সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ঝিনাইদহ খাদ্যগুদামে সরবরাহকৃত গম নিম্নমানের বা খাওয়ার অযোগ্য প্রমাণিত হয়নি

গুজব ছড়িয়ে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা
  • আপলোড তারিখঃ ২৯-০৭-২০২৫ ইং
ঝিনাইদহ খাদ্যগুদামে সরবরাহকৃত গম নিম্নমানের বা খাওয়ার অযোগ্য প্রমাণিত হয়নি

ঝিনাইদহ খাদ্যগুদামে সরবরাহকৃত গমের নমুনা পরীক্ষা করে নিম্নমানের বা খাওয়ার অযোগ্য প্রমাণিত হয়নি। খুলনা আঞ্চলিক খাদ্য পরীক্ষাগারের কেমিস্ট্র অফিসার মনিরুল হাসান ও মসিউর রহমান গমের নমুনা পরীক্ষা করে এই রিপোর্ট প্রদান করেন। এছাড়া খাদ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন কর্তৃক গঠিত একাধিক তদন্ত কমিটিও গমের গুণাগুন তুলে ধরে রিপোর্ট প্রদান করেন। ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রচারিত খবরকে অসত্য বলে প্রমাণিত হয়।


ঝিনাইদহ খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ১৬ ও ১৮ জুলাই এলবি লিটন নামে হরিণাকুণ্ডুর এক যুবলীগ নেতার ট্রাকে খুলনা এলএসডি থেকে ঝিনাইদহ সদর খাদ্য গুদামে গম পাঠানো হয়। ট্রাক আনলোড করতে দেরি হওয়ায় এলবি লিটন অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। খাদ্য কর্মকর্তারা টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনি নিজেকে সাংবাদিক দাবি করে ঝিনাইদহ শহরের কতিপয় মিডিয়া কর্মীদের ডেকে নিয়ে আসেন। গণমাধ্যম কর্মীরা কোনো রকম সত্য মিথ্যা যাচাই-বাছাই না করেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় খবর প্রচার করে। এই গুজব নির্ভর খবরে প্রশাসনে তোলপাড় শুরু হয়। শহর জুড়ে হৈচৈ শুরু হলে ঝিনাইদহ দুর্নীতি দমন কমিশন গুদামে অভিযান চালিয়ে কিছু গম জব্দ করে। এছাড়া গঠিত হয় একাধিক তদন্ত কমিটি। কিন্তু সব তদন্ত ও গমের ভৌত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে খুলনা থেকে আগত গমের মান ভালো এবং খাওয়া উপযোগী।


জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক প্রিয় কমল চাকমার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে খুলনা থেকে পাঠানো গমের আর্দ্রতা ১৩%, বিজাতীয় পদার্থ ০.৪৯%, কীটাক্রান্ত দানা ২.০০%, বর্ণ ও গন্ধ স্বাভাবিক ও গ্রেইন ডাস্ট ০.৫৫%। পরীক্ষাগার থেকেও এই গম সাধারণ বিলি ও বিতরণযোগ্য বলে ভেতর বিশ্লেষণ প্রতিবেদন দাখিল করে।


খাদ্য কর্মকর্তারা জানান, এই গম ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের মাঝে বিতরণ করা হলেও সেখান থেকে কোন অভিযোগ আসেনি। এছাড়া প্রাপ্ত গমের মধ্য থেকে ৯৬.৬৬ মেট্রিক টন গম ইপি, ওপি এবং ওএমএসসহ বিভিন্ন খাতে বিতরণ করা হয়েছে। ওএমএস খাতের গম মিলে ভাঙ্গিয়ে ভোক্তাদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। তবে কোনো ভোক্তা বা মিলার ফলিত আটার বিষয়ে অভিযোগ করেনি।


এদিকে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মো. নুরুন্নবী, সদস্য মো. মুক্তাদীর রহমান ও কারিগরি খাদ্য পরিদর্শক আনিছুর রহমান যৌথ সাক্ষরে প্রেরিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, গমের স্থায়িত্বকাল এক বছর। ফলে এর মান চাক্ষুষ দৃষ্টিতে খারাপ মনে হলেও গমের মান ভালো ও এর আটা খাওয়ার উপযোগী।


এ বিষয়ে ঝিনাইদহ দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তরুণ ঘোষ জানান, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তাই এখনই মন্তব্য সমীচীন নয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী