাদা ভাত, গরুর মাংস ও ডিম পরিবেশনের ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। জানা গেছে, অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য, স্থানীয় ব্যক্তি ও শিক্ষকবৃন্দের সম্মিলিত আর্থিক সহযোগিতায়। অভিযোগ উঠেছে, অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে খিচুড়ির প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সামনেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অতিথি ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের জন্য টেবিল-চেয়ার পেতে আয়োজন করা হয় আলাদা খাবারের। সেখানে সাদা ভাত, গরুর মাংস ও ডিম পরিবেশন করা হয়।
একই অনুষ্ঠানে সম্মিলিত অর্থে শিক্ষার্থীদের জন্য এক ধরনের খাবার এবং শিক্ষক-অতিথিদের জন্য অপেক্ষাকৃত উন্নত খাবারের ব্যবস্থা করায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সামনে এমন বৈষম্যমূলক খাবার পরিবেশন নৈতিকভাবেও প্রশ্নবিদ্ধ।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের খাবারে মাংস থাকার কথা জানান। তবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের খিচুড়িতে পোল্ট্রি মুরগির মাংস কুচি কুচি করে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে শিক্ষক ও অতিথিদের জন্য সাদা ভাত, গরুর মাংস ও ডিম পরিবেশনের বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেন।
তবে পরবর্তীতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের ছেলে সাংবাদিকদের ফোন করে দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য খিচুড়ি এবং শিক্ষক-অতিথিদের জন্য সাদা ভাত, গরুর মাংস ও ডিমের আলাদা আয়োজনের সিদ্ধান্তে তার বাবার কোনো ভূমিকা ছিল না। ম্যানেজিং কমিটির লোকজন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা শিক্ষা অফিসার আবু হাসানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, দআমি এ বিষয়ে কিছু জানি না ভাই। পাঁচ মিনিট অনুষ্ঠানে ছিলাম। যা জানার প্রধান শিক্ষকের কাছে জানেন, উনি সব বলতে পারবেন।’
স্থানীয়দের প্রশ্ন- শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা ও সম্মিলিত অর্থে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যদি খাবারের আয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে একই অনুষ্ঠানে শিশুদের জন্য এক ধরনের এবং তাদের সামনেই শিক্ষক-অতিথিদের জন্য আরেক ধরনের খাবারের ব্যবস্থা কেন করা হলো? এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের আয়োজনে আর্থিক সহযোগিতার অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, খাবারের সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের খাবারের মান ও পরিমাণ কী ছিল- এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
শিশুদের সামনে শিক্ষকদের এমন আলাদা খাবারের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনে বৈষম্যের ধারণা তৈরি করছে কি না- এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখন একটাই আলোচনা- যে শিশুদের কেন্দ্র করে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, সেই শিশুদের সামনেই কি একটি বিদায় অনুষ্ঠানে খাবারের ক্ষেত্রেও তৈরি করা হলো ‘দুই শ্রেণির’ আয়োজন?
সমীকরণ প্রতিবেদক