পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই আলমডাঙ্গা পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমে উঠেছে ইফতার কেনাবেচা। প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকে শহরের প্রধান সড়ক ও অলিগলিতে ইফতারের পসরা সাজিয়ে বসছেন দোকানিরা। বিশেষ করে শহরের চারতলা মোড় ও হাইরোড এলাকার জনপ্রিয় রেস্তোরাঁগুলোতে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে আলমডাঙ্গা ঘুরে দেখা যায়, ইফতারের বাজারে ক্রেতাদের প্রধান আকর্ষণ শহরের নামি-দামি কিছু প্রতিষ্ঠান। শহরের প্রাণকেন্দ্র চারতলা মোড়ে অবস্থিত ‘কুটুম বাড়ি’ এবং হাইরোডে ‘বিসমিল্লাহ হোটেলে’ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কুটুম বাড়ির স্পেশাল হরেক পদের মুখরোচক ইফতার এবং বিসমিল্লাহ হোটেলের ঐতিহ্যবাহী ভাজাপোড়ার চাহিদা এবারও তুঙ্গে। অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা হাইরোডে অবস্থিত জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ ‘ফুড গার্ডেন’ তার আভিজাত্য ও স্বাদের কারণে ভোজনরসিকদের প্রথম পছন্দের তালিকায় রয়েছে। বিশেষ করে ফুড গার্ডেনের স্পেশাল গ্রিল, গরম গরম নান রুটি, শাহি হালিম এবং তিলে ভাজা জিলাপির জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় করছেন। এর পাশাপাশি সাধারণ পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ ও সিঙ্গাড়ার তো চিরচেনা চাহিদা রয়েছেই।
ইফতার কিনতে আসা সাইদুল ইসলাম জানান, বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি থাকলেও পরিবারের সবার সাথে ইফতার করার আনন্দই আলাদা। বিশেষ করে হাইরোডের এই হোটেলগুলোর ইফতারের স্বাদ ও মান বজায় থাকায় আমরা এখান থেকেই নিয়মিত কেনাকাটা করি। বাজারের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আলমডাঙ্গা সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শরাফত হোসেন রাসেল বলেন, ইফতার বাজারে এবার বেশ বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। তবে খাবারের মানের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। ফুড গার্ডেন, কুটুম বাড়ি, আল্লাহ দান হোটেল বা বিসমিল্লাহ হোটেলের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাস্থ্যকর পরিবেশে ইফতার পরিবেশনের যে চেষ্টা করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
রেস্তোরাঁ মালিকদের মতে, উপকরণের দাম বাড়লেও তারা ক্রেতাদের সন্তুষ্টির কথা মাথায় রেখে খাবারের গুণগত মান বজায় রাখার সর্বাত্মক চেষ্টা করছেন। এদিকে, পবিত্র রমজানে ইফতারের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং খাবারের মান নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে ইফতার বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদক, আলমডাঙ্গা