চুয়াডাঙ্গায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ সভার আয়োজন করা হয়। চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় মহান স্বাধীনতা দিবস ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ওপর আলোকপাত করে আলোচনা সভা করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়া উদ্দিন আহমেদ, সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর সিদ্দিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবেছ উদ্দীন প্রমুখ।
সভায় চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ২৫ মার্চ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় রাত। ওই রাতে হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়, যা ইতিহাসে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃত। এটি মানবতার বিরুদ্ধে জঘন্য অপরাধ। পরে দীর্ঘ ৯ মাসের যুদ্ধে শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি। তাই নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা লালন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়ের পক্ষে আমাদের অবস্থান দৃঢ় রাখতে হবে। শহিদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানাতে হলে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
সভায় এমপি মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসের এ দিনে যে সকল বাঙালি প্রাণ দিয়েছে, তাদের শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি। ২৫ মার্চের কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞ চালায়, যা ইতিহাসে এক বর্বরতম গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত। এই দিনটি জাতির জন্য শোকাবহ হলেও একই সঙ্গে আমাদের স্বাধীনতার চেতনা ও সংগ্রামের প্রেরণা জাগিয়ে তোলে।
এমপি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, আজ ২৫ মার্চ ভয়াল কালরাত। ১৯৭১ সালের আজকের এই রাতেই পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছিল নিরীহ বাঙালিদের। প্রত্যেক বছর আজকের এই দিনটিতে আমাদের অনেক শোকাবহ স্মৃতি ভেসে ওঠে। বাংলার দামাল ছেলেরা বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে দেশের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিল। আজকের এই দিনটি উদ্যাপনের ফলে আমাদের তরুণেরা সেই পঁচিশে মার্চ সম্পর্কে ধারণা পাবে। যাদের প্রাণের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি তাদেরকে আমরা কখনোই ভুলবো না।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি.এম.তারেক উজ জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) জামাল আল নাসের, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মিনহাজ-উল ইসলাম, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জেসমিন আরা, তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল প্রমুখ।
নিজস্ব প্রতিবেদক