আসিফ কাজল, ঝিনাইদহ:
ঝিনাইদহে এখন বেকারত্বের অভিশাপে পুড়ছে যুব সমাজ। পড়ালেখা করে চাকরি না পাওয়ায় হতাশ যুবকেরা দলে দলে পাড়ি জমাচ্ছে বিদেশে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা প্রতারিত হচ্ছেন। লাখ লাখ টাকা খুইয়ে নিঃস্ব হয়ে পরিবারের গলগ্রহ হয়ে জীবনযাপন করছে। শিক্ষিত যুবকদের কাছ থেকে ঝিনাইদহের দালাল চক্র ও ট্রাভেল এজেন্সির প্রতিনিধিরা মানুষের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেও প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারছে না। কারণ আর্থিক লেনদেনের কোনো ডকুমেন্ট যুবকদের কাছে নেই।
দালালের মাধ্যমে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বংকিরা গ্রামের শাহ্ আলম সিদ্দিক ইমন নামে এক যুবক মিশরে যান। সেখানে বেশ কিছুদিন কাজও করেন। কিন্তু তিনি অন্তত তিনমাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। দালালরা ইমনের কোন সন্ধান দিতে পারছে না। শৈলকুপার ক্ষুদ্র রয়েড়া গ্রামের সোহাগ মোল্লা নামের আরেক যুবক দালালের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় গিয়ে নির্যাতিত হয়ে মারা যান। স্বজনরা টাকার অভাবে তাঁর মরদেহ এখন পর্যন্ত দেশে আনতে পারেনি। ওই গ্রামের আরো অন্তত ছয় যুবক কম্বোডিয়ায় গিয়ে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মধুহাটী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন জানান, গ্রামের বেশির ভাগ মানুষ দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করছে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির দালাল বিদেশ নিয়ে যাওয়ার ফাঁদ তৈরি করছে। ওইসব পরিবারের যুবকদের মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় শাতাধীক দালাল রয়েছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অন্তত ৩০ টি সক্রিয় রয়েছে। মানবপাচার চক্র।
শৈলকুপার বিল্লাল মোল্লা বলেন, স্থানীয় রয়েল শেখের মাধ্যমে আটমাসে আগে ৫ লাখ টাকা খরচ করে তার ছেলে সোহাগকে কম্বোডিয়ায় পাঠান। বলা হয়েছিল মাসে দেড় লাখ টাকা বেতন দেওয়া হবে। তবে আমার ছেলে মোবাইল করে বলতো তাকে প্রতিনিয়ত নির্যাতন করা হচ্ছে। গতমাসে জানতে পারি আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে। এখন লাশটিও পাচ্ছি না।
বংকিরা গ্রামের শাহানার খাতুন নামে এক নারী জানান, এক বছর আগে ইমরুল হোসেন নামে এক দালালের মাধ্যমে সাড়ে ৬ লাখ টাকা খরচ করে তার সন্তান ইমন মিশরে যায়। সেখানে যাওয়ার পর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতো। শুনেছিলাম সেখানকার একটি গার্মেন্টেসে কাজও করতো সে। তবে গত তিনমাস ধরে ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। দালালের সঙ্গে যোগাযোগ করলে উল্টো আমাদের কাছে টাকা দাবি করে কিন্তু আমার ছেলের কোনো সন্ধান দেয় না।’
মানবাধিকার কর্মী বাবুল কুন্ডু বলেন, দালাল ও ট্রাভেল এজেন্সির লোকেরা সারা বাংলাদেশ থেকে যে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তা দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো স্থাপনা করা যায়। তাদের ফাঁদে পড়ে গ্রামের নিরীহ পরিবার নিঃস্ব হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সম্প্রতি কম্বোডিয়া থেকে এক প্রতারিত যুবককে আমরা ফিরিয়ে এনছি। তবে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা না বাড়ালে এ অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, সচেতনতার অভাব ও সহজ আয়ের আশায় অনেক যুবকেতরা প্রলোভনের ফাঁদে পড়ছে। প্রতারতি হওয়া পরিবারগুলো আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
ঝিনাইদহ অফিস