মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

উত্তরের হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

  • আপলোড তারিখঃ ০৩-০১-২০২৫ ইং
উত্তরের হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

চুয়াডাঙ্গায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। উত্তরের হিমেল হাওয়া ও তীব্র শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছে এ জেলায়। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। জেলা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিস বলছে, এই তাপমাত্রা আজ শুক্রবার সামান্য কম-বেশি হতে পারে বা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে, শীতের তীব্রতায় সবচেয়ে বেশি ভুগছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। কৃষি শ্রমিক, রিকশাচালক ও হোটেল কর্মচারীদের ভোরের কাজ শুরু করতে গিয়ে ঠান্ডা বাতাসের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা শহরের এক হোটেল কর্মচারী কাজল বলেন, ‘ভোরে ফজরের আজানের পরেই কাজে আসতে হয়। এই ঠান্ডায় কাজে আসা খুব কষ্টকর। কিন্তু পেটের দায়ে কাজ তো করতেই হবে।’ এছাড়া শিশু ও বৃদ্ধরা শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতাল ও ফার্মেসিগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীদের ভিড় বাড়ছে।
জেলার বিভিন্ন গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শীতবস্ত্রের অভাবের চিত্রও ফুটে উঠেছে। অনেক পরিবার একমাত্র পুরোনো চাদর, শীতের পোশাক এবং কম্বলেই শীত পার করার চেষ্টা করছেন। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আলুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো নতুন শীতবস্ত্র নেই। পুরাতন যা আছে, তা দিয়ে এই শীতে থাকা খুব কষ্টকর।’
তবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি শীতবস্ত্র সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও রাজনৈতিক সংগঠন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি সংগঠন এরই মধ্যে কম্বল বিতরণ শুরু করলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম বলছেন শীতার্তরা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রাখার কথা জানিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘সারা দেশের মধ্যে সবথেকে বেশি শীতের কারণে এ জেলার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়েছে। বিশেষ করে শীতের তীব্রতায় অনেক পরিবার অসহায় হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। যা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকবে।’
শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমরা গ্রামাঞ্চলে শীতবস্ত্র পৌঁছানোর পাশাপাশি শহরেও এসব বিতরণ অব্যহত রেখেছি। আমাদের উদ্দেশ্য শীতের তীব্রতায় মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও কমানো।’ তিনি বলেন, ‘স্থানীয় জনগণের পাশে দাঁড়াতে বিএনপি ও আমাদের অঙ্গ সংগঠনগুলোর সদস্যরা এগিয়ে আসছে। পাশাপাশি সরকারের কার্যকরি পদক্ষেপের আরও প্রয়োজন রয়েছে।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘এই জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘এ তাপমাত্রা শুক্রবার কিছুটা কম-বেশি বা অপরিবর্তিত থাকবে। এরপর শনিবার থেকে তাপমাত্রা আবার কিছুটা বাড়বে এবং আগামী ৯ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা কমে ৯ ডিগ্রিরও নিচে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ জামিনুর রহমান বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের শীতের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দিচ্ছি।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী