মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
সর্বশেষ স্থানীয় সংবাদ জাতীয় রাজনীতি আর্ন্তজাতিক সারাদেশ অর্থনীতি খেলা বিনোদন আজকের পত্রিকা প্রযুক্তি চাকরি

চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রাত্রীকালীন ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান

  • আপলোড তারিখঃ ০৫-১১-২০২৪ ইং
চুয়াডাঙ্গা বড় বাজারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে রাত্রীকালীন ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান

চুয়াডাঙ্গা শহরের বড় বাজারে রাত্রীকালীন ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলো হয়ে উঠেছে খাবার প্রেমী ও ক্ষুধার্তদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত এই দোকানগুলোতে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ আসেন ক্ষুধা মেটাতে, কেউবা ভিন্ন স্বাদের খাবার উপভোগ করতে। শুধু স্থানীয়রাই নয়, বিভিন্ন বাসের যাত্রীরাও এই খাবার দোকানের সুবিধা নিয়ে তাদের ক্ষুধা মেটাচ্ছেন।
ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ধরণের খাবার। এসবের মধ্যে রয়েছে গমের আটার রুটি, চালের আটার রুটি, লুচি, পরোটা ও খিচুড়ি। আর সঙ্গে থাকছে ভাজা-ভুজি, হাঁসের মাংস, মুরগীর মাংস, গরুর মাংস, হাঁসের লটপটিসহ বিভিন্ন ধরনের ভর্তা। এসব খাবার স্বল্পমূল্যে পাওয়া যাওয়ায় শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষজনও সহজে খাবার উপভোগ করতে পারছেন। যে কারণে শহরের রাতজাগা মানুষের জন্য এই খাবারের দোকানগুলো যেন রাতের স্বস্তির একটি ভরসা হয়ে উঠেছে। শুধুমাত্র রাতের শ্রমজীবী মানুষই নয়, মধ্যরাত পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুরু করে পাশের জেলা থেকেও ভোজন রসিরকার এখানে ভিড় করছেন।
খাদ্যপ্রেমীরা জানান, রাতের বেলায় খাবারের দোকানগুলোতে ভিন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়, যা তাদের জন্য আকর্ষণীয়। এছাড়া খাবারের মান ও স্বাদ নিয়ে সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে তারা বলেন, অনেক সময় পরিচিত খাবারগুলো নতুন স্বাদে উপস্থাপন করা হচ্ছে এখানের বিভিন্ন দোকানগুলোতে। যা তাদেরকে এখানে বারবার আসতে বাধ্য করছে।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম বলেন, সরকারি কলেজে লেখাপড়া করলেও এখন তিনি খুলনাতে থাকেন। পরীক্ষার জন্য চুয়াডাঙ্গায় এসেছেন। ছোট শহর হওয়ায় রাতের বেলা বড় বাজারের বেশিরভাগ দোকান বন্ধ হয়ে যায়। তিনি বলেন, এবার এসে দেখি মাধাভাঙ্গা নতুন ব্রিজের ওপর বিসমিল্লাহ খিচুড়ি হোটেলসহ চৌরাস্তার মোড়ে বেশ কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান বসেছে। যা সন্ধ্যার পর থেকে ভোর পর্যন্ত খোলা রাখা হচ্ছে। এটি খুবই ভালো উদ্যোগ।

``


রিকশাচালক সালাম হোসেন বলেন, ‘রাতের কাজের ফাঁকে এখানে এসে কিছু খেয়ে নিই, এতে সারারাত কাজ করতে সুবিধা হয়। তাছাড়া এখানে চোখের সামনেই লুচি থেকে শুরু করে রুটি ও পরোটাও রান্না হচ্ছে। খাবারের মান ভালো আবার দামও কম।’ অপর এক শিক্ষার্থী সোহান উদ্দীন বলেন, রাত জেগে পড়ালেখার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করেন তিনি। তাই রাতে বাইরে বের হওয়ার অভ্যাস থাকায় এখন প্রতিদিনই রাতে হালকা গরম খাবার খেতে বড় বাজারে আসেন তিনি। বড় বাজারের চালের আটার রুটি ও হাঁসের মাংস তার খুব পছন্দের। তিনি বলেন, মাত্র ৬৫ টাকা হলেই তিনি হাঁসের মাংসের সঙ্গে গরম রুটি পেয়ে যাচ্ছেন।
বড় বাজারে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের একজন মুহিত হাসান। তিনি চুয়াডাঙ্গা আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম বর্ষের ছাত্র। লেখাপড়ার পাশাপাশি আয়ের উৎস হিসেবে ১০ দিন আগে তিনি ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান বসিয়েছেন। তিনি জানান, রাতজাগা মানুষের কথা বিবেচনা করেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করেছি খাবারের মান ভালো রেখে যতটা সম্ভব দাম কম রাখা। ১৫ টাকায় আমি বাড়ির তৈরি রুটির ন্যায় দুটি রুটি বিক্রি করছি। সঙ্গে আলু, বেগুন, ঝাল ভর্তাও রেখেছি। প্রতিটি ভর্তার দাম মাত্র ৫ টাকা। প্রথমবার রুটির সঙ্গে ফ্রি। কেউ চাইলে মাত্র ১৫ টাকায় আমার দোকান থেকে দুটি রুটি খেতে পারবেন। এছাড়াও হাঁসের মাংসও আছে, যা বাসায় আমার আম্মা রান্না করে দেন। যার দাম রেখেছি ৫০ টাকা।’
অপর ব্যবসায়ী মো. হাবীব বলেন, ‘আমার দোকানে লুচির চাহিদা সব থেকে বেশি। মাত্র ৫ টাকা প্রতিটির দাম হওয়ায় খুব কম খরচেই ক্ষুধার্তরা তাদের ক্ষুধা নিবারণ করতে পারছেন। ব্যবসায় উপার্জনের পাশাপাশি মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, যা আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।’ রাতে যানজট না থাকায় রাতের সময়কেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য বেছে নিয়েছেন তিনি।
এদিকে, চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকানগুলোর এই জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এবং রাতজাগা মানুষের রাতের শহরে এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা উপভোগের সুযোগ করে দিচ্ছে।



কমেন্ট বক্স
notebook

তরুণ প্রজন্মকে ডিজিটাল সাক্ষরতার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী