আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান লাল্টু ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে নিজ বাড়ির বাথরুমে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় গুরুতর আঘাত পান। তাকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার প্রস্তুতিকালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নুরুজ্জামান লাল্টু বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন।
উল্লেখ্য, তিনি একসময় জাসদ গণবাহিনীর সক্রিয় সদস্য ও নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার বড় ভাই বীর মুক্তিযোদ্ধা মতিয়ার রহমান মণ্টু ওই দলের কমান্ডার ছিলেন। মেহেরপুর ট্রেজারি লুটের সময় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মতিয়ার রহমান মণ্টু নিহত হন। এরপর তার ছোট ভাই নুরুজ্জামান লাল্টু দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। পরে তিনি বড় ভাইয়ের স্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলেয়া খাতুনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
পরবর্তীতে নুরুজ্জামান লাল্টু জাসদ গণবাহিনী থেকে সরে এসে পূর্ববাংলা কমিউনিস্ট পার্টি গঠন করেন এবং কমান্ডারের দায়িত্ব নেন। সে সময় তার নেতৃত্বে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়ায় এবং বিষয়টি দেশি-বিদেশি সংবাদমাধ্যমেও প্রচারিত হয়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় মতিয়ার রহমান মণ্টু ও নুরুজ্জামান লাল্টু পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে জীবনবাজি রেখে যুদ্ধ করেন এবং সাহসী যোদ্ধা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তারা সশস্ত্র রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। কী কারণে তারা ওই পথে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনো নানা আলোচনা রয়েছে। ১৯৯৮ সালের শেষ দিকে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম সন্ত্রাসীদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান এবং সাধারণ ক্ষমার ঘোষণা দেন।
ওই সময় এলাকার বেশ কয়েকজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর সঙ্গে নুরুজ্জামান লাল্টুও আত্মসমর্পণ করেন। তিনি প্রায় ১৯ বছর কারাভোগ করেন। কারামুক্তির পর তিনি দীর্ঘদিন সাধারণ জীবনযাপন করছিলেন। গতকাল অসুস্থ অবস্থায় বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেলে তার মৃত্যু হয়। আজ তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান শেষে দাফন সম্পন্ন করা হবে বলে জানা গেছে।
আলমডাঙ্গা অফিস