ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাসসুমকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আবু তাহের নামে এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে। ঝিনাইদহ সদর সার্কেকেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় জানান, তাবাসসুম হত্যার পর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কুষ্টিয়া শহরের তার ভাইয়ের ভাড়া বাসা থেকে আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার ফরাসপুর গ্রামের মৃত শফি উদ্দীনের ছেলে। সে হত্যার দায় ও ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছে।
কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, হত্যাকারী আবু তাহের একটি সিগারেরট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি এবং মাদকাসক্ত ছিল। সে বাদেডিহি গ্রামে শিশু তাবাসসুমদের বাড়ি পাশে ভাড়ায় বসবাস করতো। ঘটনার দিন চিপস ও জুসের লোভ দেখিয়ে ঘরের মধ্যে নিয়ে যায় শিশু তাবাসসুমকে। ওসি আরও জানান, আবু তাহের শিশুটির ওপর পাশবিক শারীরিক নির্যাতন করে। নির্যাতনের সময় শিশুটি চিৎকার করলে তার কাছে থাকা লুঙ্গি দিয়ে মুখ চেপে ধরে। কিছুক্ষণ পর শিশুটি মারা যায়। এরপর রাত হলে একটি বস্তায় ভরে নিকটস্থ আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংকে লাশ লুকিয়ে রাখে।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার সকালে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বাদুড়গাছা গ্রামের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেফটিক ট্যাংক থেকে তাবাসসুম নামে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বুধবার বেলা দুইটা থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। শিশুটির পরিবার বারোবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন। নিহত শিশুর পিতা নজরুল ইসলাম স্থানীয় একটি দর্জির দোকানের কর্মচারী ও মাতা হালিমা খাতুন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশনে চাকরি করেন।
ঝিনাইদহ অফিস