প্রকৃতির আকস্মিক তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও এর আশপাশের এলাকা। গত রোববার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ফলে টানা ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অন্ধকারে নিমজ্জিত রয়েছে কয়েকটি গ্রাম। এদিকে, গতকাল সোমবার পবিত্র লাইলাতুল কদর হওয়ায় বিদ্যুৎহীন অবস্থায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজের জন্য মসজিদে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হলেও সেখানে ইবাদতের পাশাপাশি মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাত ৮টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো করে প্রচণ্ড বেগে ঝড় শুরু হয়। এর সাথে যোগ হয় মুষলধারে বৃষ্টি। ঝড়ের দাপটে অনেক জায়গায় গাছের ডাল ভেঙে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ে এবং খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে মুহূর্তেই পুরো এলাকা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত গতকাল সোমবার রাত ১১টা পর্যন্ত ৩০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
গতকাল ছিল লাইলাতুল কদর। একদিকে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ইবাদত করতে আসা মুসল্লিদের নাভিশ্বাস ওঠার দশা। এলাকার প্রায় প্রতিটি মসজিদে জেনারেটরের ব্যবস্থা করা হয়, যাতে অন্তত আলোর নিচে নামাজ আদায় করা যায়। তবে জেনারেটর চালু করার সাথে সাথেই দেখা গেছে ভিন্ন এক দৃশ্য। দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকায় অধিকাংশ মানুষের মোবাইল ফোন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফলে মুসল্লিরা ইবাদতের পাশাপাশি মসজিদে সারিবদ্ধভাবে মোবাইল চার্জে দিয়েছেন। মসজিদের মাল্টিপ্লাগ ও চার্জিং পয়েন্টগুলোতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টানা ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হচ্ছে এবং পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তার ওপর পবিত্র রাত, অথচ অন্ধকারের কারণে ইবাদতে বিঘ্ন ঘটছে।’ বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে লাইনের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ায় মেরামত করতে সময় লাগছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করার চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক