মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ফুলকপির দাম না পেয়ে কৃষকদের লোকসান

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০১-২০২৫ ইং
চুয়াডাঙ্গা ও মেহেরপুরে ফুলকপির দাম না পেয়ে কৃষকদের লোকসান

চলতি মৌসুমে প্রচুর পরিমাণ জমিতে ফুলকপির আবাদ হলেও বাজারে চাহিদা না থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। খেতের কপি বিক্রি তো দূরের কথা, বিনামূল্যে নিতেও যেন আগ্রহী নন কেউ। ফলে কৃষকরা গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে এসব কপি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর ও মেহেরপুরে বিভিন্ন মাঠে ফুলকপি চাষীরা এসব তথ্য জানান।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে মৌসুমী ফসল ফুলকপি চাষ করে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। বাজারে চাহিদার অভাবে ২-৩ টাকা পিস দরে ফুলকপি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। খেতের কপি বিক্রি তো দূরের কথা, অনেক সময় পাইকারি ক্রেতাও পাওয়া যাচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকরা ট্রাকে করে ফুলকপি এনে মাত্র ২ টাকা পিস দরে বিক্রি করছেন। আন্দুলবাড়ীয়া গ্রামের কৃষক সাজেদুর রহমান বলেন, ‘একটি ফুলকপির চারা কিনতে ৩ টাকা লেগেছে। অথচ এখন প্রতি পিস কপি বিক্রি করতে হচ্ছে ২ টাকায়। খেতের পুরো ফসল বিক্রি করলেও খরচ উঠবে না।’
বাজদিয়া গ্রামের কৃষক শাকিল হোসেন জানান, ‘বাজারে এত বেশি ফুলকপি এসেছে যে, বিক্রি করা অনেক কষ্টের হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাইকারি ক্রেতা না পেলে রাস্তায় বসে কপি বিক্রি করতে হয় ২-৩ টাকায়।’ আন্দুলবাড়ীয়া বাজারে এক ক্রেতা মহাসিন হোসেন বলেন, ‘শুরুতে এক কেজি ফুলকপি ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হতো। এখন জোর করে ২ টাকা পিস দরে ব্যাগ ভর্তি করে দিচ্ছেন কৃষকরা।’
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘গত বছর ফুলকপির দাম বেশি পাওয়ায় কৃষকরা এবার অধিক জমিতে আবাদ করেছেন। পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন বেশি হয়েছে, যা বাজারে সরবরাহ বাড়িয়েছে।’

``

মেহেরপুরে একই চিত্র। জেলার সাহারবাটি, মাইলমারী ও টেংরামারী গ্রামের কৃষকরা জানান, বিঘাপ্রতি ফুলকপি চাষে ৩০-৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু এখন ৫ হাজার টাকাতেও পুরো ফসল বিক্রি করতে পারছেন না। টেংরামারীর মতিয়ার বলেন, ‘গত সপ্তাহে কিছু ব্যবসায়ী বিঘাপ্রতি ১০-১২ হাজার টাকায় ফুলকপি কিনলেও এখন আর ক্রেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।’
মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিজয় কৃষ্ণ হালদার জানান, ‘কৃষকরা একই ফসল বেশি জমিতে আবাদ করায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে। যদি বিভিন্ন ফসলের চাষ করতো, তাহলে এই ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।’ ফুলকপি চাষে এমন পরিস্থিতি কৃষি ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার পাশাপাশি চাষিদের পরিকল্পনার অভাবের প্রতিফলন বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।
বিজয় কৃষ্ণ জানান, বর্তমানে কৃষকদের লোকসান পুষিয়ে নিতে কিছু করার সুযোগ নেই। তবে ভবিষ্যতে প্রণোদনার সুযোগ এলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এদিকে, ফুলকপিতে কৃষকদের লোকসানের বিষয়ে জানতে চাওয়া বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে এ বিষয়ে বেশিরভাগই ব্যবসায়ীরাই মন্তব্য করতে রাজি হননি। একজন ব্যবসায়ী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সবজি একসঙ্গে বাজারে উঠেছে। ফলে চাহিদা কমেছে। আমরা আপাতত ফুলকপি কেনা বন্ধ রেখেছি।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী