মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা এলজিইডির বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামানের যোগদানের পর থেকে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং জনসাধারণের ভোগান্তি বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, গাংনী-ধানখোলা সড়ক ১ কোটি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হলেও কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। স্থানীয়দের দাবি, রাস্তায় নামমাত্র বিটুমিন ব্যবহার করা হয়েছে, ফলে আঙুলের চাপেই কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। এ সড়কের তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেন।
সম্প্রতি সংস্কারকাজে অনিয়মের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে গতকাল শুক্রবার দুপুরে মেহেরপুর-২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা সরেজমিনে কাজ পরিদর্শন করে সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। এদিকে, উপজেলার অন্তত ১৫টি রাস্তার সংস্কারকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এছাড়া নতুন ও সংস্কার মিলিয়ে আরও প্রায় ১৫টি প্রকল্পের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে, যা ঈদের পর শুরু হওয়ার কথা। এসব কাজের মান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গোপালনগর প্রধান সড়ক থেকে লুৎফুন্নেছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়মুখী রাস্তা নির্মাণেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। একইভাবে ধানখোলা ইউনিয়নের চাঁন্দামারী, রায়পুর ইউনিয়নের চাঁদপুর, তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়নের হিন্দা কবরস্থান সংলগ্ন সড়ক এবং মটমুড়া ইউনিয়নের মোমিনপুর স্কুলমোড় থেকে পারগোয়ালগ্রামমুখী রাস্তা নির্মাণেও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইমরান হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযোগ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘অনিয়মের বিষয়টি জানার পর সেখানে ভালোভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা সবসময় ভালো কাজ করার চেষ্টা করি।’ এ বিষয়ে মেহেরপুর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদের সরকারি মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
প্রতিবেদক গাংনী