মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

ভারতের দখলে থাকা দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার নদী পুনরুদ্ধার

  • আপলোড তারিখঃ ০৬-০১-২০২৫ ইং
ভারতের দখলে থাকা দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার নদী পুনরুদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি কোদালিয়া নদী ভারতের কবল থেকে উদ্ধার করেছে মহেশপুর-৫৮ বিজিবি। এতদিন কোদালিয়া নদীর বাংলাদেশ সীমান্তের ৫ কিলোমিটার ভারতের বিএসএফ দখল করে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় মহেশপুর-৫৮ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কোদালিয়া নদী বাংলাদেশের অভ্যন্তর হতে দক্ষিণ দিকে প্রসারিত হয়ে মহেশপুরের মাটিলা এলাকায় ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত চিহ্নিত করেছে। ১৯৬১ সালে প্রণীত বাংলাদেশ-ভারত (স্টিপ ম্যাপ সিট নম্বর-৫১) মানচিত্র অনুসারে কোদালিয়া নদীর উল্লেখিত ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার নদী সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্য রেখার অভ্যন্তরে অবস্থিত।

মহেশপুরের যাদবপুর ইউনিয়নের মাটিলা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মহিউদ্দীন জানান, ‘এক সময় এই নদী থেকে প্রচুর মাছ আহরণ করা হতো। স্বাধীনতার পর কোদালিয়া নদী পাড়ের মানুষ নিজেদের প্রয়োজনে বাংলাদেশের আরও অভ্যন্তরে বসবাস শুরু করলে কোদলা নদীর বাংলাদেশ অংশটুকু ভারতের বিএসএফ দখল করে নেয় এবং সেখানে আধিপত্য বিস্তার করে। ফলে কৃষকরা মাঠে চাষাবাদ ও নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারতো না।’ তিনি আরও জানান, নদীর বাংলাদেশ অংশে গেলেই বিএসএফ বাধা প্রদান করতো। এতে নদীটি ব্যবহার করা নিয়ে মাটিলা গ্রামের মানুষের সঙ্গে ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ’র সাথে বাদানুবাদ হতো।

সম্প্রতি কোদালিয়া নদীর প্রকৃত মালিকানা সংক্রান্ত এই বিষয়টি মহেশপুর-৫৮ বিজিবির নজরে আসলে বিজিবি প্রথমে বিভিন্ন নথিপত্র, স্থানীয় প্রশাসন ও মানচিত্র থেকে নদীটির প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে বিএসএফ’র অবৈধ আধিপত্য বিস্তারের বিষয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ৫৮ বিজিবি সদস্যরা সাহসিকতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কোদালিয়া নদী নিজেদের আয়ত্বে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বিজিবি সদস্যরা প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধির পাশাপাশি এলাকার জন্য যন্ত্রচালিত বোট এবং নদীর পাড়ে দ্রুত টহলের জন্য অল ট্যারেইন ভেহিক্যেল (এটিভি) বরাদ্দ করা হয়েছে।

এদিকে, ভারতের কবল থেকে ৫ কিলোমিটার নদী উদ্ধারের পর গতকাল সোমবার দুপুরে মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল শাহ মো. আজিজুস সহিদ স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। স্থানীয় জনসাধারণ এসময় বিজিবিকে অবহিত করেন বর্তমানে কোদালিয়া নদীতে নির্বিঘ্নে তারা যেতে পারছেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ৫৮-বিজিবির নবাগত অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রফিক ও মাটিলা ক্যাম্প কমান্ডার মোক্তার হোসেন।

অপর দিকে, নদী উদ্ধারে বিজিবিকে সহায়তার জন্য বিজিবি কর্মকর্তারা জনসাধারণকে ধন্যবাদ জানান এবং নদীর প্রকৃত অবস্থান এবং মালিকানা সম্পর্কে পরবর্তী প্রজন্মকে অবগত রাখার জন্য অনুরোধ জানান। সেই সাথে নদীর বাংলাদেশ অংশে প্রয়োজনীয় সেচ এবং চাষাবাদ জারি রাখার জন্য গ্রামবাসীকে বিজিবি অনুরোধ করে। এক্ষেত্রে কখনও কোনো ধরনের বাধার সৃষ্টি হলে তা সাথে সাথে বিজিবিকে অবহিত করতেও গ্রামবাসীর প্রতি বিজিবি সদস্যরা অনুরোধ করেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল আজিজুস শহীদ বলেন, ৫৮-বিজিবি মাটিলা সীমান্তের কোল ঘেঁষে কোদলা নদী বহমান। এই নদীর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভূখণ্ডের মধ্যে অবস্থিত। তবে এ যাবতকাল বাংলাদেশের লোকজন নদীতে কোনোরকম কাজকর্ম করতে পারতেন না, মাছ ধরা কিংবা প্রয়োজনীয় কাজ করতে দিলে বাঁধা দেওয়া হতো। সম্প্রতি সময়ে বিএসএফ-এর সাথে আলোচনা করে সেখানে বিজিবির দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এখন থেকে বাংলাদেশের লোকজন নদীর সবকিছু ভোগ দখল করতে পারবে। স্থানীয় কৃষক আলমগীর বলেন, এখন থেকে নদীর ধারে নিয়মিত মাছ ধরা যাবে ও নিত্যদিনের কাজকর্ম করা যাবে। আগে বিএসএফ নদীতে নামতে দিতো না।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী