দর্শনা কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হাফিজুর রহমান হাফিজ ও সৌমিক হাসান রূপমকে অনিয়মের দায়ে কৈফিয়ত তলব করেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এ কৈফিয়তের জবাব চাওয়া হয়েছে। এ নিয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে কেরুপাড়ায়।
জানা গেছে, আগামী কেরুজ শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়কে কেন্দ্র করে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানের পদ নিয়ে টানাহেচড়া ঘটনারও নিস্পত্তি হয়নি। যে কারণে ঘনঘন ঢাকামুখী দৌঁড়াতে হচ্ছে হাফিজুর রহমান হাফিজকে। অপর দিকে, সদ্যবিদায়ী সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমানের পুত্র ও ঢাকা বন্ডেট ওয়্যার হাউজের ইনচার্জ সৌমিক হাসান রূপমকে নিয়মানুসারে সপ্তাহে ৬ দিন ঢাকাতে তার কর্মস্থলে অবস্থান করার কথা থাকলেও বাবার সদ্য ত্যাগ করা পদ দখলে করতে সাম্প্রতিক দিনগুলোর অধিকাংশ সময় তিনি কাটাচ্ছেন কেরু নির্বাচনী এলাকায়। ফলে অফিসিয়াল কাজে ব্যাঘাত ঘটছে।
এই উভয় ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার কেরুজ চিনিকলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) ওমর ফারুক গালীব স্বাক্ষরিত কৈফিয়তপত্র দেয়া হয় হাফিজ ও রূপমকে। সাধারণ সম্পাদক হাফিজ বিনা ছুটিতে ঢাকাতে অবস্থান করা ও ঢাকা বন্ডেট ওয়্যার হাউজের ইনচার্জ সৌমিক হাসান রূপমকে অফিসের কাজ বাদ দিয়ে দর্শনায় অবস্থান করার কারণ ব্যাখ্যা করে জবাব দিতে বলা হয়েছে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ কৈফিয়ত তলবের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘আমি ঢাকাতে যায়নি, চুয়াডাঙ্গায় হাসপাতালে রোগী দেখতে গিয়েছিলাম। সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেডকে বলে গিয়েছিলাম এবং সময় মতো অফিসে পৌঁছেছি। শত্রুতামূলকভাবে কর্তৃপক্ষকে কেউ ভুল বুঝিয়ে কৈফিয়ত তলব করিয়েছে, যার সঠিক ব্যাখা আমি দিয়েছি।’ রূপমকে মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়নি বিধায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি কেরুজ এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, ‘নিয়োম বর্হিভূতভাবে কর্মস্থল ত্যাগ করায় দুজনকে কারণ দর্শানোর জন্য লিখিত নোটিশ দেয়া হয়েছে। উপযুক্ত কারণ দেখাতে ব্যার্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন