মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

  • আপলোড তারিখঃ ১৮-১২-২০২৪ ইং
মেহেরপুর টেকনিক্যাল স্কুলের শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ

মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ড্রেস মেকিং ট্রেডের ইন্সট্রাকটর মনারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দশম শ্রেণির ছাত্রীদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষের কাছে গত ২০ দিন আগে লিখিত অভিযোগ করে কোনো বিচার না পেয়ে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাচ্ছে না। অধ্যক্ষ বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, শত শত মেয়ের মধ্যে দুই একজনের গাঁয়ে হাত লাগতেই পারে।
দশম শ্রেণির ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের ড্রেস মেকিং ট্রেডের ইন্সট্রাকটর (শিক্ষক) মনারুল ইসলাম আমাদের সাথে অশ্লীল ব্যবহার করেন। আমাদের খারাপ খারাপ ইঙ্গিত দেন। আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে হাত দেন, খারাপ নজরে তাকান। আমাদের মাল বলে ডাকেন। আমাদের ব্যবহারিক ক্লাসে স্যার আমাদের শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে আমাদের সেখানে তাকাতে বাধ্য করে।’
অপর এক ছাত্রী বলেন, ‘আমরা বিষয়টি একাধিকবার মৌখিকভাবে আমাদের বিভিন্ন স্যার ও অধ্যক্ষকে জানিয়েছি। কোনো প্রতিকার না পেয়ে গত ২৫ নভেম্বর অধ্যক্ষ বরাবর আমরা লিখিত অভিযোগ প্রদান করি। স্যার আমাদের তিন দিনের মধ্যে এর সমস্যার সমাধান করে দেবেন বলে আশ্বাস দেন। উনি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তবে সে তদন্ত কমিটি ২০ দিনেও কোনো প্রতিবেদন দেয়নি। আমরা কোনো প্রতিকার পাইনি। উল্টো আমাদের এখন বিভিন্ন ভয়-ভীতিসহ শিক্ষাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার কথা বলছেন অধ্যক্ষ। বর্তমানে আমাদের শিক্ষকদের দিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। আমরা চাই একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনবেন। সেই সাথে আমাদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দেবে।’
আর একছাত্রী বলে, ‘নীরব এ নির্যাতনের শিকার আমরা প্রতিটি ছাত্রীই। পিতৃতুল্য শিক্ষকদের কাছে আমরা অনিরাপদ। এমন শিক্ষকের কাছে আমরা শিক্ষা নিতে চাই না। আমরা বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আজকে সেনাবাহিনী ও জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি।’ প্রতিষ্ঠানের সিও ও চিফ ইন্সট্রাকটর (ফার্ম মেশিনারি) মো. শফি উদ্দিন বলেন, ‘এখানে তেমন কিছুই হয়নি। তবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেব।’
তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক গণিত বিভাগের ইন্সট্রাক্টর আলফাজ উদ্দিন বলে, শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগের বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। সময় মতো প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ মিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানে শত শত মেয়ে পড়ে। দুই-একজন মেয়ের গায়ে হাত পড়তেই পারে। মেয়েদের অভিযোগের বিষয়ে আমি বলতে বাধ্য নয়।’
মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও মেহেরপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি সিফাত মেহেনাজ বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। তবে কোনো অভিযোগ আমার দপ্তরে জমা পড়েছে কিনা খতিয়ে দেখতে হবে।’



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী