চুয়াডাঙ্গার হানুরবাড়াদীতে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টায় সদর উপজেলার নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়নের হানুরবাড়াদী গ্রামের কাজীপাড়া যুবসমাজের উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন মো. হামেজ মালিতার। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে স্বৈরাচারী শাসনে মানুষ কতটা অসহায় ছিল, তা প্রমাণ করে গত ছয়টি মাস। এই ৬ মাসে আমি প্রতিটি গ্রামে ওয়াজ মাহফিল হতে দেখছি, যা বিগত ৩-৪ বছরেও দেখিনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্বৈরাচার শাসন আমলে তারা মানুষের বাঁচার অধিকারও যেন কেড়ে নিতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল এই দেশে যেন ইসলামী চেতনার প্রতিফলন না ঘটে।’ শরীফুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতা ৫ আগস্টে আমাদের কথা বলার, বেঁচে থাকার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছে। আমরা যাদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে এই দেশে আবার কথা বলার অধিকার পেয়েছি, আবু সাইদ, মুগ্ধসহ সকল শহিদদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধা জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। আমাদের সন্তানদের শিক্ষা ও চাকরিতে থাকবে সমান অধিকার।’
শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হোক, যেন নির্ভয়ে আমরা ভোট দিতে পারি।’ তিনি বলেন, ‘বিগত সরকারের শাসন দেখেছি, তারা শুধুমাত্র মানুষের অধিকার হরণ করেছে এবং দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে। আমরা আন্দোলন থামাইনি, মামলা, হামলা, খুন, গুমের ভয়কে উপেক্ষা করে মানুষের জন্য লড়াই চালিয়ে গেছি।’ তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন হয়েছে, তারা ভারতে পালিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো তাদের দোসররা দেশে ঘাপটি মেরে বসে আছে। আমরা বলছি, আমরা যে কোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্রস্তুত। আমাদের আন্দোলন তখনই শেষ হবে, যখন দেশের মানুষ তাদের ভোটের মাধ্যমে একজন যোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতা দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আন্দোলন তখনই শেষ হবে যখন তারেক রহমানের হাত ধরে দেশ আবার সোনার দেশে পরিণত হবে। তাই আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
মাহফিলে প্রথম বক্তা ছিলেন মাওলানা এফ এম জাহাঙ্গীর আলম, দ্বিতীয় বক্তা মাওলানা এম. বায়জিদ হুসাইন ও বিশেষ বক্তা মুফতি তরিকুল ইসলাম। মাহফিলে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা শ্রমিক দলের নেতা রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, জেলা মৎসজীবী দলের সাবেক আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিক বকুল, নবগঠিত মাখালডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নুর গনী সামদানী, সাধারণ সম্পাদক আতিয়ার রহমান লিটন, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা, সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী প্রমুখ।
সমীকরণ প্রতিবেদন