যশোর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে ঘুষ দাবির অভিযোগ তুলে চুয়াডাঙ্গার একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সংবাদ সম্মলেন, মানববন্ধন ও প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন শেষে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে দেয়া ওই লিখিত স্মারকলিপিটিই সংবাদ সম্মেলনে পাঠ করা হয়। লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ চুয়াডাঙ্গা-এর ব্যবস্থাপক হাফিজুর রহমান হাফিজ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ দীর্ঘদিন যাবৎ যশোর কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের প্রিভেনটিভ টিম কর্তৃক হয়রানির শিকার হচ্ছে। তারা বিভিন্ন সময় মোটা অংকের ঘুষ দাবিসহ নানাভাবে হয়রানি করে থাকে। গত ৬ জানুয়ারি সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যশোর কাস্টমস প্রিভেনটিভ টিম প্রতিষ্ঠানের অফিসসহ আনাচে-কানাচে তল্লাশির নামে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতের মতো আচরণ শুরু করে। এক পর্যায়ে যশোর কাস্টমস কমিশনারেট-এর অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে মোটা অংকের টাকা ঘুষ দাবি করে। যেটা মালিকের পক্ষে পরিশোধ করা আদৌ সম্ভব ছিল না। তখন আমাদের মালিকের সাথে বাকগবিতন্ডায় জড়িয়ে এক পর্যায়ে অতিরিক্ত কমিশনার রাকিবুল হাসান আমাদের প্রতিষ্ঠানের মালিক সেলিম আহমেদকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। তাকে জোরপূর্বক তার চেম্বার থেকে বের করে দিয়ে তার অফিসের মূল্যবান কাগজপত্র তছনছ করে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রিভেনটিভ টিমে কমিশনারের প্রটোকল অফিসার ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মো. সাদ্দাম হোসেনসহ ১২ জন অফিসারের প্রিভেনটিভ দলে অন্যান্য অফিসারগণ আমাদের অফিসের কর্মচারীদের সাথেও উগ্র ও অসদাচরণ করেন। যার ফলে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষ প্রতিষ্ঠানটি স্থায়ীভাবে বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের ঘোষণা লিখিতভাবে কারণ উল্লেখপূর্বক কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগ চুয়াডাঙ্গা-এর বিভাগীয় কর্মকর্তা (সহকারী কমিশনার) গৌরব কুমার সাহেবকে জানানো হলে উদ্ভুত পরিস্থিতির বিষয়ে কোনো প্রকার সহযোগিতা করতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ ২৪ বছর যাবৎ সুনামের সাথে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি বিগত তিন অর্থ বছরের (২০১৮-২০১৯, ২০২০-২০২১ ২০২১-২০২২) চুয়াডাঙ্গা জেলার উৎপাদন পর্যায়ে সর্বোচ্চ ভ্যাট পরিশোধকারী হিসেবে সম্মাননা পুরস্কার প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ শতাধিক পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে। এছাড়াও এর সাথে ৬শ থেকে ৭শ পরিবার এই প্রতিষ্ঠানটির ওপর নির্ভরশীল। সমস্ত শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধপূর্বক চাকরি হতে অব্যহিত দেয়া হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাদের মতো খেটে খাওয়া কর্মচারী ও শ্রমিকদের মানবেতর জীবনযাপন ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। কেননা, এই কাজ ব্যতীত আমাদের অন্য কোনো কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই। এসময় কর্মচারীরা হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, ৫ কর্মদিবসের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান না হলে বউ-বাচ্চা পরিবার নিয়ে আমরা রাস্তায় নামবো। প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন করব।
এদিকে, মেসার্স বঙ্গ পিভিসি পাইপ ইন্ডাস্ট্রিজ-এর স্বত্তাধিকারী সেলিম আহমেদ লিখিতভাবে এক পত্রের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গা কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন, ‘কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোর এর প্রিভেনটিভ দল ও অন্যান্য অফিসারদের প্রতিনিয়ত হয়রানি ও অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে বাধ্য হয়ে অত্র প্রতিষ্ঠান আগামী ০৯/০১/২০২৫ইং তারিখ থেকে স্থায়ীভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলো।’
এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য কাস্টম, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট যশোরের অফিসিয়িল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে কমিশনারের পিএস পরিচয়ে ফোনটি রিসিভ করেন। তিনি কমিশনারের সাথে কথা বলে জানাবেন বললেও কোনো রেসপন্স করেননি। যার কারণে কমিশনার বা অতিরিক্ত কমিশনারের বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
সমীকরণ প্রতিবেদন