কৃষকদের সহজে সার প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ইউনিয়নভিত্তিক বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ দেয় সরকার। এ ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি দামে সার সংগ্রহ করেন। কিন্তু চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বেগমপুর ইউনিয়নের ডিলার আকবার আলী তার ব্যবসা চালাচ্ছেন পাশের নেহালপুর ইউনিয়নের হিজলগাড়ী বাজারে। ফলে বেগমপুরের কৃষকদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।
জানা গেছে, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি মৌখিক ও লিখিতভাবে আকবার আলীকে বেগমপুর ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থানে বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দিলেও তিনি তা মানেননি। অভিযোগ রয়েছে, অদৃশ্য খুঁটির জোরে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনুমোদিত ইউনিয়নের বাইরে ব্যবসা করে আসছেন। এ ছাড়া কৃষকদের সার না দিয়ে বেশি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি এবং কৃষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজিবুল আলম। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্রুত সময়ের মধ্যে বেগমপুরে বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয় আকবার আলীকে। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে হিজলগাড়ীতে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হিজলগাড়ী এলাকার কৃষক মতিয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘আকবার আলী এখানে ব্যবসা করলেও আমাদের কাছে সার বিক্রি করেন না।’ নেহালপুর গ্রামের রাজ্জাক বলেন, ‘সার কিনতে গেলে তিনি খারাপ ব্যবহার করেন।’ ফুরশেদপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম জানান, ‘তিনি আমাদের কাছে বলেন সার নেই, অথচ পরে দেখি তিনি খুচরা ব্যবসায়ীর কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করছেন।’
বেগমপুর ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আকবার আলীকে বেগমপুরে বিক্রয়কেন্দ্র করার জন্য বারবার বলা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন।’
এসব বিষয়ে জানতে চেলে মুঠোফোনে আকবার আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এসময় তিনি বলেন, ‘আমি এখন ভারত থেকে আসছি, পরে কথা বলব।’ এদিকে, ভুক্তভোগী কৃষকরা আকবার আলীর অসৌজন্যমূলক আচরণ, বেশি দামে সার বিক্রি ও অনুমোদিত স্থানে বিক্রয়কেন্দ্র না করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সমীকরণ প্রতিবেদন