সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

পরীক্ষার পর তুলে নিয়ে কুপিয়ে জখম, উত্তপ্ত হাসপাতাল চত্বর

চুয়াডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনায় ভি.জে স্কুলের দুই শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্ব

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০৯-২০২৫ ইং
পরীক্ষার পর তুলে নিয়ে কুপিয়ে জখম, উত্তপ্ত হাসপাতাল চত্বর

চুয়াডাঙ্গায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভি.জে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর দ্বন্দ্বের জেরে এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে পৌর শহরের মুক্তিপাড়া মাঠে এ ঘটনা ঘটে। পরে সহপাঠীরা রক্তাক্ত জখম অবস্থায় তামিম ইসলাম তূর্যকে (১৭) উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সে দামুড়হুদা উপজেলার বিষ্ণপুর গ্রামের নুরুজ্জামানের ছেলে এবং ভি.জে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। এদিকে, তূর্যকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সদর হাসপাতাল চত্বরে। সহপাঠীরা ‘বিচার চাই, বিচার চাই’ স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। 

জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে ভি.জে স্কুলের দশম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ হয়। এরপর দেড়টার দিকে সিএমবি ঈদগাহপাড়া শিক্ষার্থী হামজা (১৭) সকালে ঘটে যাওয়া হাতাহাতির জেরে সি অ্যান্ড বি পাড়ার বাসিন্দা ও জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাজাহান খানের ছেলে মাহিসহ (১৯) ৮-৯ জন বহিরাগতকে ডেকে আনে। পরীক্ষা শেষে তূর্য স্কুল থেকে বের হলে তাকে মুক্তিপাড়া মাঠে নিয়ে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা ও সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। জখম তূর্যের মাথায় রক্তাক্ত জখম হয়। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ছেড়ে দেন। তবে এ ঘটনায় ভি.জে স্কুলের শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এদিকে, খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের থেকে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন। 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তূর্য বলেন, ‘আমি হামজাকে সেভাবে চিনি না। তার সঙ্গে কখনো মিশিও না। সকালে পরীক্ষার আগে হামজা আমাকে হঠাৎ করেই বাবা-মা তুলে গালি দেয়। এসময় হামজার সঙ্গে আমিসহ আমার দু-একজন বন্ধুর মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। পরীক্ষার পর এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতে হামজা বহিরাগতদের নিয়ে আসে এবং মুক্তিপাড়া মাঠে ডেকে নিয়ে গিয়ে আমার ওপর আক্রমণ করে।’

জখম তূর্যের বন্ধু প্লাবন বলেন, ‘তূর্যকে বাবা-মা তুলে অকারণে গালি দেয় হামজা। এসময় হামজাকে তূর্য ও অন্যরা কয়েকটি কিল-চড় দেয়। পরে পরীক্ষা শেষে হামজা মাহিসহ বহিরাগত ৮-৯ জনকে নিয়ে আসে। মুক্তিপাড়া মাঠে হামজা ও রাজু কাঠ ও চাপাতির পেছনের দিক দিয়ে তূর্যের মাথায় আঘাত করে। এসময় রাব্বি, আনানসহ অন্যরা চাপাতি-ডেগার বের করে আবার তূর্যকে মারতে চেষ্টা করে। সবকিছু মাহির নেতৃত্বে হয়েছে।’ 

সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ইসরাত জেরিন জেসি বলেন, ‘তূর্যের মাথায় আঘাত লেগেছে। জখম দেখে ধারণা করা হচ্ছে ভোঁতা কোন কিছু দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়াও তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। জখম গুরুতর না হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। 

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, ‘খবর পেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারি জানতে আমি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলেছি। যতদূর জেনেছি পূর্বের গালমন্দ ও রেষারেষির রেজে ঘটনাটি ঘটেছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাজাহান খানের ছেলে মাহির কথায় তার বন্ধুরা তূর্যকে মারধর করে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ এখনো অভিযোগ হয়নি, তারা সন্ধ্যায় অভিযোগ জানাবেন বলে জানিয়েছেন। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’ 



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী