ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহজুড়ে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনও এ উপলক্ষে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে র্যালি, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে। একইসঙ্গে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহাসিক চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আলোচনা ও স্মরণানুষ্ঠানের আয়োজন হয়।
চুয়াডাঙ্গা:
চুয়াডাঙ্গায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। দিনটি যথাযথ মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে গতকাল চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়। দিবসের শুরুতে শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক স্থানে আলমডাঙ্গার চিৎলায় অবস্থিত শহিদ মাসুদ রানার কবর এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্রে অবস্থিত শহিদ শাহারিয়ার শুভর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
শাহারিয়ার শুভর কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ, জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), জেলা সমাজসেবা কার্যালয়, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, প্রাথমিক শিক্ষা পরিবার, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, শঙ্করচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ডিঙ্গেদহ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজ, জেলা সমবায় কার্যালয়, গণপূর্ত বিভাগ, সোহরাওয়ার্দ্দী স্মরণী বিদ্যাপীঠ, সরকারি আদর্শ মহিলা কলেজ, জেলা শিক্ষা অফিস, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সড়ক বিভাগ, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ, জেলা তথ্য অফিস, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস, জেলা পরিসংখ্যান কার্যালয়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি, জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিস, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, চুয়াডাঙ্গা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সংগঠন।
এছাড়াও শহিদ মাসুদ রানার কবরস্থানে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করে জেলা প্রশাসন সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন শেষে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া মোনাজাতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরসহ স্থানীয়রা এতে অংশ নেন।
দোয়া মোনাজাত শেষে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানে চুয়াডাঙ্গার দুজন শহিদ হয়েছেন। আলমডাঙ্গার চিৎলায় অবস্থিত শহিদ মাসুদ রানার কবর এবং চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্রে অবস্থিত শহিদ শাহারিয়ার শুভর কবরে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ দুই ভাগে ভাগ হয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়েছে। আমরা গণঅভুত্থ্যানে সকল শহিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনা করে দোয়া মোনাজাত করেছি।
এরপর চুয়াডাঙ্গায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মিলন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। আলোচনা সভায় ভার্চুয়াল যুক্ত হয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ, আহত ও জুলাই যোদ্ধাদের এবং তাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস।
চুয়াডাঙ্গার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়াউদ্দিন আহমেদ, চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের আমির অ্যাড. রুহুল আমিন ও চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। আরও বক্তব্য দেন শহিদ শাহারিয়ার শুভর বাবা আবু সাইদ, শহিদ মাসুদ রানার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস শাফা।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাঈফ ও কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক খন্দকার নুসরাত জাহান করবীর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় জুলাই যোদ্ধাদের মধ্যে বক্তব্য দেন আসলাম হোসেন অর্ক, সিরাজুম মনিরা, হাসনা জাহান খুশবু, সাখাওয়াত হোসেন সিহাব, আরাফাত হোসেন ও চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, যে ইচ্ছা এবং আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে এ অভ্যুত্থান হয়েছিলো, আমরা সেই ইচ্ছা থেকে বিন্দুমাত্র সরে না যায়। এই ইচ্ছা এবং স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করতে আমাদের প্রত্যেককেই ধৈর্য্যশীল হতে হবে। এ জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আমরা যেন পরস্পরের প্রতি কাঁদা ছোঁড়াছুড়ি না করি। অনেক পরিবারের সদস্য শহিদ হয়েছেন। কোনোকিছুর বিনিময়ে তাদের আর ফেরত পাওয়া যাবে না। এসব শহিদদের ত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও সকলে ধৈর্য্যশীল থেকে যাতে স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় আমাদের সেই আশাবাদ রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. শাহাবুদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম. সাইফুল্লাহ, জেলা তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার দিল আরা চৌধুরী, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার অহীন্দ্র কুমার মন্ডল, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার সাহা, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সিদ্দিকা সোহেলী রশিদ, টিটিসির অধ্যক্ষ মুছাবেরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মাকসুরা জান্নাত, ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান হাবিব, সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মৌমিতা পারভীনসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাবৃন্দ। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। আলোচনা সভা শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার, আহত জুলাই যোদ্ধাদের জুলাই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মসূচি:
গণঅভ্যুত্থানের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারচায় চুয়াডাঙ্গা টাউন ফুটবল মাঠে এ গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ও সভাপতি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিন।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আর কাউকে এ দেশে ফ্যাসিস্ট হতে দেওয়া হবে না। জুলাই বার্ষিকীর এই দিনে অঙ্গীকার করতে হবে যে, পেশীশক্তি, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়দাতারা যেন রাজনৈতিকভাবে সুবিধা ভোগ করতে না পারে, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। জুলাই শহিদ ও আহতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পুনর্বাসন করার ব্যবস্থা নিতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল ও আব্দুল কাদের। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য জিয়াউল হক, আলতাফ হোসেন, নূর মোহাম্মদ হোসাইন টিপু, দারুস সালাম, মাসুম বিল্লাহ, মাহফুজুর রহমান, কাইমুদ্দিন হীরক, মাওলানা মহি উদ্দিন, ইসরাইল হোসেন, অধ্যাপক খলিলুর রহমান, মহি উদ্দিন প্রমুখ।
সমাবেশ শেষে জেলা জামায়াতের আমির রুহুল আমিনের নেতৃত্বে জামায়াতের হাজার হাজার নেতা-কর্মী গণমিছিলে অংশ নিয়ে গোটা শহর প্রদক্ষিণ করে।
ইসলামী আনেন্দালনের কর্মসূচি:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় সংগঠনটির চুয়াডাঙ্গা পৌর ও সদর উপজেলা শাখা এ কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনটির চুয়াডাঙ্গা পৌর শাখার সভাপতি মো. আবুল কাশেমের সভাপতিত্বে গণমিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চৌরাস্তা মোড়ে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে। এতে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সেক্রেটারি তুষার ইমরান সরকার, সদর উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মে. আশিকুল আলম সজীব। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ আলী। একইভাবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জীবননগর, দামুড়হুদা, আলমডাঙ্গা, দর্শনা ও আসমানখালী সাংগঠনিক থানা শাখা পৃথক সমাবেশ ও গণমিছিলের আয়োজন করে।
এদিকে, ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা বিজয় র্যালি করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সরোজগঞ্জ বাজারে মহাসড়কে এ বিজয় র্যালি বের হয়।
আলমডাঙ্গা:
আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে আলমডাঙ্গায় আয়োজন করা হয়েছে ‘জুলাই স্মৃতিচারণ ও মিলনমেলা’। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটায় আলমডাঙ্গা হাইরোডের জেস টাওয়ার কমিউনিটি সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তর) আব্দুল্লাহ আল-মামুন রানা।
আয়োজক মুসাব ইবনে শাফায়েতের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাবেক সংসদ সদস্য মকবুল হোসেন, আলমডাঙ্গা নাগরিক উন্নয়ন কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি জহুরুল ইসলাম, প্রভাষক আমিরুল ইসলাম জয়, বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আব্দুল্লাহ আল মামুন, এরশাদপুর একাডেমির প্রধান শিক্ষক ফজলুল হক শামীম ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী গোলাম রহমান সিঞ্জুল।
বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষ কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা রাকিব মাহমুদের উপস্থাপনায় আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ারিয়াস অফ জুলাইর আহ্বায়ক মাহফুজ হোসেন, সেক্রেটারি সলেমিন হোসেন, জুলাই আন্দোলনের আহত আব্দুল রাজ্জাক, এবি পার্টির সাদি মাহমুদ, সাম্য, আরাফাত, আতিকুজ্জামান মেরাজ, পার্থিব হাসান, সাব্বির রহমান প্রমুখ। এছাড়াও অংশ নেন জুলাই আন্দোলনের সাহসী যোদ্ধারা, বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা, শিক্ষক, সাংবাদিক, তরুণ ও পেশাজীবী নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানে ছিল বক্তব্য, মতবিনিময়, স্মৃতিচারণ এবং জুনিয়র-সিনিয়রদের মধ্যে আন্তরিক সংযোগের এক প্রাণবন্ত আবহ।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় উপজেলা বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে বিজয় র্যলি ও সংক্ষিপ্ত আলোচন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে দামুড়হুদা ব্রিজ মোড় থেকে জাঁকজমকপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রথমে বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি উপজেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাসস্ট্যান্ড হয়ে দামুড়হুদা চৌরাস্তা মোড়ে এসে শেষ হয়। পরবর্তীতে চৌরাস্তার মোড়ের অস্থায়ী মঞ্চে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনিরের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের ১ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য তুলে ধরে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুল ওয়াহেদ, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মণ্টু মিয়া, উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সালমা জাহান পারুল, যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, যুবদলের সদস্যসচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ইকরামুল হক, সদস্যসচিব জাকির হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আফজালুল হক সবুজ, সদস্যসচিব কে ডি সুলতান প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাশেম।
দর্শনা:
দর্শনায় ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। দর্শনা থানা ও পৌর বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে।
দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি খাজা আবুল হাসনাত ও সাংগঠনিক সম্পাদক মহি উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ শাহরিয়ার শুভ মুক্ত মঞ্চে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।
একই দিন দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেটের নেতৃত্বে পুরাতন বাজার মোড় থেকে একটি বিজয় র্যালি বের হয়ে বাসস্ট্যান্ড চৌরাস্তায় গিয়ে শেষ হয়। অন্যদিকে, বিএনপির আরেকটি গ্রুপ মশিউর রহমানের নেতৃত্বে রেলওয়ে ইয়ার্ড থেকে র্যালি বের করে একইস্থানে শেষ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।
এছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দর্শনা শাখার উদ্যোগে বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিজয় মিছিল বের হয়ে পুরাতন বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পথসভা শেষে শহিদদের স্মরণে দোয়া করা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় তানভীর ও রিফাতের নেতৃত্বে শহিদ স্মরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জীবননগর:
জীবননগরে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার মুক্ত বাংলাদেশ এবং ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিজয় র্যালি, আলোচনা সভা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচি আয়োজন করে বিএনপি, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস এবং বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। বেলা তিনটায় জীবননগর আখ সেন্টার থেকে বিজয় র্যালি বের করে উপজেলা বিএনপি। র্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার আখ সেন্টারে ফিরে এসে এক আলোচনা সভায় মিলিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন। এছাড়া বিকেল চারটায় জীবননগর বাসস্ট্যান্ড উন্মুক্ত মঞ্চে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন। বক্তারা বলেন, ‘বাংলাদেশ একবার স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে, ভবিষ্যতে কেউ যদি আবার স্বৈরাচার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণ দাঁতভাঙা জবাব দেবে।’ বিকেল পাঁচটায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জীবননগর উন্মুক্ত মঞ্চে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ জনগণকে জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে। এসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জীবননগর উপজেলার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। একই সময় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে আলোচনা সভা আয়োজন করে বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস। এতে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক হযরত মাওলানা মোহাম্মদ জুবায়ের খান। আলোচনা শেষে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। এসময় বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিস বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উথলী:
জীবননগর উপজেলার সেনেরহুদা মিতালী যুব সংঘের আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জুলাই আন্দোলনে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা, এবং নবপর্যায়ে সেনেরহুদা মিতালী যুব সংঘের কার্যক্রম শুরু উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সেনেরহুদা মিতালী যুব সংঘের সংলগ্ন এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
মিতালী যুব সংঘের সভাপতি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মিতালী যুব সংঘের সাধারণ সম্পাদক আরমান আলী, উথলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী শিক্ষক শাহাবুদ্দিন মালিতা, মিতালী যুব সংঘের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হাইসহ এলাকার সুধীমণ্ডলী ও সাধারণ মানুষ।
মেহেরপুর:
মেহেরপুরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস। দিনটি উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৯টায় শহরের কলেজ মোড়স্থ জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহেনাজ। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিনুর রহমান। এসময় জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের রাজনৈতিক সেক্রেটারি রুহুল আমিন উপস্থিত ছিলেন। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মোনাজাত করা হয়। পরে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে কলেজ মোড় থেকে একটি আনন্দ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে হোটেল বাজার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলটির নেতৃত্ব দেন জেলা নাগরিক পার্টির মেহেরপুর যুগ্ম সমন্বয়কারী আশিক রাব্বি।
এদিকে, ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে নিহত সকল শহিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করেছে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে মেহেরপুর কলেজ মোড়ে শহিদ স্মৃতিসৌধে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের একান্ত সচিব ড. তারিক আজিজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শেখ বখতিয়ার উদ্দীন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক শেখ মোস্তাক আলী।
প্রফেসর ড. বখতিয়ার উদ্দীন তার বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের মূল আকাক্সক্ষা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ। যেখানে মানুষ মানুষকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করবে, এবং অফিস-আদালতসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবে। ৩৬ জুলাই যেমন আনন্দের, তেমনি বেদনার দিনও বটে। শুরুতে এই আন্দোলন ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সার্বজনীন পেনশন স্কিমকে কেন্দ্র করে। পরে এটি ছড়িয়ে পড়ে ছাত্রদের কোটা ও অন্যান্য যৌক্তিক দাবির মধ্য দিয়ে। এ আন্দোলন ছিল না কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের এটি ছিল ছাত্র, শিক্ষক, অভিভাবকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের যৌথ প্রয়াস।
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল, ছাত্ররা কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লেজুড়বৃত্তি না করে নিজেদের স্বাধীন চেতনায় দেশের কল্যাণে কাজ করবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সে প্রত্যাশা আজও পূরণ হয়নি।’ আলোচনা সভা শেষে জুলাই বিপ্লবে নিহতদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দোয়া করা হয়।
গাংনী:
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ধানখোলা (খ) ইউনিট বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা ও আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় ধানখোলা ইউনিয়নের জুগিন্দা গ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নুর ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন ধানখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য শফিউর রহমান টমা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল দেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এই গণঅভ্যুত্থান প্রমাণ করেছিল, জনগণের শক্তির কাছে কোনো স্বৈরাচার টিকে থাকতে পারে না। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা রুস্তম আলী, শহিদুল ইসলাম, যুবদল নেতা ফারুক হোসেন, রাশেদুল ইসলামসহ ইউনিয়ন বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
মুজিবনগর:
ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে মুজিবনগর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক বিজয় র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আমিরুল ইসলামের নেতৃত্বে এ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা বিএনপি কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়।
বিজয় র্যালিতে অংশগ্রহণকারী নেতা-কর্মীরা জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানারসহ স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন। এতে বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীর উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
র্যালিতে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, দারিয়াপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হাফিজুল ইসলাম, বাগোয়ান ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম, মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম কালু, মোনাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাইয়ানুল ইসলাম।
এছাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম, মেহেরপুর সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ফাহিম অহনাফ লিংকনসহ উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। আয়োজকরা বলেন, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দিবস আমাদের ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। এই দিনটি স্মরণ করে আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের পথ আরও শক্তিশালী হবে।
হরিণাকুণ্ডু:
গতকাল ৫ আগস্ট হরিণাকুণ্ডু উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়। এই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটেছে। এই বিজয়কে সুসংহত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, জাহিদুজ্জামান মনা, উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সাজেদুর রহমান পপ্পু, হরিণাকুণ্ডু পৌর বিএনপির সভাপতি, জিনাতুল হক খাঁন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিচুর রহমান, জেলা বিএনপির সহ সভাপতি, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম শাহাজাহান আলী, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আসিফ ইকবাল মাখন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, মওলানা কামাল উদ্দিন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আপাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিণ্টু প্রমুখ।
সমীকরণ প্রতিবেদন