মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

আজ পরিদর্শনে আসছেন বেফাক মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক

  • আপলোড তারিখঃ ০৪-০১-২০২৫ ইং
আজ পরিদর্শনে আসছেন বেফাক মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক

আলমডাঙ্গায় উপজেলার পাঁচকমলাপুরে অবস্থিত হাজী শামসুজ্জোহা জামি’আ আরাবিয়া দারুল উলুম মাদরাসা থেকে এ বছর প্রথমবারের মতো দাওরা হাদিস সম্পন্ন করছেন শিক্ষার্থীরা। এর মধ্যদিয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হাজী শামসুজ্জোহা দাওরা হাদিস চালুর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা বাস্তবে রূপ নিলো। এই অর্জন উদ্যাপন করতে আজ শনিবার মাদরাসা প্রাঙ্গণে খতমে বুখারী ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক (দাঃবাঃ)। তিনি মাদরাসা পরিদর্শনের পাশাপাশি খতমে বুখারী মাহফিলে অংশ নেবেন এবং শিক্ষার্থীদের পাগড়ী পরিধান করাবেন।
মাদরাসার পরিচালক এবং প্রতিষ্ঠাতা শামসুজ্জোহার সন্তান আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক বলেন, ‘এই অর্জন আমাদের মাদরাসার জন্য গর্বের। এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা আমার বাবা হাজী শামসুজ্জোহা আজ থেকে কয়েক দশক আগে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, তা আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। তিনি চেয়েছিলেন এই মাদরাসাটি শুধু সাধারণ ধর্মীয় শিক্ষা প্রদান করবে না, বরং এখানে উচ্চতর ইসলামী শিক্ষা, বিশেষ করে দাওরা হাদিস চালু হবে। সেই লক্ষ্য অর্জিত হওয়ায় আমি আল্লাহর কাছে অশেষ কৃতজ্ঞ।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা যখন এই মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন, তখন অনেক চ্যালেঞ্জ ছিল। সেই সময় কেউ ভাবেনি, এই মাদরাসাটি একদিন এই পর্যায়ে পৌঁছাবে। কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমত এবং এলাকার মানুষের সহযোগিতায় আমরা সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করতে পেরেছি। আজ মাদরাসার ১৪ জন শিক্ষার্থী সফলভাবে দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেছে, যা পুরো এলাকার জন্য গর্বের বিষয়। এছাড়াও পরপর তিনবার বিভাগীয় এবং জেলা পর্যায়ে মাদরাসাটি সেরা পুরস্কারপ্রাপ্ত হয়েছে।’
সাহিদুজ্জামান শিক্ষার্থীদের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের মাদরাসার শিক্ষার্থীরা শুধু দাওরা হাদিস সম্পন্ন করেনি, বরং এ বছর ৮ জন বোর্ড স্ট্যান্ড করেছে। এটি আমাদের জন্য সম্মানের। শিক্ষার্থীরা কঠোর পরিশ্রম করেছে, তাদের শিক্ষকদের নির্দেশনা মেনে চলেছে, এবং তাদের পরিবারের অবদানের জন্যও আমরা কৃতজ্ঞ। আমি তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া করছি।’ মাদরাসার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা দাওরা হাদিস চালু করার পাশাপাশি শিক্ষার মান আরও উন্নত করতে চাই। আমাদের লক্ষ্য, এই মাদরাসাকে একটি আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী শিক্ষার কেন্দ্রে রূপান্তর করা। আমরা চাই, এখান থেকে শিক্ষার্থীরা আলেম হওয়ার পাশাপাশি সমাজের জন্য কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদরাসাটি এখন দাওরা হাদিস পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এটি আমাদের জন্য সবথেকে বড় অর্জন। আমাদের এলাকার শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের মাদরাসায় থেকেই পরীক্ষা দিতে পারবে। এটি তাদের সময় ও অর্থ সাশ্রয় করবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।’
এদিকে, হাজী শামসুজ্জোহা মাদরাসার দাওরা হাদিস সম্পন্ন এবং খতমে বুখারী মাহফিল এলাকার ইসলামি শিক্ষার উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। গ্রামের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবে, এটা মাদরাসা প্রতিষ্ঠার সময় কেউ কখনো কল্পনাও করেনি। গ্রামবাসীরা বলেন, ‘আমরা কল্পনা না করলেও তাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা হাজী শামসুজ্জোহার সন্তান টরিক সাহেব। যা সকল গ্রামবাসীর জন্য অত্যান্ত সম্মানের এবং গ্রামের প্রতিটি শিশু-কিশোর, যুবকদের জন্য অনুপ্রেরণার।’
মাদরাসার এই সফলতায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মুফতি ও আলেমদের (শাইখুল হাদিস) একসঙ্গে পাঁচকমলাপুরের মাটিতে আসতে বাধ্য করছে। আজ দুপুরে মাদরাসা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া খতমে বুখারী ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড-বেফাকুল মাদারাসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা মাহফুজুল হক (দাঃবাঃ)। তিনি মাদরাসা পরিদর্শনের পাশাপাশি খতমে বুখারী মাহফিলে বক্তব্য প্রদান করবেন। এছাড়াও চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ এবং যশোর থেকে শতাধিক মুফতি ও আলেম (শাইখুল হাদিস) এই মাহফিলে যোগ দেবেন। বিশিষ্ট আলেমদের উপস্থিতি মাদরাসা প্রাঙ্গণকে একটি জ্ঞানগর্ভ সম্মেলনস্থলে পরিণত করবে বলে জানিয়েছেন মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান শামীম।
উল্লেখ থাকে যে, দাওরা-এ-হাদিস বা দাওরায়ে হাদিস অথবা দাওরা হাদিস বা তাকমিলুল হাদিস হলো ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দরসে নিজামি দ্বারা পরিচালিত কওমি তথা দেওবন্দি মাদরাসামসূহের সর্বোচ্চ শ্রেণির নাম। দাওরা হাদিস সম্পন্নকারী একজন ছাত্রকে সাধারণত মাওলানা, ফাযেল/আলেম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। দারসে নিজামি অনুযায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে দাওরা হাদিস পর্যন্ত কোর্সের ব্যাপ্তি ১৬-১৭ বছর। এর সাথে হিফজুল কুরআন যোগ করা হলে তার ব্যাপ্তি ২০ বছর পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশে প্রথম ১৯০৮ সালে দারুল উলুম হাটহাজারিতে দাওরা হাদিস জামাত (শ্রেণি) চালু করা হয় এবং ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার দাওরায়ে হাদিসকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান প্রদান করে।
উল্লেখ্য, চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক, এক সময়ের সাংবাদিক ও বর্তমান বিশিষ্ট প্রবাসী ব্যবসায়ী আরিফুজ্জামান আরিফ ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রকাশক-সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের পিতা মরহুম শামসুজ্জোহা বিশ্বাস একটি সুন্দর দ্বীনি শিক্ষার ভাবনা নিয়ে ২০০১ সালে মাত্র ১৩ জন ছাত্র ও একজন শিক্ষক নিয়ে একটি চালাঘরে আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের পাঁচকমলাপুর গ্রামে ‘পাঁচকমলাপুর দারুল উলুম কওমিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ নামে দ্বীনি শিক্ষার এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১০ সালে হাজি শামসুজ্জোহা বিশ্বাসের মৃত্যুর পর এই মাদ্রাসাটির পরিচালকের দায়িত্ব নেন তাঁর পুত্র চুয়াডাঙ্গার কৃতী সন্তান ও দানবীর হিসেবে খ্যাত আলহাজ্ব সাহিদুজ্জামান টরিক। একজন সুযোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে পিতার সুস্বপ্নকে আন্তরিকতা, ভালোবাসা, মেধা ও শ্রম দিয়ে নিয়ে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়। মাদ্রাসাটি পরিচালনার জন্য সাহিদুজ্জামান টরিক চুয়াডাঙ্গায় তিন তারকা মানের হোটেল সাহিদ প্যালেস অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ করেছেন। সেখানে থেকে আয়কৃত সম্পূর্ণ অর্থ এ মাদরাসা কার্যক্রমে ব্যয় করা হয়। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মাদ্রাসাটিতে ছাত্রদের জন্য লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। যেখানে তিন বেলা মাদ্রাসার সকল ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে বিনামূল্যে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী