মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে দুই বছরে কোনো কমিটির সভার রেজ্যুলেশন হয়নি

  • আপলোড তারিখঃ ২৪-১২-২০২৪ ইং
চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে দুই বছরে কোনো কমিটির সভার রেজ্যুলেশন হয়নি
  • উন্নয়ন ও আর্থিক খাতের কাজে জড়িয়েছেন নিজের স্বামীকে
  • রেজ্যুলেশন ছাড়াই জাতীয় দিবস ও ধর্মের নামে ছাপানো হয় রশিদ
  • অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিবাদ করলে বদলির হুমকি
  • ফরিদা ইয়াছমিনের অনিয়মের সঙ্গী ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুন
  • শিক্ষার্থীদের পাঠানো হয় আনোয়ারার স্বামীর মেডিকেল সেন্টারে

যে রেজ্যুলেশনের ওপর ভর করে চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের কথা বলছেন, সেই রেজ্যুলেশনই হয়নি। মূলত চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানে গত দুই বছরে কোনো কমিটির একটি সভারও রেজ্যুলেশন হয়নি। নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করার নানা অভিযোগ উঠেছে। অফিসের স্টাফদের বদলি করার হুমকি, নার্সিং ইনস্টিটিউটে যে কোনো উন্নয়নমূলক কাজে স্বজনপ্রীতি, ভর্তিতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে সরকারি নীতিমালাকে অগ্রাহ্য করার মতো নানা তথ্য বেরিয়ে আসছে। এমনকি অ্যাডমিট কার্ড বা রেজিস্ট্রেশন কার্ড নিতেও শিক্ষার্থীদের টাকা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। মিলের খাবারের বাজার থেকে শুরু করে সবখানেই স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন।

গতকাল সোমবার ‘চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে ৭৫ শিক্ষার্থীর ভর্তিতে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত ফি’র চেয়ে অতিরিক্ত ২-৪ হাজার টাকা আদায়’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর আরও তথ্য আসছে এ প্রতিবেদকের কাছে। সোমবার সরেজমিনে চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে গিয়ে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিনের সাথে আলাপ করা হয়। তিনি প্রথম দিকে নিজেই রেজ্যুলেশন দেখার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত কোনো রেজ্যুলেশন তিনি দেখাতে পারেননি। মূলত তার দায়িত্ব নেয়া দুই বছরে চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটে কোনো প্রকার কমিটির রেজ্যুলেশনই হয়নি। তিনি নোটিশ বই বের করে তার নিজের সিল-স্বাক্ষর করা নোটিশে সকলের প্রাপ্তি বা জ্ঞাতসারের স্বাক্ষর দেখান। তবে সভার রেজ্যুলেশন নেই সেটিও তিনি শেষ পর্যন্ত স্বীকার করেন।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিনের বিরুদ্ধে আরও উঠেছে নানা অভিযোগ। অফিসের কোনো কর্মকর্তা যদি তার অনিয়মের প্রতিবাদ করে, তবে তাকে বদলির হুমকি দেন তিনি। চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তিনি তার স্বামীকেও করেছেন যুক্ত। কাজে-অকাজে তার স্বামী চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের একজন কর্মকর্তা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বিভিন্ন বিষয়ে তাকে দেয়া হয় গুরু দায়িত্ব। বিশেষ করে যখন কোনো আর্থিক কাজ হয়ে থাকে, তখন ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিনের স্বামী আছেনই। ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিনের সহযোগী হিসেবে পদক্রমে সিনিয়র না হয়েও অনেক দায়িত্ব পালন করেন নার্সিং ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কমিটির অন্য সদস্যরা বাজার কাজে খুব বেশি যুক্ত না থাকলেও কাজটি আনোয়ারার দখলে। নার্সিং ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুনের স্বামীর আবার আছে সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সেই প্রতিষ্ঠানটিও চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের অঙ্গ-প্রতিষ্ঠান করে তুলেছেন আনোয়ারা খাতুন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের ভর্তির সময় মেডিকেল টেস্টের জন্য বলা হয়। যেই টেস্ট চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালেও করা যায়। তাতে খরচ হয় ৪০০-৫০০ টাকা। অথচ বাধ্যতামূলকভাবে শিক্ষার্থীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল মেডিকেল সেন্টারে পাঠিয়ে অতিরিক্ত অর্থে মেডিকেল টেস্ট করানো হয়। এতে ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন ও ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গা নার্সিং ইনস্টিটিউটের ভর্তি ফি’র জন্য অর্থ আদায় রশিদে দেখা গেছে, ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে ১৫টি খাতে ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে। এছাড়া ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সে ১৪টি খাত দেখিয়ে ৮ হাজার ৫ শ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সে হিসেবে ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সে ৫০ জনের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ হাজার ১৯০ টাকা অতিরিক্ত অর্থ হিসেবে আদায় করেছে এবং ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি কোর্সের ২৫ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে জনপ্রতি আরও ১ হাজার ৬৯০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।

খাতা-পত্র ও পরিপত্রের বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জাতীয় দিবস উদ্যাপনে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা নেয়া যাবে। তবে চুয়াডাঙ্গায় কোনো কমিটির সিদ্ধান্ত বা রেজ্যুলেশন ছাড়াই কৌশলভাবে জাতীয় দিবস ও ধর্ম নামে ছাপানো হয়েছে রশিদ। নেয়া হচ্ছে ১৫৪০ টাকা। অথচ ধর্ম বলে কোনো খাতের কথা অধিদপ্তর থেকে বলাই হয়নি। এভাবে নানা কৌশল অবলম্বন করে অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন। কোনো কমিটির সভা বা রেজ্যুলেশন ছাড়াই তিনি নাম ভাঙিয়ে কমিটির নামে করছেন এসব অনিয়ম। অনিয়ম করলেও তিনি তা মানতে নারাজ। রেজ্যুলেশন না থাকলেও দাবি সভাও হয়েছে, সিদ্ধান্তও হয়েছে। তবে তিনি শুধু ভুল করেছেন, রেজ্যুলেশন করেননি।
নার্সিং ইনস্টিটিউটের ইন্সট্রাক্টর ইনচার্জ ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, ‘সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে আমার একার কোনো দোষ নেই। আর সভাও হয়েছে, সিদ্ধান্তও হয়েছে। শুধু আমি দায়িত্ব নেয়ার পর কোনো রেজ্যুলেশন হয়নি। রেজ্যুলেশন করা হয়নি, এটাই শুধু আমার ভুল।’ অফিসে কর্মচারী দিনে দিনের পর দিন না এসেও বেতন তুলছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘কারো ক্ষতি হবে, এমন কাজ আমি করিনি। সে জন্য ঊর্ধ্বতন কাউকে লিখিতভাবে জানাইনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার এখানে কোনো অন্যায় হয়নি। কে বা কারা আমাকে নিয়ে তথ্য দিচ্ছে, তাদেরকে নিয়ে আসেন। মুখোমুখি কথা হবে।’ নার্সিং ইন্সট্রাক্টর আনোয়ারা খাতুন বলেন, ‘আমার কোনো প্রতিষ্ঠান আছে, সেটি এখানে কেউ জানে না। যে যেখান থেকে ইচ্ছা পরীক্ষা করিয়েছে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী