মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন

  • আপলোড তারিখঃ ১৭-১২-২০২৪ ইং
চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহসহ সারা দেশে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন


নতুন প্রজন্মের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস আর বৈষম্যহীন সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে সারা দেশে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে ৫৩তম মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দেশের জন্য আত্মদানকারী বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গতকাল সোমবার সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে সর্বস্তরের লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল। সকালে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে শুরু হয় দিবসের কর্মসূচি। দিনভর জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন লাখো জনতা। দিনের শুরুতেই মহান বিজয় দিবসে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে প্রথমে শ্রদ্ধা জানান প্রেসিডেন্ট। এরপরে সকাল ৭টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা শ্রদ্ধা জানান। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর প্রধান উপদেষ্টা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এসময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস হোর্তা। এসময় বিউগলে করুণ সুর বেজে উঠে। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাদের সালাম জানান। পরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে দিনভর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ঢাকা জেলা বিএনপি’র সভাপতি খন্দকার আবু আশফাক, সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায়সহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
এদিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহে নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল প্রথম প্রহরে ৩১ বার তোপধ্বনি, সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, বিজয় মেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

``

চুয়াডাঙ্গা:
আয়োজনে ভিন্নতা থাকলেও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা আর বিজয়ের আনন্দে সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় উদ্যাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস-২০২৪। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভসূচনা করা হয়। সকাল সাতটায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে মুক্তমঞ্চে বিজয় মেলার উদ্বোধন, শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। শিশুদের জন্য মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণ, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি ভবন/মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থাপনাসমূহে আলোকসজ্জা। জাতীয় পতাকা ও রঙিন নিশান দ্বারা প্রধান প্রধান সড়ক, সড়ক দ্বীপ এবং বিভিন্ন স্থাপনাসমূহ সজ্জিতকরণ। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন, শহিদ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত, মুক্তিযোদ্ধা ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের সুস্বাস্থ্য এবং জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে দোয়া মাহফিল, সরকারি ও বেসরকারি বিনোদনমূলক স্থান শিশুদের জন্য সকাল-সন্ধ্যা উন্মুক্ত রাখা এবং বিনা টিকিটে প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা। স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা) ছাত্র- ছাত্রীদের অংশগ্রহণে ক্রীড়া অনুষ্ঠান (ঞ-২০) ক্রিকেট টুর্নামেন্ট/নৌকা বাইচ (যেখানে সম্ভব) ফুটবল/কাবাডি/হা-ডু-ডু খেলা) এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সিনেমা হলসমূহে বিনা টিকিটে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কর্তৃক সরবরাহকৃত মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র প্রদর্শনী এবং জেলার সর্বত্র মিলনায়তনে/উন্মুক্ত স্থানে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন, জেলার সকল হাসপাতাল, জেলখানা, বৃদ্ধাশ্রম, এতিমখানা, ডে কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্র এবং শিশু পরিবার ও ভবঘুরে প্রতিষ্ঠানসমূহে বিশেষ খাবার সরবরাহ করা হয়। এছাড়াও, বেসরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দিবসটি পালন উপলক্ষে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।

প্রথম প্রহরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের শুভ সূচনা করা হয়। গতকাল সোমবার সকাল ৭টায় শহিদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। প্রথমে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, পিপিএম-সেবার নেতৃত্বে পুলিশের কর্মকর্তারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. একেএম সাইফুর রশিদের নেতৃত্বে সরকারি কলেজের শিক্ষকবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সিভিল সার্জন ডা. সাজ্জাৎ হাসান, চুয়াডাঙ্গা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেনের নেতৃত্বে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর পর্যায়ক্রমে জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, সড়ক বিভাগ, প্রকৌশল বিভাগসহ জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

``

চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির কর্মসূচি:
দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন করেছে চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠন। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এসময় অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিজয় দিবস এবার নতুনভাবে উদ্যাপিত হচ্ছে। আজ ১৬ ডিসেম্বর, সেই ঐতিহাসিক দিন, যেদিন ১৯৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর রেসকোর্স ময়দানে পাকিস্তানি বাহিনী যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে বিগত ১৭ বছর ফ্যাসিস্ট সরকারের শাসনে বিজয় দিবস যেন একটি ব্যক্তির বন্দনা ও ভারতের তাঁবেদারদের উৎসবে পরিণত হয়েছিল। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণ ছিল বঞ্চিত। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানগুলোতে শুধু আওয়ামী লীগ নেতা, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা, এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদের প্রাধান্য দেওয়া হতো। কিন্তু এখন সময় বদলেছে, প্রত্যেকটি মানুষ নিজের স্বাধীনে বিজয় দিবস উদ্যাপন করতে পারছেন। আজকের দিনটি যেন মানুষের দীর্ঘ ১৭ বছরের অপেক্ষার ফল।’
শরীফুজ্জামান আরও বলেন, ‘৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যদিয়ে দেশের মানুষ কুক্ষিগত রাজনীতি থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে। এবার বিজয় দিবস সত্যিকার অর্থে সবার জন্য মুক্তির বিজয় দিবস। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের ১৮ কোটি মানুষ একসঙ্গে এই দিনটি উদ্যাপন করছে। যেন নতুন সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত বাংলাদেশে বিজয়ের প্রকৃত চেতনায় জাতি আবারো একত্রিত হয়েছে।’

``


পরে সকাল ৮টায় চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বর থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফের নেতৃত্বে বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি। র‌্যালিটি কোর্ট মোড়, দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে ভি জে স্কুল সড়ক হয়ে বড় বাজার শহীদ বেদী প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। এরপর শহীদ বেদীতে জেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন শরীফুজ্জামান শরীফ।
বিজয় দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নেন জেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য খন্দকার আব্দুল জব্বার সোনা, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর্জা ফরিদুল ইসলাম শিপলু, সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ খালিদ মাহমুদ মিল্টন, পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, সিনিয়র সহসভাপতি রাফিতুল্লাহ মহলদার, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম নজু, জেলা মহিলা দলের সভাপতি রউফ-উর-নাহার রিনা, জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব ও বাড়াদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোবারক হোসেন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রশীদ ঝণ্টু, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ মোহাম্মদ রাজিব খান, জেলা মৎস্যজীবী দলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাবলু, জেলা ওলামা দলের সদস্যসচিব ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা আনোয়ার হোসেন, জেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক জুয়েল মাহমুদসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ।

``

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান:
বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্মানে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠান হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরের ডিসি সাহিত্য মঞ্চে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। এবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ছিল ভিন্নতা। মঞ্চে আলাদা করে কোনো চেয়ার ছিল না। অনুষ্ঠানের শুরুতেই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম খান ও পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা সংবর্ধিত অতিথি তথা বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কাছে গিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করেন।
এসময় চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র জীবিত বীর প্রতীকপ্রাপ্ত সুবেদার মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) খোন্দকার সাইদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আহমেদ মাহবুব উল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) রিয়াজুল ইসলাম, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাবেক কমান্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম সাইফুল্লাহ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়াডাঙ্গার জেলা কমিটির আহ্বায়ক আসলাম অর্ক, সদস্যসচিব সাফফাতুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সদর উপজেলা প্রশাসন, সদর উপজেলার সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সী আবু সাঈফ।
পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাগনের সংবর্ধনা প্রদান:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা জেলায় বসবাসরত পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ কর্তৃক আয়োজিত পুলিশ লাইন্স ড্রিলশেডে এ আয়োজন করা হয়। পুলিশ বীর মুক্তিযোদ্ধাগণের শুভেচ্ছা, উপহারসহ সংবর্ধনা প্রদান করেন চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রিয়াজুল ইসলাম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান, সকল অফিসার ইনচার্জগণ; ডিআইও-১, ডিএসবি; আরআই, পুলিশ লাইন্স, চুয়াডাঙ্গাসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার অফিসার ফোর্সগণ।
আড়ম্বর আয়োজনে বিজয় মেলার উদ্বোধন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন:
চুয়াডাঙ্গায় মহান বিজয় দিবস-২০২৪ উদ্যাপন উপলক্ষে বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বিপরীতে পৌর মুক্তমঞ্চ প্রাঙ্গনে এই মেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। তিন দিনব্যাপী এই বিজয় মেলার আয়োজন করে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন। তবে এই বিজয় মেলার প্রথম দিন সরকারিভাবে জেলা প্রশাসন আর বাকি দুই দিন স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও উদ্যোক্তাদের আয়োজনে চলবে। মেলায় স্টলে স্টলে গ্রাম-বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের তৈরি কুটির শিল্প, হস্তশিল্প ও কারুশিল্পের বিভিন্ন রকমের পণ্যের সমাহার স্থান পেয়েছে। যা মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ফিতা কেটে বিজয় মেলার উদ্বোধন শেষে জাতীয় সংগীতের সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। পরে অতিথিদের সাথে মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। দিনব্যাপী মেলা ঘুরে দেখা যায়, মেলার চারপাশে সাজ সাজ রব। এই বিজয় মেলাটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যকে সামনে রেখে সাজানো হয়েছে। মেলায় ৩৫টি স্টলে ছিল চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় বেশিরভাগ নারী উদ্যাক্তাদের তৈরি কুটির শিল্প, হস্তশিল্প ও কারুশিল্পের বিভিন্ন রকমের পণ্যের সমাহার। যেখানে প্রত্যেকটা পণ্যের সমাহারে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে। মেলায় বাঙালির কৃষ্টি, ঐতিহ্য, গ্রামীণ পরিবেশ তুলে ধরা হয়েছে। শীতের পিঠাপুলি থেকে শুরু করে মাছ ধরার পলো, পরিবেশবান্ধব পাটজাত সামগ্রী মেলায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উদ্যাক্তারা নিজেদের তৈরি করা সামগ্রী দিয়ে স্টল সাজিয়েছেন।
বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা:
সন্ধ্যায় বিজয় মেলা প্রাঙ্গনের সুসজ্জিত মঞ্চে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। এর আগে মেলায় আগত দর্শনার্থী ও অতিথিদের মনোযোগ বাড়াতে বাংলার স্বাধীনতার গান ও গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যের গানে গানে নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যায় অতিথিদের সাথে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার। অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত সঞ্চালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ। পরে বিজয় মেলা উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
স্টল মূল্যায়ন ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘যথাযথ মর্যাদায় সারাদিন বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিজয় দিবস উদ্যাপন সম্পন্ন করা হয়েছে। বিজয় মেলার বাংলার ঐতিহ্য গৌরবময় স্বাধীনতার ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। এই বাংলায় বিভিন্ন স্টল উদ্যোক্তা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক খণ্ড বাংলাদেশ তুলে ধরা হয়েছে। বিজয় মেলায় নতুন বাংলাদেশ তুলে ধরার চেষ্টা।’
শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা:
মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে জেলা পুলিশের আয়োজনে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স ড্রিল শেডে শিশুদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান এবং পুলিশের সকল পদমর্যাদার সদস্যের পরিবারবর্গে মধ্য বিভিন্ন ধরণের মনোমুগ্ধকর ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতায় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) চুয়াডাঙ্গার সভানেত্রী পুলিশ সুপার পত্মী মিসেস আফসানা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার খন্দকার গোলাম মওলা শিশু ও অভিভাবকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিশুদের ১ম, ২য় ও ৩য় স্থান নির্ধারণ পুনাকের মূল উদ্দেশ্য নয়, প্রত্যেকে সে তার নিজস্ব প্রতিভায় নিজেকে গড়ে তুলে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখতে পারে, এটাই লক্ষ্য।’ অনুষ্ঠানে পুনাক সভানেত্রী মিসেস আফসানা ইয়াসমিন বলেন, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) চুয়াডাঙ্গার মাধ্যমে এই ধরনের কার্যক্রম চলমান থাকবে। ভবিষ্যতে বাঁচ্চাদের নিয়ে বড় পরিসরে পুনাক কাজ করতে চায়। শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতার বিচারকমন্ডলীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. রিয়াজুল ইসলাম (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) জাকিয়া সুলতানা, পুনাক সহ-সভানেত্রী মিসেস নাহিদা আক্তার, পুনাক কোষাধ্যক্ষ মিসেস সাবিনা ইয়াসমিনসহ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) চুয়াডাঙ্গার অন্যান্য সদস্যগণ।
উন্নত খাবার পরিবেশন, সরকারি শিশু পরিবারে জেলা প্রশাসক:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার দুপুরে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল, সরকারি শিশু পরিবার (এতিমখানা), জেলা কারাগার ও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্কুলে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা সরকারি শিশু পরিবারের শিশুদের মধ্যে উন্নতমানের খাবার বিতরণের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা শাখার কর্মসূচী:
বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গায় জেলা শাখার উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেল ৪টায় শহীদ হাসান চত্বর মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি হাসানুজ্জামান সজীব আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা জহুরুল ইসলাম আজিজী এবং সাধারণ সম্পাদক তুষার ইমরান সরকার।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা সাইফুল ইসলাম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন জেলা শাখার সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন এবং ইসলামী যুব আন্দোলনের জেলা সভাপতি মীর শফিউল ইসলাম। সভা শেষে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের রুহের মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির উন্নতি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা সদস্য মুফতি আব্দুস সালাম।
সভায় বক্তারা বলেন, ‘১৯৭১ সালে লক্ষ লক্ষ মানুষ জীবন বাজি রেখে জালেম পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। সাম্য, মানবিক মর‌্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অর্জিত এই বিজয়ের ৫৩ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই লক্ষ্যে আমরা এখনো পৌঁছাতে পারিনি। শাসনের নামে শোষণ, দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার আজও দেশকে জর্জরিত করছে।’
তারা আরও বলেন, ‘ভারত আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি দিচ্ছে। এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ কখনোই বিদেশি আধিপত্য মেনে নেয়নি, নেবে না। বিজয়ের এই দিনে সবাইকে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতার পূর্ণ স্বাদ পেতে ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে কার‌্যকর হবে। তাই আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকে ভোট দিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে বিজয়ী করতে হবে।’ ইসলামী আন্দোলন চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক আশিকুল আলম প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সভা শেষে জেলা শাখার উদ্যোগে বর্ণাঢ্য বিজয় র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
চুয়াডাঙ্গায় জাসদের কর্মসূচি:
বাংলাদেশ জাসদ চুয়াডাঙ্গা শাখার পক্ষ থেকে শহীদ হাসান চত্বরের শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টায় জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলমের নেতৃত্বে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন নেতা-কর্মীরা। এছাড়াও দামুড়হুদা উপজেলা শাখার সভাপতি সালাউদ্দিনের নেত্রত্বে আটকবরে ও জীবননগর উপজেলা শাখার সভাপতি আব্দুর রশীদের নেতৃত্বে মাধবখালী সীমান্তে বীর মুক্তিযোদ্ধার সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদের মহান বিজয় দিবস পালিত:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সাহিত্য পরিষদ চত্বরে ‘দাম দিয়ে কিনেছি বাংলা’ শীর্ষক আলোচনা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি এবং আলোকসজ্জার আয়োজন করা হয়। সংগঠনের সভাপতি ইকবাল আতাহার তাজের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণসহ আলোচনা করেন সরদার আলী হোসেন, তৌহিদ হোসেন, গোলাম কবীর মুকুল, শেখ সেলিম, আব্দুল হামিদ, মিলিমা ইসলাম মিলি ও কাজল মাহমুদ। স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন বনলতা, আব্দুল হামিদ, কাজল মল্লিক, হুমায়ুন কবীর ও খালেকুজ্জামান রঞ্জু। চুয়াডাঙ্গার শহিদ মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলম ও শহিদ হাসান জামানের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন কাজল মাহমুদ।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কাজী আশফাক, আবুবকর, হারুন-অর রশিদ, কাজী আশফাক, শেখ পিণ্টু, খন্দকার হোসেন মো. ফারুক, রেজওয়ানুর রহমান মিলন প্রমুখ। আলোচনা থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নের স্মারক প্রতিষ্ঠানসমূহ (দক্ষিণ-পশ্চিম রণাঙ্গণের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত জেলা পরিষদের ডাকবাংলো, যুদ্ধ-কৌশল পরিকল্পনার অফিস হিসেবে ব্যবহৃত অ্যাসোসিয়েশন হল, সংগ্রাম পরিষদের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত মতিরাম আগরওয়ালার দ্বিতল ভবন ইত্যাদি) সংরক্ষণ এবং জেলা পরিষদের ডাকবাংলোকে `স্বাধীনতা ভবন` ঘোষণার জোর দাবি জানানো হয়।
পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির ক্রীড়া প্রতিযোগিতা:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ধুতুরহাট গ্রামে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সরোয়ার জোয়ার্দার হিমুর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিকুল ইসলাম পিটু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান লিপটন, সদর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জেলা জাসাসের সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মহাবুল হক মহাবুব, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিনুর রহমান মোমিন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফ আহমেদ শিপ্লব, সদর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মাহাবুব, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক কৌশিক আহমেদ রানা, সদস্যসচিব মাজেদুল আলম মেহেদী ও পদ্মবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা কাজল। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সালাউদ্দীন আহমেদ, হাবিবুর রহমান জোয়ার্দার মানিক প্রমুখ।
সরোজগঞ্জ:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সরোজগঞ্জ ও বদরগঞ্জে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও সংগঠন উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল সকালে সরোজগঞ্জ ছাদেমান নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সাইফুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন পদ্মাবিলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম সারোয়ার জোয়ার্দ্দার হিমু। এসময় উপস্থিত ছিলেন শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি রায়হান উদ্দীন, জেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রীরা।
এছাড়া, সরোজগঞ্জ উচ্চবিদ্যালয়ে দিবসটি উদ্যাপন উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আকবর আলী। উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও শিক্ষকরা। তেঁতুল শেখ কলেজে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মারফুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রভাষক গোলাম কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, সরোজগঞ্জ প্রেসক্লাব, স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের পক্ষ থেকে রাত ১২টা ১ মিনিটে শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। সকালে সরোজগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নবীননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরোজগঞ্জ শিশু নিকেতনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে র‌্যালি আলোচনা সভা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আলমডাঙ্গা:
আলমডাঙ্গায় যথাযথ মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচির শুভ সূচনা করা হয়। সকালে সরকারি ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ৯টায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে আলমডাঙ্গা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মাজারে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাড. আব্দুর রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান ধুনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক, থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী তাওহিদ, শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক প্রমুখ।
এছাড়াও শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ, মহিলা কলেজ, ওজোপাডিকো, এম সবেদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, আলমডাঙ্গা থানা, সরকারি স্কুল, পৌরসভা, উপজেলা বিএনপি, পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। পরে সকাল ১০টায় উপজেলা মঞ্চে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শেখ মেহেদী ইসলাম। উপজেলা ইনস্ট্রাক্টর জামাল হোসেনের উপস্থাপনায় সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউদ্দিন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশিষ কুমার বসু ও থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদুর রহমান।
আরও উপস্থিত ছিলেন সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কুদ্দুস, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মণ্টু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আলাউদ্দিন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জিয়াউল হক, মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মাকসুরা জান্নাত, আইসিটি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ, ভিডিপি কর্মকর্তা আজিজুল হক প্রমুখ।
এদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে সকাল ৮টায় দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করা হয়। এরপর নেতা-কর্মীরা র‌্যালিসহকারে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আক্তার হোসেন জোয়ার্দার, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টু, সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, যুবদলের আহ্বায়ক মীর উজ্জল, যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক সাইফুদ্দিন কনক, যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আব্দুল কাদের, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হিমেল, শ্রমিক দলের নেতা আইনাল হকসহ ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
পরে দলীয় অফিসে উপজেলা ও পৌর বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান পিণ্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা উপস্থাপনা করেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন। সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক রোকন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী আলী আসগার সাচ্চু, সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার হাসিবুল ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল হক মাস্টার, মখলেছুর রহমান মিলন, আসিফ আল নূর, নির্বাহী সদস্য খন্দকার রুবায়েত ফেরদৌস বাপ্পিসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে হারদী ইউনিয়ন যুবদল নেতা তৌসিফ খান এবং আল-আমিন হিমেলের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের বীর শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মাহফিল এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এদিকে, আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদার মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সকালে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা। আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রভাষক ড. মহবুব আলম। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলায়াত করেন প্রভাষক জামাল উদ্দিন এবং গীতা থেকে পাঠ করেন প্রভাষক পলি রানি সিনহা। শুভেচ্ছা বক্ তব্য দেন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মহিতুর রহমান। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা করেন সহকারী অধ্যাপক অধ্যাপক আব্দুল মোনয়েম (সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ), সহকারী অধ্যাপক ড. গোলাম ছরোয়ার (সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ) ও সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান। আলোচনা শেষে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয় এবং ক্রীড়া পতাকা অবনমনের মাধ্যমে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১০ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত মোট ৬ দিনের বর্ণাঢ্য কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
অপর দিকে, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা করেছে বাংশাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজ শাখা। দিবসটি উপলক্ষে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সরকারি কলেজ প্রাঙ্গনে র‌্যালি করা হয়। র‌্যালিটি কলেজ ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভায় অংশ নেয়। কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাওন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি থেকে বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মালিতা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত লাল-সবুজের পতাকা আমাদের গর্ব। বিজয় অর্জনের জন্য দেশের কিশোর, বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ সবাই বিপ্লবী রূপ ধারণ করেছিলেন। স্বাধীনতা যেমন অর্জন করেছি, তেমনি রক্ষা করতেও জানি। তখন ছিল ৭ কোটি জনতা, আর এখন ১৭ কোটি ছাড়িয়ে। তাই কোনো দেশের চোখ রাঙানিতে আমরা ভয় পাই না। বাংলাদেশকে নিয়ে দাদাগিরি দেখানোর চেষ্টা করবেন না, তাতে কোনো লাভ হবে না।’
আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল ইমরান রাসেলের উপস্থাপনায় সভায় বিশেষ অতিথি থেকে বক্তব্য দেন আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জাহিদ হাসান শুভ, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আতিক হাসনাত রিংকু এবং উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা। আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বেলগাছি ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সালেক মাহমুদ নিরব, খাদিমপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন আহমেদ, ১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সভাপতি শাকিল হোসেন, কলেজ ছাত্রদল নেতা ওয়াশিকুর রহমান তুষার, আব্দুর রাকিব জীবন এবং রোহান আহমেদ। গতকাল আলমডাঙ্গা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আল ইমরান রাসেল প্রেরিত এক বার্তায় এ তথ্য জানোনো হয়।
আসমানখালী:
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আসমানখালীতে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্যোগে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টায় আসমানখালীর ভোগাইল বগাদীতে এ আয়োজন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষক দলের সদস্য হাজী গিয়াস উদ্দিন বাবু মিয়া, জেলা যুবদলের নেতা দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, ভাংবাড়ীয়া ইউনিয়নের সহ-সভাপতি আ. কুদ্দুস মিরা, সুইট উজ্জ্বল খোকন, নাজমুল মুকুল, শাহিনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নেতা-নেত্রী।
এছাড়াও, সকাল সাড়ে ১০টায় আসমানখালী পার্টি অফিসের সামনে থেকে একটি বিজয় মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি বাজার প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তব্য দেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল রহমান রেজু, সহ-সভাপতি সেলিম রেজা, সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম আয়নাল, সহকারী সেক্রেটারি নজরুল ইসলাম খোকন, যুবদল নেতা হাসান কাজী, ছাত্রদল সভাপতি তানভীর রহমান সবুজ, মোশা করিম, নাঈম সাগর, মোস্তাফিজসহ অন্যান্য স্থানীয় নেতারা। এটি ছিলো আসমানখালীতে ১৭ বছর পর বিএনপির পক্ষ থেকে আয়োজিত বিজয় মিছিল, যা এলাকার রাজনৈতিক দৃশ্যপটের একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচন করেছে।
দামুড়হুদা:
দামুড়হুদায় নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৮টায় আটকবর চত্বরে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করা হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মমতাজ মহল এবং মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন করেন দর্শনা থানা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খাজা আবুল হাসনাত ও বিল্লাল উদ্দিন। পরে আটকবর স্মৃতিস্তম্ভে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পমাল্য অর্পণ, শপথ বাক্য পাঠ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা করেন। এছাড়াও আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজনে বিজয় মেলার উদ্বোধন, উপজেলা অডিটরিয়াম হলে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা, বিজয় দিবসের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতাসহ দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়।
এদিকে, দামুড়হুদায় মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টার দিকে দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপিসহ অঙ্গ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে এই বর্ণাঢ্য বিজয় মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল হাসান তনু, যুগ্ম সম্পাদক মণ্টু মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক আবুল হাসেম, সদর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহিম, সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী, দামুড়হুদা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক একরামুল হক, সদস্যসচিব জাকির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক রকিবুল হাসান তোতা, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান বাচ্চু, সদস্যসচিব মাহফুজুর রহমান মিল্টন, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আরিফ, জনি, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আফজালুর রহমান সবুজ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইনজামামুল হক প্রমুখ।
দর্শনা:
দর্শনা পৌরসভার আয়োজনে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ও মুক্তিযুদ্ধের পতাকা উত্তোলন, কেরুজ আনন্দবাজার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ, শপথ বাক্য পাঠ, দোয়া মাহফিল ও সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল কাদের, পৌর আমির সাহিকুল আলম অপু, দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাবু, কেরু চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান, কেরুজ শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ সবুজ, সাবেক শ্রমিক নেতা হাফিজুল ইসলাম ও দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী উপস্থিত ছিলেন।
পরে দর্শনা পৌরসভাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও কেরুজ আনন্দবাজার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। এসব সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো- দর্শনা পৌরসভা, দর্শনা পৌর বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, দর্শনা অনির্বাণ থিয়েটার, রামাযুস, ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি, হাফিজুল ইসলাম সংগঠন, মাসুদ সংগঠন, অঙ্কুর আদর্শ বিদ্যালয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সংগঠন, দর্শনা দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসা, সিপিবি, দর্শনা প্রেসক্লাব, দর্শনা সাংস্কৃতিক সংগঠন, দর্শনা রেলওয়ে শ্রমিক সংগঠন, কেরুজ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল, দর্শনা গণউন্নয়ন গ্রন্থাগার ও ওয়েভ ফাউন্ডেশন।
এছাড়াও জাতীয়তাবাদী, যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন সংগঠন বিজয় দিবসের কর্মসূচি পালন করেছে। এর মধ্যে দর্শনা কেরুজ ক্লাব মাঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, দর্শনা সাম্প্রতিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে বেলা ১১টায় বিজয় ফুল তৈরি, বেলা ৩টায় বিজয় র‌্যালি, সন্ধ্যা ৬টায় বিজয় সম্মাননা প্রদান ও দর্শনা শহীদ মিনারে বিজয় কনসার্টের আয়োজন করা হয়। বিজয় কনসার্ট পরিচালনা করেন দর্শনা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি হারুন অর রশিদ ও নাটুদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আনোয়ার হোসেন।
এদিকে, দর্শনা পৌর বিএনপির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দর্শনা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দর্শনা পৌর বিএনপি সমন্বয়ক কমিটি সদস্য খন্দকার শওকত আলী ও পৌর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দর্শনা সমন্বয়ক কমিটি মুহিদুল ইসলাম গতকাল মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি র‌্যালিটি বের করেন।
এসময় দর্শনা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস ও পৌর যুবদল ও সমন্বয়ক এনামুল হক শাহ মুকুল, সাবেক পৌর ছাত্রদলের সভাপতি, সমন্বয়ক দর্শনা পৌর বিএনপি সমন্বয়ক কমিটি সদস্য ইকবাল হোসেন, সমন্বয়ক দর্শনা পৌর বিএনপি মালেক মন্ডল, সাবেক সহসভাপতি হাবিবুল্লাহ বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। র‌্যালি শেষে দর্শনা কেরুজ আনন্দবাজার স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন দর্শনা থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওন।
অপর দিকে, জামায়াতে ইসলামী দর্শনা থানার শাখার উদ্যোগে গতকাল বেলা তিনটায় দর্শনা ইসলামী পাঠাগারও সমাজকল্যাণ পরিষদ প্রাঙ্গণে ৫৪তম মহান বিজয় দিবসে শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামায়াতের দর্শনা থানা আমির মাওলানা রেজাউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের চুয়াডাঙ্গা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আজিজুর রহমান। সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. আব্দুল কাদের, দর্শনা সেক্রেটারি মাহাবুবুর রহমান টুকু, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাজহারুল ইসলাম, থানা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আজিজুল ইসলাম প্রমুখ।
কুড়ুলগাছি:
দামুড়হুদার কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের উদ্যোগে ৫৪তম বিজয় দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে দোয়া এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার আসরের নামাজের পর কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের অফিস প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির সদেকিনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন দর্শনা থানা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম, দর্শনা থানা কর্মপরিষদের সদস্য মো. জিয়াউর রহমান, কুড়ুলগাছি ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সাত্তার প্রমুখ।
জীবননগর:
জীবননগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপিত হয়েছে মহান বিজয় দিবস। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের হলরুমে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল-আমীনের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মামুন হোসেন বিশ্বাস, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল, কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুর জব্বার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, পৌর বিএনপির সভাপতি শাহজাহান কবির, সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মঈন উদ্দিন ময়েন প্রমুখ।
এছাড়াও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জীবননগর উপজেলা শাখার আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ৮টায় উপজেলা জামায়াতের অফিস থেকে র‌্যালিটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মুক্তমঞ্চে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা উলামা সম্পাদক মাওলানা ইসরাঈল হোসেন, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জিয়াউল হক, জেলা শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির সাজেদুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির হাফেজ বেলাল হোসেন, সেক্রেটারি সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা বায়তুলমাল সম্পাদক আসাবুল হক মল্লিক, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সাইদুল ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুুর রহমান লিটন, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম, উলামা সম্পাদক মাওলানা আলামীন, পৌর আমির মাওলানা ফিরোজ হোসেন, পৌর সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ আলী, সিরাজ উদ্দিন, শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর চুয়াডাঙ্গা জেলা আমির অ্যাড. রুহুল আমিন বলেছেন, বিজয় দিবসের চেতনায় যুব সমাজকে মানবকল্যাণে কাজ করতে হবে। সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে থেকে, তাদের জীবনমান উন্নয়নে পাশে থাকতে হবে। যুবকদেরকে সম্মিলিতভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত করার মধ্যদিয়ে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করার উদ্যোগে গ্রহণ করতে হবে। যুবকদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। দেশের প্রয়োজনে আবু সাইদ, মুগ্ধদের মতো নিজেদেরকে বিলিয়ে দিতে হবে।
গতকাল সোমবার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জীবননগরে যুব বিভাগের আয়োজনে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যুব বিভাগ জীবননগর উপজেলা শাখার আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভা ও যুব প্রতিনিধি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মাজেদুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান, জেলা উলামা সম্পাদক মাওলানা ইসরাঈল হোসেন, জীবননগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সাজেদুর রহমান, উপজেলা নায়েবে আমির হাফেজ বেলাল হোসেন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, পৌর জামায়াতের সভাপতি হাফেজ ফিরোজ হোসেন ও হাসাদাহ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আখতারুজ্জামান।
এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক যুবনেতা ইয়াছিন আরাফাত, বায়তুলমাল সম্পাদক আব্দুল মোতালেব, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোস্তফিজুর রহমান রতন চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক আশিকুর রহমান প্রতীক, অফিস সম্পাদক শামুল আহমেদ, মিডিয়া সম্পাদক জিহাদ হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, পৌর সভাপতি আরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার, সেক্রেটারি সাইমুম শাহরিয়ার, উথলী ইউনিয়ন সভাপতি আহাদ আলী, মনোহরপুর যুব বিভাগের সভাপতি মোমিনুল ইসলাম, কেডিকে সভাপতি ওমর হাসান, যুবনেতা জহিরুল ইসলাম জাদু, আব্দুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম, ফিরোজ হোসেন, হাসান শাহরিয়ার, উসমান আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা যুব বিভাগের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম।
আন্দুলবাড়ীয়া:
সারা দেশের ন্যায় জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নে যথাযোগ্য মর্যাদায় ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়ন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, আন্দুলবাড়ীয়া কলেজ, আন্দুলবাড়ীয়া বহুমুখী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজিয়েট স্কুলের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, বর্ণাঢ্য বিজয় রালি, পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।
উথলী:
জীবননগর উপজেলার উথলী ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে র‌্যালি, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে কলেজ ক্যাম্পাস থেকে একটি র‌্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়কে ঘুরে কলেজ ক্যাম্পাসে শহিদ মিনারে এসে শেষ হয়। এছাড়া মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে উথলী ডিগ্রি কলেজে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে অতিথিদের আমন্ত্রিত অংশগ্রহণ করে হাড়িভাঙ্গা ও ছাত্রীদের বল বদল খেলা অনুষ্ঠিত হয় ।
কলেজের অধ্যক্ষ আকরাম হোসেনের সভাপতিত্বে কলেজ মিলনায়তনে হলরুমে এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য সভাপতি রবিউল হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জীবননগর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ, উথলী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন জাহিদ, কলেজের পরিচালনা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, সাবেক ইউপি সদস্য ইউনুস আলী, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জিল্লুর রহমান, উথলী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসাইন, উথলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রানা আহম্মেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের প্রভাষক সায়েমুল হক।
মেহেরপুর:
যথাযোগ্য মর্যাদা ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে মেহেরপুরে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। গতকাল সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। জেলা প্রশাসনের পক্ষে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন পুলিশ সুপার মাকসুদা আকতার খানম। এসময় উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন আব্দুল মালেক, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) তরিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রনি আলম নূর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুল করিম এবং সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর হোসেন, সাজেদুল ইসলাম, তানজিনা শারমিন দৃষ্টি, হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
এরপর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, সিভিল সার্জন অফিস, মেহেরপুর সরকারি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদনের পর দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মহান বিজয় দিবসের আরও আয়োজনে ছিল ৩১ বার তোপধ্বনি, জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং দিনব্যাপী বিজয় মেলা। জেলা প্রশাসক সিফাত মেহনাজের নেতৃত্বে কার্যালয় চত্বরে জাতীয় সংগীতের তালে তালে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। আইনকৃঙ্খলা বাহিনীর সশস্ত্র সালাম প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এর আনুষ্ঠানিকতা।
এদিকে, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত দিনব্যাপী বিজয় মেলার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক। মেলায় স্থানীয় উদ্যোগে তৈরি পণ্যসহ বিভিন্ন স্টল স্থান পেয়েছে। এছাড়াও মেহেরপুর পৌরসভার উদ্যোগে শহরের প্রধান সড়কগুলো বর্ণিল পতাকায় সাজানো হয়।
অপর দিকে, স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে যারা জীবন দিয়ে লড়াই সংগ্রাম করে ৫ আগস্টে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে, তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মেহেরপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাবেদ মাসুদ মিল্টন বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত বিজয় অর্জন হয়নি। যতদিন পর্যন্ত বাংলাদেশের মানুষ স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে তাদের ভোট প্রয়োগ করে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে না পারবে, ততদিন পর্যন্ত জিয়ার সৈনিকের লড়াই এবং সংগ্রাম শেষ হবে না। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা বিএনপির আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শহিদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণের পর তিনি এসব কথা বলেন।
