ঝিনাইদহে ইব্রাহীম মণ্ডল (৩৮) নামের এক ভ্যানচালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ভ্যান কেড়ে নেওয়ার পর কোমল পানীয়ের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্বজনদের অভিযোগ। গত শুক্রবার সকালে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইব্রাহীম মণ্ডল মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি ‘মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে’ জানান, কীভাবে তাকে বিষপান করিয়ে ভ্যান ছিনতাই করা হয় এবং পরে সেটি বিক্রি করা হয়। ইব্রাহীম মণ্ডল ঝিনাইদহ সদর উপজেলার সাধুহাটী গ্রামের রুহুল আমিন মণ্ডলের ছেলে।
পরিকল্পিত এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একই গ্রামের লালু কাজীর ছেলে রতন, চুয়াডাঙ্গার হাসানহাটি গ্রামের সামিরা, সদর উপজেলার বাদপুকুর গ্রামের ইমান ঘটক, আমেরচারা গ্রামের আবু সাইদ, রফিকুল ইসলাম রফি ও কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের শরিফুল ইসলাম জড়িত বলে মৃত্যুকালীন জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ইব্রাহীম মণ্ডল।
ইব্রাহীম মণ্ডলের মামাতো ভাই ফারুক আহম্মেদ জানান, গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাস্তায় যাত্রী পরিবহন করছিলেন ইব্রাহীম। এ সময় রতন নামে এক ব্যক্তি কোটচাঁদপুরের জালালপুর গ্রামে যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যান ভাড়া করে। যাওয়ার পথে রতন প্রতারক চক্রের অন্য সদস্যদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেন। ডাকবাংলা ত্রিমোহনী এলাকায় পৌঁছালে তারা ইব্রাহীমের ভ্যানটি আটকে ফেলে এবং রতন, আবু সাইদ ও রফি জোর করে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। এরপর ভ্যানটি ১৮ হাজার টাকায় বাজারগোপালপুর এলাকায় বিক্রি করে এবং টাকা ভাগাভাগি করে নেয়।
চারদিন অসুস্থ থাকার পর গত শুক্রবার সকালে ইব্রাহীম মণ্ডল ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে মারা যান। নিহতের ভাই আশরাফুল ইসলাম জানান, তার ভাবি ও এক কন্যা প্রতিবন্ধী। সংসারে আরও দুই শিশু সন্তান রয়েছে। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত আছেন। নিহত ইব্রাহীম মণ্ডলের ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমীকরণ প্রতিবেদন