৮ বছর আগে মাত্র ২৫ হাজার টাকায় একটি বকনা গরু কিনেছিলেন। শখের বসে কেনা গরু থেকেই আজ গড়ে তুলেছেন বিশাল গরুর খামার। কিনেছেন ৫ বিঘার মতো জমি। প্রতিদিন এক মণ দুধ বিক্রিসহ বছরে আয় করেন কমপক্ষে ১০ লাখ টাকা। তাই চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আড়িয়া গ্রামের সফল গরুর খামারি মোজাম্মেল এখন এলাকার অনেকের কাছে অনুকরণীয় ব্যক্তি।
সরেজমিনে মোজাম্মেলের খামার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, নিজের তিন বিঘা আয়তনের পুকুরের দুই পাশে বড় বড় শেড তৈরি করে সেখানে গরু লালন-পালন করছেন। গরুর খামারের সাথে ছাগল, ভেড়া, কবুতর ও দেশি হাঁস-মুরগিও পালন করেন তিনি। দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রতিবেদকের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় মোজাম্মেল হক বলেন, ‘৮ বছর আগে নিজ বাড়িতে পোষা গরুর দুধ খাওয়ার জন্য মাত্র ২৫ হাজার টাকায় একটি শাহিয়াল জাতের বকনা বাছুর গরু ক্রয় করি। প্রথমদিকে খামার করব, এমন কোনো পরিকল্পনা ছিল না। কিন্তু ৬ মাসের মাথায় বকনা গরুর ডাক আসে। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই একটি বকনা বাছুর হয়। এসময় গরুর দুধ নিজের পরিবারের চাহিদা মিটেও থেকে যাওয়ায় তা বিক্রি করে দিতাম।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুই বছরে মাথায় গিয়ে যখন দুই গরু একসাথে বাছুর দেয়, তখন দুধের পরিমাণ আরও বেশি হয়। তখনই মাথায় আসে গরুর খামার করার। ৮ বছরের ব্যবধানে এখন আমার খামারে ১৫টি গরু আছে। যার মধ্যে ৭টি গাভি ও বাকিগুলো বকনা গরু। এছাড়াও দুটি মহিষ হয়েছে। প্রতি বছরই একাধিক এড়ে ও ষাড় গরু বিক্রি করা হয়। সেই গরু বিক্রির টাকায় ছাদসহ ৭ রুম ঘর করেছি। সাথে ৫ বিঘার মতো জমি কিনেছি। গরুর খামারের ওপর দিয়েই এখন স্বাচ্ছন্দে সংসার চালাতে পারছি।’
তিনি বলেন, গরু ও মহিষের খাবারের জন্য নিজের কেনা ও পিতার শরিকানা অংশ মিলে ৮ বিঘা জমিতে ঘাস চাষ করেছি। বর্তমানে গরু বেশি হওয়ায় বাড়ির গোয়ালে জায়গা হয় না। সে কারণে নিজের পুকুরপাড়ে এই খামারটি গড়েছেন। যেখানে গরু, মহিষের পাশাপাশি, ছাগল, ভেড়া, দেশি হাঁস-মুরগি ও কবুতর পালন করেন। প্রতি বছর খামার থেকে তার ৮-১০ লাখ টাকা ইনকাম হয়। বর্তমানে তার দেখাদেখি গ্রামের অনেকেই গরুর খামার গড়ে তুলছেন। বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষ আসে তার খামার দেখতে এবং পরামর্শ নিতে।
খামারী মোজাম্মেল হক বলেন, মানুষ যদি চাকরি ও বিদেশে যাওয়ার পিছনে অর্থ ও সময় ব্যয় না করে, স্বল্প পরিসরে গরু-ছাগলের খামার দেয়, তাতে ২-৩ বছরের মধ্যেই ভাগ্যবদল করা সম্ভব।
বর্তমানে মোজাম্মেল হক একজন সফল খামারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত পেয়েছেন। প্রতিদিন তার খামার দেখতে বিভিন্ন জায়গা থেকে লোকজন আসেন। মোজাম্মেলের গরুর খামার দেখতে আসা রিপন বিশ্বাস নামের একজন বলেন, ‘আমি নিজ বাড়িতে ছোট পরিসরে গরুর খামার করেছি। মাঝেমধ্যে পরামর্শ নেওয়ার জন্য মোজাম্মেল চাচার কাছে আসি। তিনি আমাদের এলাকার উদ্যোগী যুবকদের আইকন।’
সমীকরণ প্রতিবেদন