চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সকল ওয়ার্ডের সভাপতি-সম্পাদকের সমন্বয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টায় শহরের কোর্ট মোড়ে পৌর বিএনপির আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি। সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা উল্লেখ করে নেতা-কর্মীরা বক্তব্য দেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেন।
সভাপতির বক্তব্যে সিরাজুল ইসলাম মনি বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী আমাদের রাখাল রাজা শরীফুজ্জামান শরীফ চুয়াডাঙ্গায় তৃণমূল পর্যায় থেকে দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে আপ্রাণ শ্রম দিয়ে চলেছেন। কিন্তু বিএনপির হাতে গোনা কয়েকজন উচ্ছৃঙ্খল নেতা-কর্মী দলের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিস্বার্থে ফাইদা লুটার পাইতারা করছে। দল এই ফাইদা লুটেরাদের এক মুহূর্তের জন্যও প্রশ্রয় দেবে না। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়, এমন কোনো কাজের সঙ্গে কারো সম্পৃক্ততা পেলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
সিরাজুল ইসলাম মনি আরও বলেন, ‘বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মীকে মানুষের সেবা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় এবং দলের উন্নয়নে কাজ করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘শরীফুজ্জামান শরীফ আগেই বলেছেন, চুয়াডাঙ্গায় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠের নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ ১৬ বছরে কোথাও চাঁদাবাজি করেনি। নেতা-কর্মী নিজের জমির ফসল বিক্রির টাকায় রাজনীতি করেছেন। তাদের সেই ত্যাগ দলের প্রতি ভালোবাসা কোনো নেতা যদি বিফল করার পায়তারা করে, দল তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেবে। আর যদি কোনো নেতা-কর্মী এমন অন্যায় করে বসেন, যা সংবিধান অনুযায়ী বিচারযোগ্য, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতেও পিছুপা হওয়া যাবে না। কারো অপরাধের দায় দল নেবে না, সেই দায় তাকেই নিতে হবে। কারণ বিএনপি শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে মানুষের কল্যণের জন্য পরিচালিত হয়, কারো ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য নয়।’
সভায় উপস্থিত থেকে আরও বক্তব্য দেন পৌর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু, যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান মুক্ত, সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন মালিক, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, পৌর বিএনপির সহসভাপতি ইনতাজ আলী, খাইরুল ইসলাম, আবুল হোসেন ও পৌর কৃষক দলের সদস্যসচিব আশাদুল হক জোয়ার্দার আলো।

এছাড়াও নিজ নিজ এলাকার পরিস্থিতি এবং দলীয় নেতা-কর্মীদের ভাবমূর্তি নিয়ে আলোচনা করেন পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি কুদ্দুস মহলদার, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হাকিম মুন্সি, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল করিম পল্লব, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মিনহাজ উদ্দিন বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান লাল, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ফারুক আহমেদ জোয়ার্দার স্বপন, সাধারণ সম্পাদক শামিম হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বজলুর রহমান বজলু, সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান জোয়ার্দার পান্না, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাধারণ সম্পাদক মিলন হোসেন ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব বাপ্পি।
এদিকে, এই সভায় নেতা-কর্মীদের আলোচনায় উঠে আসে চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম (সোহেল)। তার বিষয়ে উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের মতামত গ্রহণ করা হয়। নেতা-কর্মীরা এ ধরণের কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়ে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে দাবি করে জাহিদুল ইসলাম সোহেলকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি তোলেন। এসময় পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় নেতা-কর্মীরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে আহ্বান জানান।
সকলের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে গতকালই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে পৌর বিএনপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড শাখার সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম সোহেলকে তার পদ থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। গতকাল রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি ও সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হক পল্টু স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, বিভিন্নজনের সাথে অসদাচরণ এবং দলের শৃঙ্খলা বর্হিভূত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সমীকরণ প্রতিবেদন