ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ মোবারকগঞ্জ চিনিকলে নিয়োগ বাণিজ্যের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ায় জেলাজুড়ে হৈচৈ পড়ে গেছে। মোবারকগঞ্জ চিনিকল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি আনোয়ারুল আজিম আনারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোলাম রসুলকে ভিডিও ফুটেজে বলতে শোনা গেছে, এমপি, এনএসআই, ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন ব্যক্তির তদবিরে তিনি কীভাবে চিনিকলে শ্রমিক কর্মচারী নিয়োগ করেছেন। এই প্রতিবেদকের হাতে আসা একটি ভিডিওতে নিয়োগ বাণিজ্যের এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।

ভিডিওতে দেখা গেছে, মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ক্যান্টিনের পাশে একটি গোল ঘরে বসে শ্রমিক নিয়োগের বিষয়ে সাথে কথা বলছেন গোলাম রসুল। সেখানে কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মেহেদী হাসান সজলকেও দেখা গেছে। ১ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে গোলাম রসুল বলতে শোনা যায়, `এক’শ একটা লোক। এইবার ভাগ করো, এমপি ৫০টা চলে গেল, কাউন্সিলর সজলকে দেখিয়ে বলছেন, ইরা চলে গেল ১৭, তাহলে কয়টা থাকে? পাশ থেকে একজন বললেন তাহলে থাকে আর ৩৪টা। এবার আমার (গোলাম রসুল) শ্রমিক ইউনিয়নে ১৫টা বাদ দাও। এবার থাকে ১৯টা। এবার এসো এনএসআই, ডিজিএফআইসহ প্রশাসনিক তদবির, সেখানে গিয়ে তিনডে। এবার হেড অফিসে গিয়েছে ৫টা। পাশ থেকে একজন বলে উঠলেন, তাহলে তো আপনার থাকছেই না। উত্তরে শ্রমিক নেতা গোলাম রসুল বলেন, আমি ওইটুকুর উপরেই দাঁড়িয়ে আছি।
ভিডিওতে তিনি আরও বলেন, অথচ অন্য নেতারা হলে এমপির ১০টা দিয়ে এদিকে মেনটেইন করে চালিয়ে চলে যেত। এইজন্য কালকে আমি এমপির বলেই ফেলিলাম, যে অনেক তেল হয়ে গিয়েছে। এরপর যদি বেশি চাপাচাপি করো, তাহলে আমি নিয়োগ বন্ধ করে দেব। আমার আর এক বছরই আছে, আমি ওভারটাইম দিয়ে চালিয়ে যাবো। আমিতো ওভারটাইম বন্ধ করে দিয়ে অনেক মেকানিজম করে কাজটা করলাম।
তথ্য নিয়ে জানা গেছে, কোটি কোটি অবৈধ সম্পদের মালিক গোলাম রসুল ছিলেন ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের ঘণিষ্ঠ। তিনি এমপি আনারের প্রভাব খাটিয়ে মোবারকগঞ্জ চিনিকলে দেদারসে নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন। এভাবে তিনি রাতারাতি বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন। তার কথার বাইরে গেলে চিনিকলের শ্রমিকদের কপালে নেমে আসতো নির্যাতনের খড়্গ। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ক্যান্টিনের পাশের এই গোলঘর আওয়ামী লীগের ১৬ বছর রীতিমতো টর্চার সেলে পরিণত হয়। টানা দুইবার বিনা ভোটে শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি হয়েছেন গোলাম রসুল। তার বিরুদ্ধে ২৪ জন সিডিএর কাছ থেকে পদোন্নতির নামে প্রায় ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে, যা চিনিকলটির হেড অফিস তদন্ত করছে। একাধিক মামলার আসামি দুর্নীতিবাজ গোলাম রসুল এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় চিনিকলের নির্যাতিত শ্রমিক কর্মচারীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
গত ৫ আগস্টের পর থেকে গোলাম রসুল পলাতক থাকায় তার ব্যবহৃত মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপক সাইফুল আলম। তিনি জানিয়েছেন, শ্রমিক নিয়োগে টাকা লেনদেনের বিষয়ে গোলাম রসুলের বিরুদ্ধে ২৪টি অভিযোগ পেয়েছি। সেগুলো তদন্ত করা হয়েছে। কিন্তু এসব লেনদেনের সাথে আমরা বা মিলের কোনো কর্মকর্তা জড়িত না।
সমীকরণ প্রতিবেদন