দর্শনা পৌর এলাকার শ্যামপুরে সৌদি প্রবাসী স্বামীর মৃত্যুর ৫৮ ঘণ্টার ব্যবধানে স্ত্রীরও মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাখি রাশিদুন নাহার ওরফে ববিতা খাতুন (৩৫) মারা যান। ববিতা খাতুন শ্যামপুর গ্রামের সফর উদ্দিনের স্ত্রী এবং দর্শনা থানা মহিলা জামায়াতের সভানেত্রী ছিলেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টায় শ্যামপুর কবরস্থানে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ববিতার স্বামী সফর উদ্দিন (৪০) সৌদি আরবের আভা শহরে কর্মরত ছিলেন। গত ১০ আগস্ট তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। দীর্ঘ ৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। সফর উদ্দিন দর্শনা পৌর বিএনপির সমন্বয়ক, সাবেক প্যানেল মেয়র ও সাংবাদিক শরীফ উদ্দিনের ভাই।
এদিকে, ১০ আগস্ট স্বামীর স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার খবর পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন ববিতা খাতুন। ওই দিনই তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা তাকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুর মাত্র ৫৮ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় শ্যামপুরসহ দর্শনা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই দম্পতির এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বাবা-মাকে হারিয়ে তারা এখন সম্পূর্ণ এতিম হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ববিতা খাতুনের মৃত্যুর খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর মো. রুহুল আমিন এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছে পরিবারের পাশে দাঁড়ান এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করেন।
অন্যদিকে, সফর উদ্দিনের মরদেহ দ্রুত সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনিক সহযোগিতার পাশাপাশি জামায়াতের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক (দর্শনা অঞ্চল)