জাভেদ মাসুদ মিল্টন আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রদ্রোহী শক্তি যারা বাংলাদেশের মানুষকে বার বার পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করেছে, বাংলাদেশ থেকে গণতান্ত্রিক ও মানুষের ভোটের অধিকারকে হরণ করেছে, মানুষের বাক স্বাধীনতাকে স্তব্ধ করেছে, দেশের কোটি কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করেছে, যারা তাঁবেদারি করেছে তাদেরকে রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের কাজ করতে হবে।
এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম। মিছিলে অন্যদের মধ্যে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, ফয়েজ মোহাম্মদ, সাবেক সহসভাপতি আলমগীর খান ছাতু, পিপি আবু সালেহ মো. নাসিম, অ্যাড. মীর আলমগীর ইকবাল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর পৌর শাখার উদ্যোগ ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মেহেরপুর শহরের খাঁ পাড়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মেহেরপুর জেলা শাখার আমির মাওলানা তাজ উদ্দিন খান প্রধান অতিথি হিসেবে এই মেডিকেল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এসময় বক্তব্য দে পুরো জামায়েত ইসলামীর আমির সোহেল রানা ডলার, সাব্বির প্রমুখ।
বারাদী:
মেহেরপুর সদর উপজেলার মোমিনপুরে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে দিবসটি পালিত হয়। মোমিনপুর ডায়মন্ড ক্লাবের আয়োজনে শহিদ বেদিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, বিভিন্ন খেলাধুলা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মোমিনপুর ডায়মন্ড ক্লাবের সভাপতি জিনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক লিয়াকত আলী মেম্বার, বারাদী বাজার কমিটির সভাপতি নাসির উদ্দীন মেম্বার, সাবেক ইউপি সদস্য আশরাফুজ্জামান আলিহীম, যুবদল নেতা দেওয়ান শফিকুল ইসলাম, বর্শিবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আলমগীর কবির জয়নাল।
মুজিবনগর:
নানা আয়োজনে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপন করেছে মুজিবনগর উপজেলা প্রশাসন। প্রথম প্রহরে ৩১বার তোপধ্বনির মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে সকাল সাড়ে ৬টায় মুজিবনগর কমপ্লেক্স স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খায়রুল ইসলাম, মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, কৃষি অফিসার আব্দুল মোমিন ও ছাত্র সমন্বয়ক শাওন।
পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান মুজিবনগর থানা পুলিশের পক্ষে অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড, মেহেরপুর জেলা বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষে ডা. আসাদুজ্জামান, আনসার-ভিডিপি, ট্যুরিস্ট পুলিশ মেহেরপুর জোন, ফায়ার সার্ভিস মুজিবনগর, পল্লী বিদ্যুৎ মুজিবনগর, মুজিবনগর প্রেসক্লাব, বাগোয়ান ইউনিয়ন পরিষদ, মুজিবনগর উপজেলা যুবদলের পক্ষে সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম, মুজিবনগর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষে যুগ্ম আহ্বায়ক আমিরুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষে সাধারণ সম্পাদক আফিরুল ইসলাম।
পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং জাতীয় সংগীতের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে সকল শহিদদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বেলা ১১টায় মুজিবনগর উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিজয় মেলার উদ্বোধন করা হয় এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। বেলা ৩টায় প্রীতি ফুটবল টুর্নামেন্ট, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
গাংনী:
গাংনীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা প্রদান ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বেলা ১১টায় গাংনী উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) প্রীতম সাহা। গাংনী উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আবদুল্লাহ আল মাসুমের সঞ্চালনায় সভায় আরোও উপস্থিত ছিলেন গাংনী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদ্দাম হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হোসনে মোবারক, উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরান হোসেন, গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বানী ইসরাইল, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শামসুল আলম সোনা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাম্মেল হক, আব্দুল বাকী, মতিয়ার রহমান, কামাল হোসেন, হিসাব উদ্দীন, আব্দুর রশিদ, ইছারউদ্দীনসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত বীর মুক্তিযোদ্ধা, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ঝিনাইদহ:
মহান বিজয় দিবসে শোভাযাত্রা ও র‌্যালি করেছে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপি। গতকাল দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে শহরের ওয়াজির আলী হাইস্কুল মাঠ থেকে শোভাযাত্রা বের করা হয়। বিরাট শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে চুয়াডাঙ্গা স্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। পরে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে পুষ্পামাল্য অর্পণ করা হয়। এতে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ডু, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনাসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতা-কর্মী অংশ নেন।
ঝিনাইদহ প্রেসক্লাব স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লিটন, সাবেক সভাপতি এম রায়হান, এম সাইফুল মাবুদ, আসিফ ইকবাল মাখন, এম রবিউল ইসলাম রবি, আব্দুল হাই, সোহেল আহম্মেদ, শিপলু জামান প্রমুখ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এদিকে কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আয়োজনেও শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি নলডাঙ্গা ভূষণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেইন বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শেষ হয়। এতে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, কালীগঞ্জ পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক নজরুল ইসলাম তোতাসহ বিভিন্ন নেতাকর্মী অংশ নেয়।
মহেশপুর:
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসের প্রারম্ভে দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। পওে উপজেলা, পৌর বিনপি ও অঙ্গ সংগঠনরে উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‌্যালি শহর প্রদক্ষিণ করে। র‌্যালি শেষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান রনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক নার্গিস সুলতানা দিপা, উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল ফারুক বাবু, ছাত্রদলের সদস্যসচিব আব্দুল মালেক প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহাগ খাঁন।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী