একাধিকবার মন্ত্রী, এমপি, সচিব চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার প্রস্তাবিত দৌলৎগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দর পরিদর্শন করলেও এখনও আলোর মুখ দেখেনি। গতকাল রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সরকারি গেজেটভুক্ত জীবননগর উপজেলার প্রস্তাবিত দৌলৎগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ সরকারের নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুন্সী মো. মনিরুজ্জামান।
এই প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) শহিদুল ইসলাম, অর্থ মন্ত্রণালেয়র উপসচিব (রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠান-২) জাকির হোসেন, ঢাকার কাস্টমসের রিস্ক ম্যানেজমেন্ট কমিশনারেট (যুগ্ম কমিশনার) মো. জাহিদুল ইসলাম, নৌ-পরিবহণ মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. আব্দুল আউয়াল এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম।
স্থলবন্দর পরিদর্শনকালে স্থানীয় সাংবাদিকেরা স্থলবন্দরের কার্যক্রম বিষয় জানতে চাইলে তারা সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। তবে কথা বলার জন্য ঢাকায় যোগাযোগের জন্য বলেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘এই বন্দর হবে কি না, সেটা আমরা কেউ জানি না। তবে এখানে একটি চক্র বিভিন্ন সময়ে বড় বড় কর্মকর্তাদের নিয়ে স্থলবন্দর পরিদর্শন করান, আর এই এলাকার জমির দামগুলো তারা বাড়িয়ে দেন। পাশাপাশি বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করেন।’
জীবননগর প্রস্তাবিত দৌলৎগঞ্জ-মাঝদিয়া স্থলবন্দর বাস্তবায়ন কমিটির সূত্রে জানা যায়, ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দরটি শুল্ক স্টেশন হিসেবে চালু ছিল। কিন্তু ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় শুল্ক স্টেশনটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ১৯৭২ সালে শুল্ক স্টেশনটি ফের চালুর নির্দেশ দেয়। পরবর্তীতে আবারো এটি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ১৯৯৮ সালের ১৫ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড আবার শুল্ক স্টেশনটি চালুর প্রজ্ঞাপন জারি করে বন্দরটিতে ১৯টি পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সালের ১১ জুন আরেকটি প্রজ্ঞাপনে শুল্ক স্টেশন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে নির্দেশ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। সেটাও আলোর মুখ দেখেনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সূত্রে জানা যায়, দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দর সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত সব সুবিধা বিদ্যমান রয়েছে। বন্দরটি থেকে ভারতের জাতীয় সড়কের দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার। ঢাকার সাথে দূরত্ব ২৪০ কিলোমিটার। তাছাড়া ভারতীয় অংশে জাতীয় মহাসড়ক থেকে সব স্থানে যাতায়াত করা সম্ভব। জাতীয় সড়ক থেকে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের যে দূরত্ব, তার থেকে অনেক কম দূরত্ব অর্থাৎ ২৫ কিলোমিটার দৌলতগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দর। যার কারণে ভারতের সাথে দেশের অন্যান্য স্থলবন্দরের চেয়ে দ্রুত সময়ে পণ্য আমদানি এবং রপ্তানি ও পরিবহন খরচ অনেকাংশে সাশ্রয়ী হবে।
এদিকে, জীবননগরে প্রস্তাবিত দৌলৎগঞ্জ-মাজদিয়া স্থলবন্দর পরিদর্শনের সময় স্থানীয়দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আলা-আমীন, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।
সমীকরণ প্রতিবেদন