চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের সরোজগঞ্জ থেকে খাসকররা পর্যন্ত প্রধান সড়কের বেহাল অবস্থায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকাবাসী। দীর্ঘ দুই বছর আগে সড়কটির সংস্কার কাজের জন্য খোঁড়াখুঁড়ি করা হলেও এখন পর্যন্ত কাজ শেষ হয়নি। বরং সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়ে সেখানে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সরোজগঞ্জ-খাসকররা সড়কের একাধিক স্থানে খানা-খন্দে ভরা রাস্তা পানিতে তলিয়ে আছে। ফলে কৃষকরা মাঠের আবাদি জমি থেকে ভোটা ধান ও অন্যান্য ফসল বাজারে আনতে পারছেন না। কৃষিপণ্য নিয়ে সরোজগঞ্জ বাজারে যেতে না পেরে লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর আগে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করে। এরপর রাস্তা কেটে ফেলে রাখা হলেও আর কোনো কাজ হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এমন করুণ অবস্থা থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা ঠিকাদারের কোনো তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না। এতে ক্ষোভ বাড়ছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
খাসকররা গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, ‘রাস্তা দিয়ে এখন আর স্বাভাবিকভাবে চলাচল করা যায় না। বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তা কাদায় আর পানিতে ভরে যায়। বাধ্য হয়ে সরোজগঞ্জ বাজারে যেতে প্রায় ৩০ কিলোমিটার ঘুরে অন্য রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে।’ স্থানীয় কৃষকরা বলেন, ধান কাটার মৌসুমে এমন অবস্থার কারণে তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। মাঠ থেকে ধান বাড়িতে বা বাজারে আনতে না পেরে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দ্রুত রাস্তা সংস্কার না হলে কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী আরও জানান, জলাবদ্ধতার কারণে আলমসাধু, ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ কোনো ধরনের ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। খাসকররা, রাবিরনগর ও আশপাশের গ্রামের মানুষ এখন কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহন করতেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সড়কটি খুঁড়ে ফেলে রেখে দীর্ঘদিন ধরে কোনো কাজ না করে এলাকাবাসীকে দুর্ভোগে ফেলেছেন। তারা দ্রুত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবিলম্বে সড়ক সংস্কার কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন। এলাকাবাসী প্রশাসনের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, ‘আমাদের এই দুর্ভোগের দিকে কেউ তাকাচ্ছে না। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। অতি দ্রুত সরোজগঞ্জ-খাসকররা সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক।’
প্রতিবেদক সরোজগঞ্জ