মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গায় টানা তিন দিন পর কাটল শৈত্যপ্রবাহ, কমেনি শীতের দাপট

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-১২-২০২৪ ইং
চুয়াডাঙ্গায় টানা তিন দিন পর কাটল শৈত্যপ্রবাহ, কমেনি শীতের দাপট

চুয়াডাঙ্গায় টানা তিন দিন পর শৈত্যপ্রবাহ কাটলেও শীতের দাপট কমেনি। কুয়াশা না থাকলেও উত্তরের হিমেল হাওয়া ও প্রচণ্ড ঠান্ডায় প্রাণ-প্রকৃতিতে স্বস্তি নেই। গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গা জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৩ শতাংশ। আর এদিন সকাল ছয়টায় চুয়াডাঙ্গার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৬ শতাংশ। এর আগে গত রোববার এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলায় তাপমাত্রার পারদ নামতে শুরু করে। ১২ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার এক দিনে তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পরদিন শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেই এ জেলায় শুরু হয় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) এ জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিও সারাদেশের মধ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল।

সরেজমিনে গতকাল সোমবার সকালে চুয়াডাঙ্গা শহর ও শহরতলীর আশেপাশে ঘুরে দেখা যায়, শীতে সাধারণ মানুষের অবস্থা কাহিল। বিশেষ করে মাঠে কাজ করা কৃষক শ্রেণির এই শীতে কষ্ট বেড়েছে কয়েক গুণ। সদর উপজেলার হানুরবাড়াদি গ্রামের কৃষক আবু হানিফ বলেন, ‘শীতে আমাদের কিছু করার নেই। এখন তো অনেকটা সয়ে গেছে। কাজ না করলে ভালো ফসল হবে না। আবার এখন বেলা ছোট। সকাল দেখতে দেখতে দুপুর, দুপুর থেকে কখন সন্ধ্যা হচ্ছে টের পাচ্ছি না।’

একই এলাকার আরেক কৃষক রাজন মিয়া বলেন, ‘কী করব বাপু, এভাবেই চলছে। আমাদের দেখার কেউ নেই। আর দেখেই বা কী হবে? কাজ না করলে খাবার হবে না।’ সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামের দিনমজুর সজিব উদ্দিন বলেন, ‘অন্যের ভুইতি (জমিতে) কাম-কাজ করেই খায়। শীত আর গরমে কাজ করতে আমাদের খুব খুব কষ্ট।’ নফরকান্দি গ্রামের মুদি দোকানি আবু হানিফ বলেন, ‘দোকানের মধ্যে বসেও দোকানদারি করতে মন বলছে না। শীত আসলেই কষ্ট বেশি হয়। গরম তো কম বেশি সয়ে যায়। তবে শীতকালে একেবারেই কাজ করা যায় না। অল্প অল্প করে বিভিন্ন জিনিস খুচরা বিক্রি করি। তবে হাত অবশ হয়ে যাচ্ছে। তাই কাজ করা কঠিন।’
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান বলেন, গতকাল সোমবার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলিসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ৮৩ শতাংশ। তিন দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলার পর গতকাল তা কেটেছে। তবে শীতের মাত্রা কমেনি। উত্তরের হিমেল হাওয়া আছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী