সোমবার, ১১ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আকাশকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

বিচারের দাবিতে উথলী স্টেশনে গ্রামবাসীর মানববন্ধন
  • আপলোড তারিখঃ ০২-০৬-২০২৫ ইং
আকাশকে ট্রেন থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

জীবননগর উপজেলার উথলী ইউনিয়নের সেনেরহুদা গ্রামের গাফফার আলী ওরফে আকাশকে (২৯) চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে পরিকল্পিতভাবে হত্যার প্রতিবাদ ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী ও নিহতের পরিবার। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উথলী রেলস্টেশনে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সেনেরহুদা গ্রামবাসী ও উথলী ইউনিয়নের শত শত নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা রাজশাহীগামী ৭১৫ আপ কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ২১ মিনিট স্টেশনে আটকে রাখা হয়।


চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডে চাকরি করতেন আকাশ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ও উথলী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, চুয়াডাঙ্গা তালিমুল কুরআন বিভাগের সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, হাসানুজ্জামান বাবু, নিহত আকাশের পিতা-মাতা, স্ত্রীসহ অনেকে।


মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ২১ মে ডাউন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের জুনিয়র টিটিই লালন, জিআরপি পুলিশের এসআই, কনস্টেবল, অ্যাটেনডেন্টসহ একাধিক ব্যক্তি মিলে পরিকল্পিতভাবে আকাশকে ট্রেন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছে। তারা আরও বলেন, ‘এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত বিচার করতে হবে, না হলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।’


জানা যায়, গত ২১ মে বিকেলে অফিস শেষে চুয়াডাঙ্গা রেলস্টেশন থেকে খুলনাগামী ডাউন ৭১৬ কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঙ’ কোচে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন আকাশ। তার পরিকল্পনা ছিল দর্শনা হল্ট স্টেশনে নেমে সড়কপথে বাড়ি ফেরার। কিন্তু জয়রামপুর স্টেশনের অদূরে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা মরদেহ দেখে স্থানীয়রা পকেটে থাকা ছবি ও এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করে সামাজিক মাধ্যমে খবর দেন।


প্রথমে ধারণা করা হয় আকাশ অসাবধানতাবশত ট্রেন থেকে পড়ে মারা গেছেন। নিহতের পরিবারও প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি মেনে নিতে পারেনি। কারণ হিসেবে তারা বলেন, আকাশ ছিলেন অত্যন্ত নম্র, ভদ্র ও শান্ত স্বভাবের মানুষ। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় রেলওয়ে পুলিশ সেদিনই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরদিন জানাজা শেষে তাকে সেনেরহুদা জান্নাতুল খাদরা কবরস্থানে দাফন করা হয়।


তবে ঘটনার পর ট্রেনের একাধিক যাত্রীর মাধ্যমে জানা যায়, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়। আকাশকে পরিকল্পিতভাবে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। এরপর নিহতের বাবা জিন্নাত আলী গত ২৬ মে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা আমলী আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে- ডাউন কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনে দায়িত্বে থাকা জুনিয়র টিটিই লালন চক্রবর্তী (৪২), জিআরপি পুলিশের এসআই পারভেজ (৩৬), কনস্টেবল কাদের (৪০), অ্যাটেনডেন্ট মিলন (৩৭), সোহাগ মিয়া এবং আরও ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে। মামলায় বলা হয়, বিনা টিকিটের যাত্রীদের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা আদায়ের প্রতিবাদ করায় ট্রেনের স্টাফদের সঙ্গে আকাশের বাগবিতণ্ডা হয়। এরপরই তাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়া হয়।


উথলী স্টেশন মাস্টার আবু সাঈদ জানান, গতকাল রোববার সকালে উথলী স্টেশনে কপোতাক্ষ এক্সপ্রেস ট্রেনটি আটকে রেখে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করে এলাকাবাসী। ঘটনাস্থলে আর্মি ও পুলিশ যৌথভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। এসময় এলাকাবাসী হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। 



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী