চুয়াডাঙ্গার দুটি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে লটারিতে চান্সপ্রাপ্ত সন্তানদের ভর্তি নিয়ে জটিলতা কাটেনি। গতকাল সোমবারও দিনব্যাপী চান্সপ্রাপ্তদের ভর্তির দাবিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন অভিভাবকরা। বিকেল পৌনে চারটা থেকে সাড়ে চারটা পর্যন্ত জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে জেলা শিক্ষা অফিসারকে এক প্রকার অবরুদ্ধ করে রাখেন অভিভাবকরা। শেষ পর্যন্ত পুলিশ এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী জেলা শিক্ষা অফিসারকে অনেকটা টেনে হিচড়ে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত করেন। তবে জেলা প্রশাসক ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ২৬ ডিসেম্বর ভর্তি নেয়ার ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন।
জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি জে) সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির লটারিতে চান্সপ্রাপ্ত কয়েকজন শিক্ষার্থী বয়সের কারণে এখনো ভর্তি হতে পারেনি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৯ বছর বয়স অতিক্রম করলে তারা তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবে। তবে সন্তানদের বয়স ৯ বছর পার হলেও ভর্তির দাবিতে তাদের অভিভাবকরা এই অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। ফলে অভিভাবকদের মধ্যে লটারি কার্যক্রম নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। একযোগে দেশের সব সরকারি বিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে গত ১২ নভেম্বর আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়, চলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। গত ১৭ ডিসেম্বর চান্সপ্রাপ্তদের তালিকা প্রকাশ করে নোটিশ বোর্ডে টাঙিয়ে দেয় দুটি স্কুল কর্তৃপক্ষ। এরপর ১৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় ভর্তির কার্যক্রম। যা গতকাল ২২ ডিসেম্বর শেষ হয়। ফলাফলে চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৩৫ জন ও ভিক্টোরিয়া জুবিলি (ভি জে) সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ৫৮ চান্সপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীর বয়স সরকার নির্ধারিত বয়স ৯ বছর পার হয়ে যাওয়ায় তারা ভর্তি হতে পারেনি।

ভর্তির দাবি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গত রোববার থেকেই অভিভাবকরা শিশু শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। গতকাল সোমবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়ে তারা অবস্থান করেছেন দিনব্যাপী। এদিন অনেক কর্মকর্তা ভেতরের রাস্তা বা পুরাতন কালেক্টরেট ভবনের সামনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন।
এদিকে, গতকাল সোমবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মিটিং শেষ করে বের হচ্ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা শিক্ষা অফিসার ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিল আরা চৌধুরী। এসময় উত্তেজিত নারী অভিভাবকরা তাকে ঘিরে রাখেন। এসময় পুরুষ অভিভাবকদেরও দেখা যায়। পরে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলীর নেতৃত্বে একটি টিম সেখানে উপস্থিত হন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নিচ থেকে অনেকটা টেনে-হিচড়েই তাকে ভিড় থেকে বের করা হয়।
এসময় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হোসেন আলী বলেন, ‘জেলা প্রশাসক মহোদয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে জানিয়েছেন, ২৬ তারিখে তাদের ভর্তি নিয়ে নেয়া হবে। এই সমস্যার সমাধান হয়েছে।’
সমীকরণ প্রতিবেদন