কৃষকের কাছ থেকে নেওয়া ধান বীজের দাম বাড়ানোর দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসি) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার এই স্মারকলিপি দেন চুয়াডাঙ্গার বিএডিসির চুক্তিবদ্ধ কৃষকেরা। চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম ও আবু সাহাদাৎ মোহাম্মদ সোয়েব স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেছেন।
কৃষকরা জানান, বিএডিসি চুক্তিবদ্ধ কৃষকদের কাছ থেকে যে ধান বীজ কিনে থাকে, তা মানভেদে ৪৯ ও ৫০ টাকা কেজি। ধান বীজের মূল্য ৬৫ টাকা কেজি নির্ধারণ করা না হলে কৃষকদের লোকসান দিতে হবে। এ কারণে কৃষকরা ধান বীজের মূল্য বাড়ানোর দাবি তুলেছে। কৃষকরা আরও জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আউশ ধান বীজ কেজি প্রতি ৬৫ টাকা হারে মূল্য নির্ধারণ না করলে আন্দোলনকারীরা বীজ সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ইতিমধ্যে বিএডিসিতে সরবরাহ করা সকল ধান বীজ ফেরত নেওয়ার আল্টিমেটাম দেন তারা।
চুক্তিবদ্ধ চাষী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ধান বীজের নতুন দাম নির্ধারণ করে তা কৃষকদের জানাতে হবে। তা না হলে কৃষকদের পক্ষে ধান বীজ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না।’ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আরও বলেন, ‘এক কেজি মানঘোষিত বীজ সরবরাহ পর্যন্ত চাষীদের প্রায় ৫২ টাকা খরচ হয়। এই বীজের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ প্রিমিয়াম ধরে মূল্য নির্ধারণ করলে কেজি প্রতি ৬৫ টাকা হারে দেওয়া দরকার। সেখানে বিএডিসি কর্তৃপক্ষ মানঘোষিত আউশ ধান বীজ মানভেদে কেজি প্রতি ৪৯ ও ৫০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করেছে। এতে চুক্তিবদ্ধ চাষীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।’

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় চাষী ফোরামের নেতা মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমান বাজারদর ও বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণের সমুদয় খরচ বিবেচনা করে ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা প্রত্যাশা করছি বিএডিসি কর্তৃপক্ষ আমাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নেবেন।’ চাষী নেতৃবৃন্দ জানান, নিজেদের উৎপাদিত আউশ ধানের বীজ তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএডিসিতে সরবরাহ করে আসছেন। তাদের সরবরাহ করা আউশ ধান বীজের মূল্য হিসাবে এখন পর্যন্ত বিএডিসির কাছে পাওনা আছে ৪ কোটি টাকা। সেই টাকা পরিশোধে বিএডিসি গড়িমসি করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
তারা দাবি করেন, বীজ নেয়ার পর দর দেয়া হয়। যা মোটেও ঠিক নয়। ১ সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজি ৬৫ টাকা দরে আমাদের পাওনা পরিশোধ করতে হবে। সেইসাথে এখন থেকে আমাদের সরবরাহ করা ধান বীজের মূল্য কেজি প্রতি ৬৫ টাকা দরে পরিশোধ করতে হবে। অন্যথায় এরপর থেকে বিএডিসিকে আমন বা আউশ আর কোন ধরনের ধান বীজ সরবরাহ করবো না ।
স্মারকলিপি গ্রহণ করে চুয়াডাঙ্গা বিএডিসির উপ-পরিচালক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘স্মারকলিপিটি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব।’ সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রশীদের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে শতাধিক আউশ ধান বীজ উৎপাদনকারী চাষী উপস্থিত ছিলেন। এসময় বক্তব্য দেন চাষী ফোরামের স্থানীয় নেতা এনামুল হক লোটাস, জাহাঙ্গীর মালেক প্রমুখ।
সমীকরণ প্রতিবেদন