সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

দর্শনায় কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

দুই পক্ষের সংঘর্ষ, এমডি অবরুদ্ধ, পুলিশ ও সেনা মোতায়েন
  • আপলোড তারিখঃ ২৬-১১-২০২৫ ইং
দর্শনায় কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

দর্শনার কেরু অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের (সিবিএ) নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবিতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ এবং বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, এরপর দিনব্যাপী এ আন্দোলন চলে। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপক্ষের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধানে আশ্বস্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা যেন সৃষ্টি না হয়, সে জন্য রাতভর কেরু ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়।


অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করে রেখেছে একটি পক্ষ। শ্রমিক-কর্মচারী ও নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকও এর সঙ্গে জড়িত।
এ বিষয়ে দর্শনা কেরুজ শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি তৈয়ব আলী ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম প্রিন্সের নেতৃত্বে পূর্বের কর্মসূচি অনুযায়ী নির্বাচনের দাবিতে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সমাবেশে নির্বাচন বন্ধের বিষয়ে কেরুর সাবেক সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ সবুজ ও কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানকে দায়ী করে স্লোগান দিতে থাকেন। এসময় সবুজ তার পরিষদের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অফিস কক্ষে প্রবেশ করলে শুরু হয় বিশৃঙ্খলা। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়।


জানা গেছে, চলতি বছরের ১৪ মার্চ কেরু শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। তবে অজানা কারণে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। এরপর থেকেই পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। দফায় দফায় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্বাচনের তাগিদ দিলেও নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত হয়ে ওঠেনি। দীর্ঘ সময় নির্বাচন বন্ধ থাকায় গত ১১ নভেম্বর দুপুরে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির প্রধান ফটকের সামনে শত শত শ্রমিক-কর্মচারী নির্বাচনের দাবিতে এক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। এরপর থেকে দফায় দফায় নানা কর্মসূচি পালন করছেন তারা।


দ্রুত নির্বাচনের তাগিদে শ্রমিক ও কর্মচারীরা টানা কর্মসূচি পালন করলেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্টদের। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল শ্রমিক নেতারা কেরু জেনারেল অফিসে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। কেরু কর্তৃপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বৈঠক কক্ষ ত্যাগ করেন। এরপর শ্রমিক ও কর্মচারীরা এমডির অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। রাতে মশাল মিছিল করেন শতশত শ্রমিক। ঘোষণা দেন কঠোর কর্মসূচির।


তারা জানান, পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী মঙ্গলবার সকাল থেকে কেরু জেনারেল অফিস চত্বরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শ্রমিক ও কর্মচারীরা অবরুদ্ধ করে রাখেন এমডিসহ জেনারেল অফিস। একপর্যায়ে শ্রমিকদের দুটি গ্রুপের মধ্যে কোন্দল সৃষ্টি হয় হলে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।


নির্বাচন কেন্দ্রিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি এড়াতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই কেরুতে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। এদিকে শ্রমিক অশান্তি শুরু হলে উত্তপ্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় সেনাবাহিনীর একটি দল। এরপর উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর মধ্যস্থতায় তা শান্ত হয়।


এ বিষয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন স্থগিত থাকায় শ্রমিকদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা যাচ্ছে না, যা শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় বড় বাধা সৃষ্টি করছে। হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে অবিলম্বে নির্বাচনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করা অপরিহার্য। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী কেরু ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, নির্বাচন বিষয়ে উভয় পক্ষকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছিল। কিন্তু এক পক্ষের উপস্থিতির আগেই কিছু শ্রমিক হঠকারিতা শুরু করলে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী