দর্শনায় খুলনা থেকে ছেড়ে আসা সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবিতে অবরোধ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা। গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল পর্যন্ত দর্শনা হল্ট স্টেশনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। দুপুরে ডাউন সুন্দরবন এক্সপ্রেস এবং বিকেলে চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেন আটকে রাখা হয়। এতে খুলনার সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে ঊর্ধ্বতন রেল কর্মকর্তাদের আশ্বাসে ট্রেন দুটি যথাক্রমে খুলনা ও ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
গতকাল মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রেললাইনের দুই পাশে এবং প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নেন। দর্শনা হল্ট স্টেশনে এই দুটি ট্রেনের অন্তত ৩ মিনিট যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আকমত আলী, দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রিফাত রহমান ও এএইচ অনিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থনে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফসার (ইউএনও) মমতাজ মহল ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ এইচ এম তাসফিকুর রহমান। তবে কোনো প্রকার আশ্বাস না পেয়ে মানববন্ধন ও রেলপথ অবরোধ করে রাখেন আন্দোলনকারীরা। এসময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার চেষ্টা করেন। ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ মহল ও চুয়াডাঙ্গা সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেন জাহাঙ্গীর হোসেনের প্রতিশ্রুতিতে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। পরে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক রিফাত রহমান বলেন, দেশের ইতিহাসে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা হচ্ছে রেলের প্রথম শহর। অথচ এ যাবত ঢাকাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ও খুলনাগামী চিত্রা এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ এখানে নেই। আমরা দীর্ঘদিন যাবত এই স্টেশনে ট্রেন দুটির অন্তত ৩ মিনিট যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু এ বিষয়ে সরকারের কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমাদের এ কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
বিক্ষোভ সমাবেশে এলাকাবাসী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে এ ব্যাপারে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে রেল মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছি। আমাদের আকাক্সিক্ষত ট্রেন দুটি এখনো দর্শনা হল্ট স্টেশনে থামানোর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সে কারণে আজকে আমরা ছাত্র-জনতাকে সাথে নিয়ে আবারও রেলপথ অবরোধ করেছি।’
এ বিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিম জোনের পাকশি বিভাগের ডিভিশনাল ট্রাফিক অফিসার (ডিটিও) মোছা. হাছিনা বেগম বলেন, ‘আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্ষেত্রে ২৫-৩০ কিলোমিটারের মধ্যে স্টপেজ দেওয়ার নিয়ম নেই। দর্শনার ঘটনাটি আমরা শুনেছি। রাজশাহী ও ঢাকার ঊর্ধ্বতন রেল কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন