চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নের হিজলগাড়ী বাজারে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, সাপ্তাহিক হাট ও একমাত্র খেলার মাঠের জায়গা ঘিরে প্রাচীর নির্মাণ করায় জনস্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হিজলগাড়ী বাজার সংলগ্ন এলাকায় হিজলগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। এই দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে ছিল এলাকার একমাত্র খেলার মাঠ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্কুল কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় কিছু আওয়ামী লীগ নেতার উদ্যোগে ওই মাঠের মাঝখানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। এতে মাঠের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায় এবং তখন থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়।
মাঠের যে অংশ অবশিষ্ট ছিল, সেখানে প্রতি সপ্তাহে হিজলগাড়ী বাজারের সাপ্তাহিক হাট বসত এবং এলাকার তরুণরা খেলাধুলা করতেন। কিন্তু হঠাৎ করে চার দিন আগে পুরো এলাকা প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নেওয়ার কাজ শুরু করে প্রাথমিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, পুরো জমি প্রাচীর দিয়ে ঘিরে নেওয়া হলে একদিকে যেমন সাপ্তাহিক হাটের জায়গা থাকবে না, অন্যদিকে তরুণদের খেলাধুলার অবশিষ্ট স্থানটুকুও নষ্ট হয়ে যাবে। সচেতন মহল হাটের জায়গা খালি রেখে প্রাচীর নির্মাণের অনুরোধ জানালেও তাতে কর্ণপাত করা হচ্ছে না বলে দাবি এলাকাবাসীর। ফলে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও হিজলগাড়ী গ্রামের সন্তান হাসান আলী বলেন, পরিকল্পিতভাবে গ্রামের খেলার মাঠ ও হাটের জায়গা সংকুচিত করা হচ্ছে, যা যুব সমাজের জন্য ক্ষতিকর হবে। হিজলগাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ হাসান বলেন, গ্রাম ও বাজারের চারপাশে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির জমি থাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কম। একমাত্র খেলার মাঠটি আগেই ভবন নির্মাণে নষ্ট হয়েছে। এখন অবশিষ্ট জায়গাটুকুও প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেললে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ থাকবে না।
হিজলগাড়ী বাজারের ব্যবসায়ী হাজী আমিরুল ইসলাম বলেন, অপ্রয়োজনীয়ভাবে হাটের জায়গায় প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। কার স্বার্থে মাঠ ও বাজারের জায়গা নষ্ট করা হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। হিজলগাড়ী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জসিম উদ্দিন জানান, প্রাচীর নির্মাণ বন্ধের জন্য তারা মৌখিকভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হবে। স্কুলপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী বলেন, জনস্বার্থে প্রাচীর নির্মাণ কাজ বন্ধ না হলে প্রয়োজনে এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হবে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, এলজিইডির মাধ্যমে হিজলগাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৯৫ মিটার সীমানা প্রাচীর নির্মাণে ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে মেহেরপুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জনি এন্টারপ্রাইজ। এ পরিস্থিতিতে সরেজমিনে পরিদর্শন করে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
প্রতিবেদক হিজলগাড়ি