ঢাকা কলেজে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার প্রতিবাদে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছেন শিক্ষকরা। গতকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজ প্রাঙ্গণে এই কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। একই সঙ্গে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তারা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের কলেজ সম্পাদক জাহিদুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ. কে. এম. সাইফুর রশীদ।
অধ্যক্ষ ড. সাইফুর রশীদ বলেন, ‘স্বাধীনতার অর্ধশতক পেরিয়েও দেশে বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে ওঠেনি। আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে ছাত্র-শিক্ষক সমাজ সবসময় অগ্রণী ভূমিকা রেখেছে। অথচ বারবার তাদেরই লাঞ্ছিত ও বঞ্চিত হতে হয়েছে। কোনো দোষ না থাকলেও আঘাত এসেছে শিক্ষকদের ওপরেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই সরকার সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নিক, যেন তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে নতুন কোনো বিতর্ক বা প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সৃষ্টি না হয়। সাত কলেজের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো যে ভুল ছিল, তা আজ স্পষ্ট হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন নামকরণ নিয়েও যেন নতুন করে বিতর্ক না হয়।’
শিক্ষা ক্যাডারের বৈষম্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এখনো শিক্ষা ক্যাডার সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার। শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ না হলে এই অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। আমরা সাত কলেজের শিক্ষকদের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত। শিক্ষার সুন্দর পরিবেশ চাই- যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলেই গড়ে তুলবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।’
ঢাকা কলেজে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের ওপর দুষ্কৃতকারীদের হামলা ও টিচার্স লাউঞ্জে ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের সহিংসতা ভয় ও অস্থিরতা সৃষ্টি করা রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য হুমকিস্বরূপ।’
কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারজানা কেতকী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ উদ্দীন প্রমুখ। শিক্ষকরা বলেন, ‘শিক্ষক, কর্মকর্তা ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির পাশাপাশি শিক্ষা ক্যাডারের ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নিতে হবে।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক খন্দকার রোকনুজ্জামান, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুন্সি আবু সাইফ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম, অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কালাম, ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মফিজ উদ্দীন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোমিনুল ইসলাম, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল লতিফ, গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হেমায়েত আলী, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারুক হোসেন, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উজ্জ্বল কুমার মণ্ডল, কৃষিবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রুহুল আমিন এবং আইসিটি বিভাগের প্রভাষক আতিফুর রহমান।
অবস্থান কর্মসূচিতে কলেজের বিভিন্ন বিভাগের সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক, প্রভাষক, প্রদর্শক, বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের জেলা ও সরকারি কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক