মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ‘চিকিৎসা অবহেলায়’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ২৫-১২-২০২৪ ইং
চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ‘চিকিৎসা অবহেলায়’ রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ‘চিকিৎসায় অবহেলার’ অভিযোগ তুলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ফারুক হোসেনের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন তার পরিবার ও স্বজনরা। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় চত্বরে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। পরবর্তীতে নিহত সেনা সদস্য ফারুক হোসেনের ছেলে মোস্তফা ইকবাল হৃদয় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রাণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।
মানববন্ধনে নিহতের ছেলে মোস্তফা ইকবাল হৃদয় অভিযোগ করে বলেন, ‘গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আমার বাবাকে জরুরি বিভাগে নেয়া হয়। বাবার অবস্থা গুরুতর হওয়া সত্ত্বেও ডা. মোর্শেদ আলম চিকিৎসা দিতে দেরি করেন। বাবাকে অক্সিজেন দেয়ার জন্য অবজারভেশনে নেয়া হলেও সেখানে কেউ ছিলেন না। ডাকাডাকির পর একজন ইন্টার্ন চিকিৎসক আসেন, কিন্তু তিনি সঠিকভাবে অক্সিজেন লাগাতে ব্যর্থ হন এবং বাবাকে ওয়ার্ডে নিতে বলেন। এসময় বাবার অবস্থা আরও জটিল হয়।’
হৃদয় আরও অভিযোগ করেন, ‘ছয়তলায় পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে নেয়ার সময় লিফ্টের সামনে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়। এমনকি জরুরি লিফ্টটিও বন্ধ ছিল। ওয়ার্ডে নেয়ার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত দুজন নার্স অক্সিজেন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, এটি তাদের কাজ নয়, ওয়ার্ডবয়কে খুঁজে এনে অক্সিজেন দিতে হবে। তারা অক্সিজেনসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে দেরি করেন। এবং তাদের চিকিৎসা শুরু করার মধ্যেই আমার বাবার মৃত্যু হয়।’

হৃদয় বলেন, ‘যদি জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবার অবস্থা বুঝে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেন, তাহলে হয়ত আমার বাবা আজ বেঁচে থাকতেন। আমি এবং আমার পরিবার এ ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি জানিয়ে এই মানববন্ধন করছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা সংখ্যায় কম হলেও আমাদের দাবি সঠিক।’

এদিকে, ঘটনার দিন হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে কর্মরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রোমানা পারভীন ও নাজমুন নাহার এবং ওয়ার্ডবয় শফিকুল ইসলাম অভিযোগ তুলেছিলেন রোগীর স্বজনরা তাদের সঙ্গে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন এবং রোগীদের ফাইলপত্র তাদের ওপর ছুড়ে মারেন। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছে।

চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সদর থানায় করা সাধারণ ডায়েরি ও তাদের বিরুদ্ধে উচ্ছৃঙ্খল আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তফা ইকবাল হৃদয় বলেন, ‘কোনো নার্স বা ওয়ার্ডবয়ের সঙ্গে এমন কোনো আচরণ আমরা করিনি।’

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বরাবর লিখিত স্মারকলিপিতে ঘটনার সময় সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোর্শেদুল ইসলাম, সিনিয়র স্টাফ নার্স রোমানা পারভীন, নাজমুন নাহার, ওয়ার্ডবয় শফিকুল ইসলাম এবং সে সময় দায়িত্বরত তত্ত্বাবধায়ক ভারপ্রাপ্ত ডা. এহসানুল হক তন্ময়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।

এছাড়ও স্মারকলিপিতে ৩ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলো হলো- ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। হাসপাতালের সকল অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি প্রতিরোধে মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে। মনিটরিং সেলে ৩ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও ৩ জন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি রাখতে হবে। প্রতি মাসে দুই দিন হাসপাতালের কার্যক্রম সম্পর্কে শিক্ষার্থী প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অবহিত করতে হবে। লাইসেন্সবিহীন ক্লিনিক বাতিল করতে হবে এবং হাসপাতালে কর্তব্যরত সকলের দায়িত্বপালনে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
চিকিৎসক ও কর্তব্যরত নার্সদের দায়িত্ব অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. বিদ্যুৎ কুমার বলেন, ‘রোগীকে গুরুতর অবস্থায় জরুরি বিভােেগ আনা হয়েছিল। এবং রোগীকে হাসপাতালে নেয়ার কিছু সময়ের মধ্যে তার মৃত্যু ঘটে। এখানে চিকিৎসায় অবহেলার কোনো সুযোগ ছিল না। যদি এমনটি ঘটে থাকে, তাহলে রোগীর স্বজনদের সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ করতে হতো। কিন্তু তারা কর্তব্যরত নার্সদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ফাইলপত্র তাদের ওপর ছুড়ে মারেন।’

রোগীর স্বজনদের মানববন্ধনের বিষয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘রোগীর স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছে, এটা জেনেছি। তবে তাদের মানববন্ধন যৌক্তিক নয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক এবং নার্সরা তাদের সাধ্যমত সেবা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তাদের আচরণ উচ্ছৃঙ্খল ছিল, যা চিকিৎসা সেবা দিতে বিঘ্ন ঘটিয়েছে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী