আলমডাঙ্গায় মৃতপ্রায় গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জিকে) ক্যানেলের বুকে জেগে উঠল গ্রামবাংলার হারানো ঐতিহ্য সাঁতার। নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিলুপ্তপ্রায় এই সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে ও নদী রক্ষায় সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে গতকাল শনিবার বিকেলে ব্যতিক্রমী এক সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটি।
প্রতিযোগিতায় পেশাদার ও অপেশাদার মিলে ৫০ জন সাঁতারু অংশ নেয়। স্থানীয়দের উৎসাহ ও বিপুল দর্শকের পদচারণায় জিকে ক্যানেলের দুই পাড় মুখরিত হয়ে ওঠে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সাঁতার প্রতিযোগিতা প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি ও সিনিয়র সাংবাদিক রহমান মুকুল। প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। এমপি রাসেল বলেন, এই আয়োজন কেবল খেলাধুলা নয়, বরং নদী-জলাধার রক্ষার এক প্রতীকী প্রতিবাদ ও পরিবেশ সচেতনতার মাধ্যম। নদীই এ দেশের কৃষি, সংস্কৃতি ও সভ্যতার মূল উৎস। নদীর প্রবাহহীনতায় মরুকরণ শুরু হয়েছে, হারাচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা। নদীকে হত্যা করা মানে নিজের অস্তিত্ব ধ্বংস করা।
এর আগে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক ও আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিধি হিসেবে চুয়াডাঙ্গা সদরের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল শামীম প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির এই অভিনব উদ্যোগ সারা দেশের প্রতিটি জেলা, উপজেলায় ছড়িয়ে দিতে পারলে আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য দারুণ এক ভবিষ্যৎ তৈরি করা সম্ভব। এই আয়োজন অনেককে অনুপ্রাণিত করবে।
সহকারী অধ্যাপক একেএম ফারুকের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আলমডাঙ্গা বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি মকবুল হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক মীর আসাদুজ্জামান উজ্জ্বল, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও জামায়াত নেতা নূর মোহাম্মদ হুসাইন টিপু, সিনিয়র সাংবাদিক ফিরোজ ইফতেখার, উপজেলা জামায়াতের সভাপতি প্রভাষক সফিউল ইসলাম বকুল, ফাতেমা ক্লিনিকের মালিক মঞ্জুর আলী।
আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সাংগঠনিক সম্পাদক শরিফুল ইসলাম পিন্টুর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন—সিনিয়র সাংবাদিক হামিদুল ইসলাম আজম, প্রশান্ত বিশ্বাস, শাওন, বশিরুল আলম, সোহেল হুদা, মুর্শিদ কলিন, শরিফুল ইসলাম রোকন, মানবাধিকার সংগঠন আলমডাঙ্গার সভাপতি সাংবাদিক আল আমিন পরশ, সাংবাদিক ডা. আতিক বিশ্বাস প্রমুখ।
সাঁতার প্রতিযোগিতা পরিচালনা করেন ইসলাম রকিব, মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক, আব্দুস সালাম, শরিফুজ্জামান লাকি, মহসিন কামাল ও সাবেক কৃতি ফুটবলার শেখ শরিফুল ইসলাম। বিজয়ী হন অপেশাদার গ্রুপে: ১ম হন মনিরুজ্জামান মিম, ২য় হন রিয়াস সালেহীন রুহান ও ৩য় হন জাহিদুল ইসলাম। পেশাদার গ্রুপে ১ম হন শরিয়ত ইসলাম (কুষ্টিয়ার আমলা এলাকা), ২য় হন সাকিবুল ইসলাম ও ৩য় হন আকাশ আহমেদ।
বিজয়ীদের নগদ অর্থ, মেডেল ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেকেই পেয়েছেন টি-শার্ট, ক্যাপ ও মেডেল।
আয়োজন কমিটির সভাপতি সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক রহমান মুকুল বলেন, এটি নিছক সাঁতার প্রতিযোগিতা নয়; এর লক্ষ্য আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী। নদী-বিল-খালহারা জনপদে, যেখানে জলের স্মৃতি কেবল গল্প হয়ে থাকে, সেখানে এই আয়োজন যেন হারিয়ে যাওয়া নদীর জলে জেগে ওঠা আশার আলো। এটি শুধু ক্রীড়ানুষ্ঠান নয়, বরং নদীর শোকগাথায় জীবনের জয়গান।
আলমডাঙ্গা অফিস