বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

গাংনীতে বিএনপি নেতার টোকেন ছাড়া মিলছে না সার

বঞ্চিত প্রকৃত কৃষক, বাড়ছে ক্ষোভ
  • আপলোড তারিখঃ ০৯-১০-২০২৫ ইং
গাংনীতে বিএনপি নেতার টোকেন ছাড়া মিলছে না সার

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা ইউনিয়নে বিসিআইসি সারের সরবরাহে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও ধানখোলা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামানের দেওয়া টোকেন ছাড়া কৃষকরা সার পাচ্ছেন না। ফলে প্রকৃত কৃষক হয়েও টোকেন না থাকায় অনেকে সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।


সরেজমিনে ধানখোলা ইউনিয়নের মেসার্স এনআর এন্টারপ্রাইজের সরকারি অনুমোদিত ডিলার পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক সার পাওয়ার আশায় দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও টোকেন না থাকায় তারা সার পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, যাদের কাছে বিএনপি নেতা আখেরুজ্জামানের দেওয়া টোকেন রয়েছে, তারা বিনা বাধায় সার সংগ্রহ করছেন।


পাকুরিয়া গ্রামের কৃষক বুলবুল হোসেন বলেন, ‘চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামান আমাকে ও আকবর হোসেনকে সার নেওয়ার টোকেন দিয়েছেন। টোকেন দেখিয়ে আজ সার নিচ্ছি।’ তবে আশরাফুল নামের অপর এক কৃষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে সার পাওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু টোকেন না থাকায় সার পাচ্ছি না। অথচ যাদের টোকেন আছে, তারা কৃষক না হয়েও সহজে সার নিচ্ছে।’ গাড়াডোব গ্রামের কৃষক শাহীন বলেন, ‘এখন সারের নামে টোকেন বাণিজ্য চলছে। যাদের পরিচয় আছে, তারাই পাচ্ছে সার। বাকিরা বঞ্চিত।’


এ বিষয়ে মেসার্স এনআর এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সার সংকট রয়েছে। ভিড় ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাবেক চেয়ারম্যান আখেরুজ্জামানের দেওয়া টোকেন অনুযায়ী সার দেওয়া হচ্ছে।’ ডিলার এনামুল হোসেন বলেন, ‘স্বল্প পরিমাণ সার বরাদ্দ পেয়েছি। প্রকৃত কৃষকদের চিহ্নিত করতে টোকেন পদ্ধতি চালু করা হয়েছে।’ তবে অন্য ইউনিয়নের কৃষকদের কাছে সার বিক্রির বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।


জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আখেরুজ্জামান বলেন, ‘প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সার সুষ্ঠুভাবে বিতরণ নিশ্চিত করতেই টোকেন ব্যবস্থা চালু করেছি। এতে কৃষকরাই উপকৃত হচ্ছেন।’ ধানখোলা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ‘এখানে রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় আমরা সার বিতরণে হস্তক্ষেপ করতে পারছি না। ডিলার এনামুল আমাদের সঙ্গে ঐদ্ধ্যত আচরণ করেছে। চাকরি চলে গেলেও ওই ব্লকের দায়িত্ব নিতে পারব না।’


গাংনী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘এক ইউনিয়নের ডিলার অন্য ইউনিয়নের কৃষকদের সার দিতে পারবেন না। সঠিক কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা মনিটরিং করছি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

ফুফুর টাকা হাতিয়ে নিতে ভাতিজার ‘ছিনতাই নাটক’