আলমডাঙ্গা পৌরসভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের হাট-বাজার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনার ইজারা উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। এতে মোট দর উঠেছে ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬১ হাজার ৫ টাকা, যা পৌরসভার ইতিহাসে সর্বোচ্চ রাজস্ব হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে পৌর কার্যালয়ে গোপন ব্যালট পদ্ধতিতে ইজারা ডাক অনুষ্ঠিত হয়। বেলা তিনটার দিকে সবার উপস্থিতিতে টেন্ডার বাক্স খোলা হয়। স্থানীয় ও বহিরাগত একাধিক ইজারাদার অংশ নেওয়ায় পুরো প্রক্রিয়ায় ছিল প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ।
পৌর প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সিন্ডিকেট ও নামমাত্র দরে ইজারা দেওয়ার অভিযোগ ছিল। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এবার কোনো সিন্ডিকেট ছাড়াই উন্মুক্তভাবে ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় রাজস্বে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সর্বোচ্চ দর ওঠা খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে- পৌর পশুহাটে ৪ কোটি ৩৭ লাখ টাকা, পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে ১ কোটি ৬৬ লাখ ৫ হাজার টাকা, টহ বাজারে ৬৫ লাখ ১৯৯ টাকা, ছাগলের হাটে ২৮ লাখ ৫ হাজার ৫০০ টাকা এবং পান হাটে ১৮ লাখ টাকা। এছাড়া বাইসাইকেল হাট, আনন্দধাম টহ বাজার, পশু জবাইখানা, গণশৌচাগার, তাঁতীসেড কাপড় হাট ও সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ডসহ অন্যান্য খাত মিলিয়ে মোট রাজস্ব দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৫৪ লাখ ৬১ হাজার ৫ টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেলের তদারকি ও উদ্যোগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইজারা কার্যক্রম বাস্তবায়ন হয়েছে। ইজারা কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এস এম শাহনেওয়াজ মেহেদী, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহীদ ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন পর স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত প্রক্রিয়ায় ইজারা সম্পন্ন হওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পৌর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, রাজস্ব বৃদ্ধির ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও নাগরিক সেবা আরও গতিশীল হবে।
আলমডাঙ্গা অফিস