চুয়াডাঙ্গায় কৃষকদের সার ও বীজ সরবরাহ, ডিলারদের কার্যক্রম এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট রোধ নিয়ে সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, যেসব ইউনিয়নে এখনও বিএডিসির সার ডিলার নেই, সেসব এলাকায় দ্রুত নতুন ডিলার নিয়োগ দিতে হবে। সার সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে দিতে হবে, মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে নয়। কেউ সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করলে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দোষীদের ডিলারশিপ বাতিলের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে। সার বিতরণের সময় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও গ্রাম পুলিশের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার বলেন, বর্তমানে কৃষকরা টিএসপি সারের প্রতি বেশি আগ্রহী। ডিএপি, এমওপি ও ইউরিয়াসহ সব ধরনের সার সুষমভাবে ব্যবহার করা হলে মাটির উর্বরতা বজায় থাকে। খরিফ মৌসুমে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদন নিশ্চিত করতে সঠিক সময়ে সার বিতরণ জরুরি। ডিলারদের নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা যাবে না।
সভায় জানানো হয়, সেপ্টেম্বর মাসে চুয়াডাঙ্গা জেলায় ইউরিয়া সার বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৫৩৪ মেট্রিক টন, মজুদ ছিল ৩ হাজার ৮১৭ মেট্রিক টন। অক্টোবর মাসে বরাদ্দ হয়েছে ৪ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন, বর্তমানে মজুদ আছে ৩ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন। টিএসপি সারের সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩৬৯ মেট্রিক টন, মজুদ ছিল ৪১৪ মেট্রিক টন। চলতি মাসে বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৮১৯ মেট্রিক টন, বর্তমানে মজুদ আছে ৩৯৪ মেট্রিক টন। ডিএপি সারের বরাদ্দ সেপ্টেম্বর মাসে ছিল ২ হাজার ৭৪৯ মেট্রিক টন, মজুদ ছিল ১ হাজার ২৬৮ মেট্রিক টন। অক্টোবর মাসে বরাদ্দ হয়েছে ৩ হাজার ৩৪৩ মেট্রিক টন, মজুদ আছে ১ হাজার ১৬০ মেট্রিক টন। এমওপি সারের সেপ্টেম্বর মাসে বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৬১১ মেট্রিক টন, মজুদ ছিল ১ হাজার ৭০৪ মেট্রিক টন। চলতি মাসে বরাদ্দ হয়েছে ২ হাজার ৪ মেট্রিক টন, বর্তমানে মজুদ আছে ১ হাজার ৫৩২ মেট্রিক টন।
সভায় আরও জানানো হয়, সাম্প্রতিক সময়ে আমন ধান ও শীতকালীন সবজির আবাদ বাড়ায় সার ও বীজের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই মনিটরিং কমিটি নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করবে।
সভায় আরও বক্তব্য দেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনিছুর রহমান, দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার, জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম। এছাড়াও সভায় বিএডিসি ও বিএআইসির সার ডিলাররা উপস্থিত ছিলেন। তারা মাঠ পর্যায়ের সার সরবরাহ ব্যবস্থার সমস্যা, কৃষকদের চাহিদা এবং ডিলারশিপ সংক্রান্ত নানা বিষয় তুলে ধরেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘কৃষকরা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের সহায়তা করাই আমাদের দায়িত্ব। সার ও বীজ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করলে কৃষক লাভবান হবেন এবং দেশের কৃষি উন্নত হবে।’
নিজস্ব প্রতিবেদক