মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সরব অবস্থান

রশিদ ছাড়াই টাকা, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার আশ্বাস
  • আপলোড তারিখঃ ২৫-০২-২০২৬ ইং
ঝিনাইদহে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সরব অবস্থান

ঝিনাইদহ পৌরসভার হাটবাজার থেকে অতিরিক্ত খাজনা আদায় ও খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ইজারাদারের বিরুদ্ধে খাজনার নামে চাঁদাবাজি অভিযোগ তুলে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন নতুন হাটখোলা বাজার ব্যবসায়ীরা। এসময় বাজারের মাছের আড়তদার বাদশা বুলবুল, আব্দুল করিম মিয়া, কাঁচা মালের আড়তদার হুমায়ন কবির কল্লোল ও গোস্ত ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানসহ অর্ধশত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।


সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার দোহায় দিয়ে এবং ইজারামূল্য অতিরিক্ত নির্ধারণের অজুহাতে ইজারাদার খেয়ালখুশি মতো ইজারা নিচ্ছেন। খাজনা রশিদ ছাড়াও ইজারাদার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে প্রতিমাসে চাঁদা নিচ্ছে। বাদশা মিয়া ও হাফিজুর রহমান নামে দুই ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, আগে এক মণ কাঁচা মালে চার টাকার খাজনা ছিল। এখন সেই খাজনা মণ প্রতি ১৬০ টাকা দিতে হচ্ছে। চট খাজনা আগে ১৫/২০ টাকা ছিল। এখন দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে। একজন গৃহস্থ চারটি কদু বিক্রি করতে এসে তাকে দিতে হচ্ছে ৫০ টাকা।


কুরবান আলী ও হাবিবুর রহমান জানান, একটা ছাগল বিক্রি হলে দুই হাজার টাকার খাজনা আদায় করা হচ্ছে। অথচ আগে তাদের এতো টাকার খাজনা দিতে হয়নি। খাজনা আদায়ের রশিদ না দিয়েই জোর করে এই টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন।


ব্যবসায়ীরা সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, তাদের অভিযোগ আমলে নিয়ে প্রশাসন যদি খাজনা আদায়ের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি বন্ধ না করে তবে হাট বাজার বন্ধ করে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ইজারাদার আক্তার হোসেন ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আগে যেমন খাজনা আদায় করা হতো এখনো সেই নিয়মেই খাঁজনা আদায় হচ্ছে। নিয়মের বাইরে কিছু করা হচ্ছে না। জবাইকৃত গরুতে ৭০ টাকা ও ছাগলে ৪০ টাকা খাজনা নেওয়া হচ্ছে। ইজারাদার আরো বলেন, ঝিনাইদহ পৌরসভাকে খাজনার সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেবার জন্য একাধিকবার বলা হলেও তারা দিচ্ছে না। এ কারণে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।


ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রশাসক রথীন্দ্র নাথ রায় বলেন, দ্রুত খাজনার তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা তালিকা দেখে দেখে খাজনা দিতে পারে। তিনি বলেন, অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। কেউ নিলে বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বলেন, খাজনার নামে ইজারাদারের লোকজন যদি বেশি টাকা আদায় করে তবে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এক টাকাও যাতে বেশি নিতে না পারে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি দ্রুত সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হবে জানিয়ে বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি লিখিত অভিযোগ দেন তবে তদন্ত করে হাটের ইজারা বাতিল করা হবে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী